আজকের পত্রিকাআপনি দেখছেন ৫-০৯-২০১৮ তারিখে পত্রিকা

জয়ে শুরু পাকিস্তানের

স্পোর্টস রিপোর্টার
| খেলা

শেষ বাঁশির অপেক্ষায় ছিল নেপাল-পাকিন্তান, খেলার ফল তখন ১-১। তখনই নাটকীয়তা, মোহাম্মদ আদিলের ক্রস সাদউল্লাহর মাথা হয়ে আসা বল মোহাম্মদ আলী নিখুঁত সংযোগে করেন জয়সূচক গোল ২-১। তাতে জয় নিয়ে দ্বাদশ সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ শুরু করল তিন বছর পর আন্তর্জাতিক ফুটবলে ফেরা পাকিস্তান। মাত্র ক’দিন আগে জাকার্তা এশিয়ান গেমসেও একই ব্যবধানে নেপালকে হারিয়েছিল তারা।

ঢাকায় তৃতীয় সাফ, তিনবারই উদ্বোধনী ম্যাচ খেলেছে পাকিস্তান। দর্শকরাও তাদের উৎসাহ দিয়েছে। ২০০৩ সালে তো চমক দিয়ে ভারতকে ১-০ গোলে হারিয়েছিল। তবে ২০০৯ সালের আসরে তারা ১-০ গোলে হেরেছিল শ্রীলঙ্কার কাছে। এবার নেপালকে হারিয়ে দারুণভাবে দক্ষিণ এশিয়ার টুর্নামেন্ট শুরু করল ব্রাজিলিয়ান কোচের অধীনে নতুন করে শুরু করা দেশটি। মাত্র ১৬ দিনের ব্যবধানে তারা নেপালকে দুইবার হারাল, একই ব্যবধানে। দুর্দান্ত জয়ে পাকিস্তান শুরুতেই ভালো একটা অবস্থান করে নিল গ্রুপে।
ফল যাই হোক, দর্শক বেশ উপভোগ করেছে। প্রথমার্ধে পাকিস্তান ১-০ গোলে এগিয়ে ছিল। আক্রমণ-পাল্টা আক্রমণে খেলা শুরু হলেও ম্যাচের ৩৫ মিনিটে পেনাল্টি গোলে এগিয়ে যায় পাকিস্তান। ডান দিক থেকে ভেসে আসা ক্রসে বক্সে হেড নেওয়ার চেষ্টা করেন পাকিস্তানের মুহাম্মদ রিয়াজ। এ সময়ে তাকে ফেলে দেন নেপালের অধিনায়ক বিরাজ মাহারজন। জর্ডানের রেফারি মোহাম্মদ হাসান পেনাল্টির বাঁশি বাজালে গোল করেন হাসান নাভীদ বশির ১-০।
দ্বিতীয়ার্ধের শুরু থেকেই লড়াইয়ের ঝাঁজ তৈরি হয়েছিল। বিশেষ করে নেপাল ম্যাচটি ধরে প্রাধান্য নিয়েই পাকিস্তানের সীমানায় ঢোকার চেষ্টা করে। বল পজিশনে তারা এগিয়ে থাকলেও পাকিস্তানিদের কাছে ফিজিক্যালি পিছিয়ে থাকে। বিশেষ করে দুই দিক থেকে নেপালিদের নেওয়া ক্রসগুলো অনায়াসে ঠেকিয়ে দেন পাকিস্তানের ফুটবলাররা। ধারার বিপরীতেই পাকিস্তান ব্যবধান দ্বিগুণ করার সুযোগ পেয়েছিল ৭৫ মিনিটে। পাল্টা আক্রমণ থেকে বদলি খেলোয়াড় সাদউল্লাহ বল পেয়ে যান মাঝবৃত্তে নিজেদের অর্ধে। একজনকে কাটিয়ে তিনি দ্রুত গতিতে কয়েক গজ সামনে গিয়ে প্রায় ৩৫ গজ দূর থেকে পোস্টে শট নেন গোলরকক্ষক একটু এগিয়ে আসায়। দুর্ভাগ্য তার বল গোলরক্ষকের মাথার ওপর দিয়ে ক্রসবারে লেগে ফিরে আসে। ৮২ মিনিটে নেপাল বিমল ঘারতি মাগারের দর্শনীয় গোলে সমতায় আসে। ডানপ্রান্ত থেকে নেওয়া কর্নার সতীর্থ খেলোয়াড়ের মাথা হয়ে বিমলের সামনে আসতেই বাঁ পায়ের প্লেসিংয়ে কাঁপিয়ে দেন পাকিস্তানের জাল ১-১। ৮৮ মিনিটে মোহাম্মদ আলীর শট ধরেন নেপালের গোলরক্ষক। পরের মিনিটে পরপর দুটি সুযোগ আসে নেপালের সামনে। কিন্তু সুনিল বল আর সুজাল শেরেস্তার পরপর দুটি শট দুর্দান্তভাবে রুখ দেন পাকিস্তানের গোলরক্ষক ইজাজ বাট।

বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামে দর্শক 
বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামে সেই ২০১৬ সালে ভুটানের বিপক্ষে আন্তর্জাতিক ম্যাচ দেখেছিলেন দর্শক। আবার অনেক দিন পর খেলা মাঠে গড়াল। নারী-পুরুষ দর্শক আগ্রহ উপচে পড়ল। জার্মানি থেকেও দুই দর্শক এসেছেন। কথা বলতে গেলে এড়িয়ে যান তারা। শুধু বললেনÑ আমরা ইন্টারনেটে জেনেছি দুই বছর পরপর সাফ খেলাটা হয়। আমাদের সাংবাদিক কার্ড আছে। বিদেশি সমর্থকরাও ছুটলেন বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামে। নেপাল, মালদ্বীপ, পাকিস্তানি সমর্থকরা ভিড় করলেন। বাংলাদেশে অবস্থানকারী নেপাল, মালদ্বীপের শিক্ষার্থীরা নিজ নিজ দেশের পতাকা নিয়ে ভিড় করেছেন।
দর্শক কণ্ঠে ফুটবল নিয়ে আবার গুঞ্জন। আন্তর্জাতিক ফুটবল লড়াইয়ের কোথায় কোথায় বাংলাদেশ পিছিয়ে আছে। কেন উপরে উঠে আসতে পারছে না। কেন গেল তিন সাফে বাংলাদেশ গ্রুপ পর্ব হতে বিদায় নিল। সংগঠকদের দুর্বলতা। বাফুফের সফলতা-ব্যর্থতা সবই বিনা বাধায় উঠে আসে চায়ের টেবিলে ঝড় তোলার মতই। দেশি খেলোয়াড়দের সমালোচনাও করেছেন দর্শক। বর্তমান খেলোয়াড়দের মান নিয়ে প্রশ্ন তুললেন। যে পরিমাণ অর্থ পায়, সে অনুযায়ী খেলা দেখাতে পারে না দেশীরা। খেলার চেয়ে পারিশ্রমিকের প্রতি নজর বেশি। পুরান ঢাকার রফিকউদ্দিন। অনেক দিন ধরে দেশের ফুটবল দেখছেন। কিন্তু এমন মানহীন ফুটবলারদের খেলা দেখেননি। গালে আঙ্গুল ঘষতে ঘষতে বলছিলেন, ‘কি কমু। এহনকার পিলারগো মতো খেলা জীবনে দেহি নাই। আসলাম, কায়ছার হামিদগো খেলা অহনও মনে আছে। আর এহনকার পিলিয়ারগো নামও কইতে পারি না।’ বলতে বলতে শুরু হয়ে গেছে বাংলাদেশ ভুটানের খেলা। খেলোয়াড়দের সমালোচনা ভুলে গিয়ে সব দর্শক মাঠের ফুটবলারদের প্রেমে পড়ে গেলেন। সমর্থন দিতে লাগলেন গলা ফাটিয়ে। দর্শক প্রাণে ফুটল ফুটবলের স্পন্দন।