আজকের পত্রিকাআপনি দেখছেন ৫-০৯-২০১৮ তারিখে পত্রিকা

সহস্রাধিক মোটরসাইকেল নিয়ে হঠাৎ আলোচনা

ইসলামী আন্দোলনের শোডাউন বরিশালে

বরিশাল ব্যুরো
| নগর মহানগর

সদ্য সমাপ্ত বরিশাল সিটি করপোরেশন (বিসিসি) নির্বাচনে নজরকাড়া প্রচার-প্রচারণায় আলোচনায় ছিল চরমোনাই পীরের দল ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ। ৩০ জুলাই ভোট গ্রহণের দিন ক্ষমতাসীন দলের বিরুদ্ধে কেন্দ্র দখলের অভিযোগে বেলা ১১টায় ভোট বর্জন ও বিক্ষোভের পর ঘরোয়া কর্মসূচির মধ্যেই ছিল দলটির নেতাকর্মীরা। সোমবার বিকালে আকস্মিক এক শোডাউনে নগরীতে আবারও আলোচনায় এসেছে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ। নায়েবে আমির মুফতি সৈয়দ মো. ফয়জুল করীম হজ পালন শেষে বরিশালে ফিরলে তাকে সংবর্ধনার নামে শোডাউন করেছে দলটি। দুই সহস্রাধিক মোটরসাইকেল নিয়ে শোভাযাত্রা করা হয়। এর আগে আরও চারবার হজ পালন করলেও এবার জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে শোডাউনের মাধ্যমে ইসলামী আন্দোলন তাদের শক্তির জানান দিয়েছে  বলে দলটির বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মী স্বীকার করেছেন। 

নায়েবে আমির মুফতি সৈয়দ মো. ফয়জুল করীম বরিশাল সদর আসনে সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী। তিনি হজ পালন শেষে সোমবার দুপুরে ঢাকা শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছেন। দলের কেন্দ্রীয় নেতারা তাকে বিমানবন্দরে ফুলেল শুভেচ্ছা জানান। সেখান থেকেই আকাশপথে বিকাল সাড়ে ৪টায় বরিশাল বিমানবন্দরে পৌঁছেন মুফতি সৈয়দ ফয়জুল করীম। তার আগেই কয়েক হাজার নেতাকর্মী বিমানবন্দরে উপস্থিত হন। তারা সৈয়দ ফয়জুল করীমকে নিয়ে মোটরশোভাযাত্রা করে বরিশাল নগরীর সিঅ্যান্ডবি রোড, সাগরদি, রূপাতলী, কীর্তনখোলার শহীদ আবদুর রব সেতু হয়ে ভোলার সড়ক হয়ে সদর উপাজেলার চরমোনাই দরবার শরিফে পৌঁছেন। শোভাযাত্রায় উপস্থিত একাধিক নেতা বলেন, মুফতি সৈয়দ ফয়জুল করীম চরমোনাই পৌঁছে তার বক্তৃতায় আগামী সংসদ নির্বাচন লক্ষ রেখে দলীয় শক্তি বৃদ্ধিতে নেতাকর্মীদের প্রতি আহ্বান জানান।
ইসলামী ছাত্র আন্দোলনের মহানগর সভাপতি মো. শরিয়তউল্লাহ বলেন, শোভাযাত্রায় অংশ নিয়েছে ২ হাজার ১০০ মোটরসাইকেল ও সাতটি মাইক্রোবাস। দলীয় প্রতীক একাধিক হাতপাখা বহন করা হয়েছে। নায়েবে আমীরকে শুভেচ্ছা জানিয়ে বিভিন্ন স্লোগান দিয়েছেন নেতাকর্মীরা। 
দলের একাধিক নেতাকর্মী জানান, এর আগে সৌদি সরকারের আমন্ত্রণে দু’বার এবং ব্যক্তিগতভাবে দু’বার হজ করেছেন মুফতি সৈয়দ ফয়জুল করীম। অতীতে সংবর্ধিত না হলেও এবার শোডাউন করার কারণ জানতে চাইলে ইসলামী আন্দোলনের বরিশাল জেলা সাধারণ সম্পাদক মাওলানা সিরাজুল ইসলাম বলেন, নায়েবে আমির সদর আসন থেকে নির্বাচন করবেন। জয়-পরাজয় যাই হোক আমরা শক্ত প্রতি™^ন্দ্বিতায় থাকতে চাই। নামে সংবর্ধনা হলেও ভোটের প্রস্তুতিই আমাদের মূল উদ্দেশ্য। ইসলামী যুব আন্দোলনের সহসভাপতি মো. সানাউল্লাহ বলেন, শোডাউন করার মতো সুনির্দিষ্ট সাম্প্রতিক কোনো ইস্যু ছিল না।  যে কারণে তারা হজফেরত নেতাকে বরণ করেছেন।
প্রসঙ্গত, বরিশাল নগরীর পূর্ব প্রান্তে চরমোনাই দরবার শরীফ। মরহুম পীর সৈয়দ ফজলুল করীম প্রতিষ্ঠিত ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সূতিকাগার হিসেবে গণ্য করা হয় বরিশালকে। দলটি বরিশালে সাংগঠনিকভাবে যথেষ্ট মজবুত এবং রিজার্ভ ভোট ব্যাংক রয়েছে। নায়েবে আমীর সৈয়দ ফয়জুল করীম ২০০৮ সালের নির্বাচনে বরিশাল সদর আসনে প্রতি™^ন্দ্বিতা করে ২৭ সহস্রাধিক ভোট পেয়েছিলেন। দলের একাধিক দায়িত্বশীল নেতার দাবি, বিগত স্থানীয় সরকার পরিষদ নির্বাচনের ফলের হিসাব-নিকাশে সারা দেশে ইসলামী আন্দোলনের ভোট ৬ গুণ বেড়েছে। গেল এক বছরে বরিশাল সদর সংসদীয় আসনে ইসলামী আন্দোলনে যোগদান করেছেন দুই সিটি কাউন্সিলর ২৭ নম্বর ওয়ার্ডের নুরুল ইসলাম ও ২৮ নম্বর ওয়ার্ডের হুমায়ন কবীর, ৩০ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর নিয়াজ মাহমুদ বেগ এবং জামায়াতের সাবেক রুকন ও চাঁদপুরা ইউপি চেয়ারম্যান আমানউল্লাহ আমান।