আজকের পত্রিকাআপনি দেখছেন ৫-০৯-২০১৮ তারিখে পত্রিকা

মাদক নিয়ন্ত্রণে প্রাণহানি হলেও কিছু করার নেই

| প্রথম পাতা

চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) কমিশনার মো. মাহবুবর রহমান বলেছেন, উপদেশ দিয়ে নয়, কঠোর হাতেই মাদক ব্যবসায়ীদের নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। এতে প্রাণহানি হলেও কিছু করার নেই। মঙ্গলবার চট্টগ্রামের মুসলিম ইনস্টিটিউট হলে কোতোয়ালি থানা কমিউনিটি পুলিশিং আয়োজিত সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

সিএমপি কমিশনার বলেন, বাংলাদেশকে ইয়াবার মাধ্যমে ধ্বংসের ষড়যন্ত্র হচ্ছে। এ ষড়যন্ত্র রুখতে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে মাদকবিরোধী সংগ্রাম চলছে। মূল বিষয় হচ্ছে, মাদক ব্যবসায়ীদের কোনো ধর্মীয় উপদেশ দিয়ে কাজ হবে না। কারণ ৫০ টাকার ইয়াবা এনে কেউ যদি ৫০০ টাকায় বিক্রি করে, তার যদি ৪৫০ টাকা লাভ হয়; তিনি এ ব্যবসা ছাড়বেন কেন? একমাত্র তিনি যদি মনে করেন এ ব্যবসা করলে তার জীবনহানির আশঙ্কা আছে, তার জীবন বিপন্ন হওয়ার আশঙ্কা আছে, তাহলেই তিনি এ ব্যবসা ছেড়ে দেবেন।

মাহবুবর রহমান বলেন, মাদক ব্যবসায়ীরা অস্ত্র হাতে নিয়ে আমাদের মোকাবিলা করতে চায়, আমাদের হাতেও অস্ত্রও আছে। সেই অস্ত্র ব্যবহারের অধিকার আমাদেরও আছে। সুতরাং মাদক নিয়ন্ত্রণে  

জীবনহানি হতে পারে। মিয়ানমার থেকে ইয়াবার প্রবেশ ঠেকাতে সীমান্তরক্ষী বাহিনীর ব্যর্থতার কথা তুলে ধরে সিএমপি কমিশনার বলেন, ১২০ কিলোমিটার সীমান্ত যদি আমরা রক্ষা করতে পারতাম তাহলে ইয়াবা দেশে ছড়িয়ে পড়ত না। সীমান্তের একটি পয়েন্টে যদি ১০ লাখ ইয়াবা ঠেকানো যেত, তাহলে সেগুলো ১০০ জায়গায় ছড়িয়ে পড়ত না। এক পয়েন্টে ইয়াবা নিয়ন্ত্রণ সহজ নাকি ১০০ পয়েন্টে? তিনি আরও বলেন, সব দোষ যেন পুলিশের। অথচ যাদের ব্যর্থতার কারণে ইয়াবা বাংলাদেশে প্রবেশ করছে তাদের নাম কেউ মুখে আনে না। দুঃখের বিষয়, তাদের কথা মিডিয়ায়ও আসে না। বিজিবি ও কোস্টগার্ডকেও ব্যর্থতার দায় নিতে হবেÑ এ মত দিয়ে তিনি বলেন, তারা কঠোর হলে ইয়াবা নিয়ন্ত্রণ অনেক সহজ হতো। আমি আশা করব, বিজিবি ও কোস্টগার্ড শক্তিশালী হবে এবং সঠিকভাবে দায়িত্ব পালন করবে। ইয়াবা ব্যবসায় পুলিশের জড়িয়ে পড়া কোনোভাবেই সহ্য করা হবে না মন্তব্য করে তিনি বলেন, আমি দায়িত্ব নেওয়ার পর তিন এসআইকে হাতকড়া পরিয়ে জেলে পাঠিয়েছি। আমার অবস্থান স্পষ্ট, যে বা যারা ইয়াবার সঙ্গে যুক্ত তারা পুলিশের কেউ নন। রাজনৈতিক ও ছাত্র সংগঠনগুলোকে তাদের ওয়ার্ড-থানা থেকে শুরু করে কোনো কমিটিতে মাদকের সঙ্গে যুক্তদের না রাখার অনুরোধ করেছেন সিএমপি কমিশনার। নির্বাচন সামনে রেখে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ওপর হামলাসহ দেশে অরাজক পরিস্থিতি তৈরির চেষ্টা হতে পারে বলে আশঙ্কা করে তিনি কমিউনিটি পুলিশিংয়ের সদস্যদের সহযোগিতা চেয়ে বলেন, আগুন সন্ত্রাস, অরাজকতা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ওপর আক্রমণ নিয়ে সতর্ক থাকবেন। সব ধরনের সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে আমাদের অভিযান অব্যাহত রাখব। সে অভিযানে আপনাদের সহযোগিতা চাই।
কোতোয়ালি থানা কমিউনিটি পুলিশিংয়ের আহ্বায়ক এএসএম সাহাবুদ্দিনের সভাপতিত্বে এতে আরও বক্তব্য রাখেন দৈনিক আজাদী সম্পাদক এমএ মালেক, সিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার আমেনা বেগম, উপকমিশনার এসএম মোস্তাইন হোসেন, কোতোয়ালি থানার ওসি মোহাম্মদ মহসীন, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের প্যানেল মেয়র চৌধুরী হাসান মাহমুদ হাসনী, চট্টগ্রাম মহানগর কমিউনিটি পুলিশিংয়ের সদস্য সচিব অহিদ সিরাজ স্বপন এবং বিভিন্ন ওয়ার্ড কাউন্সিলর।