আজকের পত্রিকাআপনি দেখছেন ৫-০৯-২০১৮ তারিখে পত্রিকা

তারুণ্যের ডানায় ভর করে জয়

শফিক কলিম
| প্রথম পাতা

সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে মঙ্গলবার ভুটানের বিপক্ষে বাংলাদেশের প্রথম গোলের পর গোলদাতা তপু বর্মণকে ঘিরে সতীর্থদের উল্লাস ষ আলোকিত বাংলাদেশ

নতুন শুরু চেয়েছিলেন লাল-সবুজ ফুটবলাররা, করেছেনও। প্রত্যাশা মতো ভুটানকে ২-০ গোলে হারিয়ে দ্বাদশ সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ শুরু হয়েছে বাংলাদেশের। তারুণ্যের ডানায় ভর করে দারুণ এক জয়, যে জয় বাড়িয়ে দিল দেড় দশক পর দক্ষিণ এশিয়ার ফুটবল সাম্রাজ্য পুনরুদ্ধারের ক্ষুধা।

শুরুটা হয়েছিল গেল বছর ভুটানে অনূর্ধ্ব-১৮ সাফে, ০-৩ গোলে পিছিয়ে পড়েও ভারতকে ৪-৩ ব্যবধানে হারিয়ে। জাকার্তা এশিয়ান গেমসের আগে দক্ষিণ কোরিয়ায় প্রীতি ম্যাচে তাতিয়ে নেওয়া; এশিয়াডে তারুণ্যের আগুনে ১-০ গোলে কাতারকে পুড়িয়ে দেশের ফুটবলে নতুন আলো, থাইল্যান্ডের বিপক্ষে এগিয়ে থেকে ১-১ গোলে ড্র করলেও ইতিহাসে প্রথমবার দ্বিতীয় পর্বে ওঠে।
তাতেই যেন ঘরের মাঠে সাফে ভালো খেলার প্রেরণা পেয়ে যায় সুফিল-বিপলু-সাদ-জামাল-জনিরা; নীলফামারীতে শ্রীলঙ্কার কাছে প্রীতি ম্যাচে হারলেও কাল বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামে ভুটানকে হারিয়ে গ্রুপ সেরা হওয়ার কক্ষপথে থাকলেন স্বাগতিকরা। ভুটানকে হারিয়ে পাওয়া জয়ে আত্মবিশ্বাস আরও বাড়িয়ে নিলেন লাল-সবুজ ছেলেরা।
২৩ মাস আগে থিম্পুতে ভুটান বিপর্যয়ে হতাশায় ডুবেছিল দেশের ফুটবল, প্রতিশোধের নেশা তাড়িয়ে বেড়াচ্ছিল ফুটবলারদের। সুযোগ পেয়ে নষ্ট করেনি ব্রিটিশ কোচ জেমি ডে শিষ্যরা; প্রথম দেখাতেই প্রতিশাধ নিয়ে নিলেন। এশিয়াডে খেলা তরুণ দলটাকে যে তার মনে ধরেছে, দেখালেন সাফের প্রথম ম্যাচেই। তবে আট তরুণের সঙ্গে একাদশে খেলালেন কিনা, ২০১১ সালে দিল্লি সাফে নেপাল ও নীলফামারীতে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে বাজে দুটি গোল হজম করা গোলরক্ষক শহীদুল আলম সোহেলকে! তবে কাল ভুটানের বিপক্ষে বেশ কয়েকবার বলের ফ্লাইট মিস করলেও তিনবার ভালো বিপদ থেকে রক্ষা করেছেন দলকে। একবার বিশ্বনাথ-বাদশার ভুল বোঝাবুঝিতে চেনচো বল নিয়ে বেড়িয়ে গেলেও লক্ষ্যভ্রষ্ট নেন, প্রথমার্ধে চেনচোর আরেকটি শট লুফে নেন সোহেল। ভুটানের আক্রমণ গড়ে উঠেছিল চেনচো কেন্দ্রিক, কিন্তু চেনচোকে ব্লক করতেই সব শেষ!
জয়কে প্রতিশোধ দেখছেন না কোচ জেমি, ম্যাচ শেষে বলেন, ‘এটা আট-দশটা ম্যাচের মতোই; আমাদের লক্ষ্য ছিল পূর্ণ পয়েন্ট। পেরেছি, তাতেই আমি খুশি।’ জিতলে প্রতিশোধ হয়ে যায় এটা স্বাভাবিকÑ বলেন তিনি। যোগ করেন, ‘প্রথম পরিকল্পনা সফল, এখন আমার ভাবনা পরের ম্যাচ। পাকিস্তান ভালো দল, ওরা শারীরিক সক্ষমতায় এগিয়ে। ওদের বিপক্ষে কৌশলী হতে হবে।’ সার্বিক বিশ্লেষণে প্রথম ম্যাচে ছেলেদের খেলায় সন্তুষ্ট কোচ, ধীরে ধীরে আরও উন্নতি হবে বিশ্বাস তার।
অখুশি ভুটানের ব্রিটিশ কোচ ট্রেভর মরগ্যান, ‘না, যেভাবে চেয়েছিলাম হলো না। নিজেদের কিছু ভুল ছিল, কিছু সুযোগ পেয়েছিলাম, কাজে লাগাতে পারিনি। ফলে পরিকল্পনা সফল হয়নি। বাংলাদেশ দুই অর্ধের শুরুতে গোল পাওয়ায় আমরা চাপে পড়েছি। স্বাগতিকরা এমনিতে কিছুটা বাড়তি সুযোগ পাবেন।’ তার চোখে টার্নিং পয়েন্ট পেনাল্টি, ওটা নাকি না হলে খেলায় থাকত তার দল।
৪২ সেকেন্ডে প্রথম কর্নার, ওয়ালী ফয়সালের ভাসানো বল হেড করার আগে ফাহাদকে ধাক্কা দেন শেরিং দর্জি, থাইল্যান্ডের রেফারি শিবাকম পু-উদমের বাঁশি। স্বাগতিক শিবিরে উৎসবের রং ছিটান তপু বর্মন (১-০)। ব্যবধান দ্বিগুণ করার সুযোগ ১ মিনিট পরই পেয়েছিল বিপলু আহমেদ, গোলরক্ষক শেরিং দেনদাপকে একা পেয়েও গায়ে মারেন বল। তরুণ ফরোয়ার্ড সুফিল-বিপলুর রসায়নটা হয়েছিল দারুণ। দুই প্রান্ত দিয়ে বারবার আক্রমণে উঠেছেন তারা, যদিও এক পর্যায়ে ফলস নাইন পজিশনে খেলা সাদউদ্দিনকে তুলে কোচ সেখানে টেনে আনেন সুফিলকে। এ অর্ধে আরও তিনবার ভালো সুযোগ তৈরি করেছিলেন তারা। সুফিলের জোগান দেওয়া বলে বিপলু একবার পা ছোঁয়াতে পারেননি, আরেকবার তার ফ্লিকের বল গোলে ঢোকার আগ মুহূর্তে পাঞ্চ করেন গোলরক্ষক। প্রতীক্ষার প্রহর গোনা শেষ হয় বিরতি থেকে ফেরার কিছু পরই। জেমি শিষ্যরা ২-০ করেন দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে। জনির তুলে দেয়া বল অফসাইড ফাঁদ ভেঙে সুফিল বক্সে ঢুকেই জোরাল ভলিশটে দ্বিতীয় পোস্ট দিয়ে জালে।
প্রথম ম্যাচে পূর্ণ ৩ পয়েন্ট পেলেও গোলগড়ে স্বাগতিকরা শীর্ষে, নেপালকে ২-১ গোলে হারানো পাকিস্তান দুইয়ে। আগামীকাল এ দুই দলের ম্যাচেই স্পষ্ট হবে গ্রুপের চিত্র। সেদিনও কালকের মতো দর্শক সমর্থন চেয়েছেন কোচ।