আজকের পত্রিকাআপনি দেখছেন ৫-০৯-২০১৮ তারিখে পত্রিকা

নারায়ণগঞ্জে সিয়াম হত্যায় ৩ জনের যাবজ্জীবন

নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি
| শেষ পাতা

নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লার মাসদাইরের স্কুলছাত্র আরাফাত রহমান সিয়াম আহমেদ (১০) হত্যার চাঞ্চল্যকর 

মামলার রায়ে ৬ আসামির মধ্যে তিনজনের যাবজ্জীবন ও অপর তিনজনকে খালাস প্রদান 
করেছে 
আদালত। মঙ্গলবার বিকালে নারায়ণগঞ্জ জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক আনিছুর রহমান এ মামলার রায় ঘোষণা করেন। 
যাবজ্জীবন দ-প্রাপ্তরা হলো মাসদাইর এলাকার ফারুক ম-লের ছেলে  মেহেদী ম-ল, আবদুল মতিনের ছেলে ভ্যানচালক আসলাম ও শ্রমিক হালিম। খালাসপ্রাপ্তরা হলো মাসদাইর এলাকার ফারুক ম-ল, স্ত্রী মেরিনা ম-ল ও বিপ্লব। রায় ঘোষণার সময় আসলাম ছাড়া বাকি সবাই আদালতে উপস্থিত ছিলেন।
নারায়ণগঞ্জ আদালতের পিপি ওয়াজেদ আলী খোকন জানান, ২৯ জন সাক্ষীর মধ্যে ২২ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ শেষে আদালত এ রায় ঘোষণা করেছেন। 
আদালতের এ রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন নিহত সিয়ামের বাবা মোস্তফা মাতবর। তিনি গণমাধ্যমকে বলেন, ‘কয়েকদিন ধরেই প্রধান আসামি ফারুক ম-ল এলাকায় বলে আসছে যে ১ কোটি টাকায় সে সব কিনে ফেলছে। আমি রায়ে সন্তুষ্ট না। উচ্চ আদালতে আপিল করব। এভাবে আমার ছেলেকে মারল অথচ তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হলো না।’ 
কবুতর কেনার টাকা না দেওয়ায় ২০১৩ সালের ২২ নভেম্বর মাসদাইরে আদর্শ স্কুলের চতুর্থ শ্রেণির ছাত্র আরাফাত হোসেন সিয়ামকে ডেকে নিয়ে হত্যা করে মেহেদী ম-ল। হত্যাকা-ের পর লাশ গুমে সহযোগিতা করে ঘাতক মেহেদী ম-লের বাবা ফারুক ম-ল ও তার মা মেরিনা ম-ল। এরপর ২৩ নভেম্বর সিয়ামের বস্তাবন্দি লাশ মুন্সীগঞ্জের শান্তিনগর এলাকা থেকে উদ্ধার করা হয়। ওই হত্যা মামলার আসামিরা হলেন মাসদাইর পাকাপুল এলাকার মেহেদী ম-ল, তার বাবা ফারুক ম-ল, মা মেরিনা ম-ল, ভ্যানচালক আসলাম, শ্রমিক হালিম ও বিপ্লব। ২০১৫ সালের ২৪ মার্চ তদন্তকারী কর্মকর্তা ছয়জনকে অভিযুক্ত করে আদালতে চার্জশিট দাখিল করা হয়। 
তদন্ত কর্মকর্তা অভিযোগপত্রে উল্লেখ করেছিলেন, ঘটনার দিন অর্থাৎ ২০১৩ সালের ২২ নভেম্বর সিয়ামকে নিজ বাড়িতে ডেকে নেওয়ার পরে মেহেদী তার হাতে থাকা ধারালো চাকু দিয়ে সিয়ামের বুকে আঘাত করলে সিয়াম চিৎকার করার চেষ্টা করলে মেহেদীর মা মেরিনা ম-ল সিয়ামের মুখ এক হাতে চাপা দিয়ে অপর হাতে তার স্বামী ফারুক ম-লকে ফোন করে ঘটনাটি জানায়। তখন ফারুক ম-ল মাসদাইর কবরস্থান সংলগ্ন দক্ষিণ পাশের ক্লাবে আড্ডা দিচ্ছিল। স্ত্রী মেরিনা ম-লের ফোন পেয়েই ফারুক ম-ল তৎক্ষণাৎ বাড়িতে ফিরলে তার সামনেই আবার সিয়ামের বুকে চাকু দিয়ে আঘাত করে মেহেদী। তখন ফারুক ও মেরিনা ম-ল মেহেদীকে বাধা না দিয়ে এবং ছুরিকাহত সিয়ামকে হাসপাতালে না নিয়ে ফারুক সিয়ামের মৃত্যু নিশ্চিত করার লক্ষ্যে গলা চেপে ধরে এবং তার পরিহিত লুঙ্গি দ্বারা সিয়ামের ক্ষতস্থানে চেপে ধরে রক্ত থামানোর চেষ্টা করে। এক পর্যায়ে সিয়াম মৃত্যুবরণ করে। পরে মেরিনার পরামর্শে মেহেদীর বাবা ফারুকের লুঙ্গি দিয়ে পেঁচিয়ে আমের ঝুঁড়িতে বস্তাবন্দি করে লাশ আসলামের ভ্যানগাড়িতে করে মুন্সীগঞ্জের মোক্তারপুরের শান্তিনগর এলাকায় নিয়ে ফেলে দেওয়া হয়। মেহেদী ম-লের পরিকল্পনায় এ কিলিং মিশনে থাকা হালিম, বিপ্লব ও আসলামকে ভাড়া করা হয় ১২ হাজার টাকায়। পরে গ্রেপ্তারকৃত ভ্যানচালক আসলাম আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে হত্যাকা- ও লাশ গুমের বর্ণনা দেন। এরপর গ্রেপ্তারকৃত মেহেদী ম-লও আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়।