আজকের পত্রিকাআপনি দেখছেন ৫-০৯-২০১৮ তারিখে পত্রিকা

শসায় লাখপতি

মোহাম্মদ আমিনুল হক, নান্দাইল
| সুসংবাদ প্রতিদিন

শসা চাষে ভাগ্য খোলার পথ খুঁজে পেয়েছেন ময়মনসিংহের নান্দাইল উপজেলার চার শতাধিক কৃষক। অনেকেই বনে গেছেন লাখপতি। একের সাফল্যে অন্যরা উৎসাহিত হচ্ছেন। অল্প খরচে লাভ বেশি হওয়ায় এ উপজেলায় শসা চাষি ও চাষের পরিমাণ দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। চলতি মৌসুমে উপজেলায় প্রায় ২৫০ হেক্টর জমিতে শসা চাষ করা হয়েছে।

উপজেলার বীর বেতাগৈর, চর বেতাগৈর, আচারগাঁও, মোয়াজ্জেমপুর ও গাংগাইল ইউনিয়নের কৃষক শসা চাষ করে কৃষি অর্থনীতিতে বিপ্লব ঘটিয়েছেন। বালুচরে শসার নান্দনিক শোভায় মুগ্ধ শুধু কৃষকই নন, এলাকাবাসীও। এমনকি এ দৃশ্য দেখে থমকে দাঁড়াচ্ছেন পথিকও। এসব ইউনিয়নে এখন সবুজের সমারোহ। উপজেলার বীর বেতাগৈর ইউনিয়নের বীর কামটখালী, লোহিতপুর, লক্ষ্মীপুর, শ্রীপুর; চর বেতাগৈর ইউনিয়নের চর শ্রীরামপুর, মাইজপাড়া, চর লক্ষ্মীদিয়া, চর ভেলামারী, চর কোমরভাঙ্গা, চরকামটখালী; মোয়াজ্জেমপুর ইউনিয়নের কাদিরপুর, কালিয়াপাড়া, বাহাদুরপুর; আচারগাঁও ইউনিয়নের গইছ খালী, সুতারাটিয়া ও গাংগাইল ইউনিয়নের শাইলধরা গ্রামে ব্যাপকভাবে শসা চাষ হয়েছে। গুণগত মান ভালো হওয়ায় তাদের উৎপাদিত শসা এলাকার চাহিদা মিটিয়ে প্রতিদিন রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় যাচ্ছে। এলাকার কৃষি শ্রমিকরাও এখন জমি বর্গা নিয়ে শসা আবাদ করে বেশ লাভবান হচ্ছেন। কৃষকের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, লাল তীর, সিনজেন্টা, ইসপাহানি-২ এবং স্থানীয় উন্নত জাতের শসা বীজ বপন করা হয়েছে। বীজ বপন করার ৪৫ দিন পর শসা তোলা শুরু করেন কৃষক। 

সরেজমিন দেখা যায়, প্রতিটি এলাকায় কৃষক-কৃষাণি শসা নিয়ে উৎসবে মেতেছেন। বীর কামট খালী গ্রামের কৃষক দুলাল মিয়া ৬০ শতাংশ জমিতে শসা চাষ করেছেন। এতে তার খরচ হয়েছে প্রায় ২৫ হাজার টাকা। তিনি এখন পর্যন্ত ৫০ হাজার টাকার শসা বিক্রি করেছেন। আরও অন্তত ৩০ হাজার টাকার শসা বিক্রি করতে পারবেন বলে তিনি আশা করছেন। একই

গ্রামের মিলন মিয়ার ৫০ শতাংশ জমিতে শসা চাষ করতে খরচ হয়েছে প্রায় ২০ হাজার টাকা। তিনি জানান, প্রতি মণ শসা ১ হাজার ৫০০ টাকায় তিনি বিক্রি করছেন। এ পর্যন্ত তিনি ৪৫ হাজার টাকার শসা বিক্রি করেছেন। তার আশা, তিনি আরও প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার টাকার শসা বিক্রি করতে পারবেন। এছাড়াও লোহিতপুর গ্রামের ফাইজউদ্দিন ১৩০ শতাংশ, হুমায়ূন ১৫০ শতাংশ, লক্ষ্মীপুর গ্রামের জালাল ৬০ শতাংশ, আবুল মুনসুর ৯০ শতাংশ, ওয়াহিদুজ্জামান ৩০ শতাংশ, বীর কামটখালী গ্রামের মঞ্জু ৩০ শতাংশ, মজিবুর রহমান ৫০ শতাংশ, শাবুল ৫০ শতাংশ, চর শ্রীরামপুর গ্রামের হুমায়ূন ৩২ শতাংশ, হামিদ ৭০ শতাংশ, ফারুক ৩০ শতাংশ, সালাম ৭০ শতাংশ, মুরতজ আলী ৫০ শতাংশ, কাদিরপুর গ্রামের সাহেদ আলী ৩০ শতাংশ, নরুল ইসলাম ৪০ শতাংশ, গইছ খালী গ্রামের জিল্লুর রহমান ৫০ শতাংশ, সুতারাটিয়া গ্রামের আলী নেওয়াজ ৫০ শতাংশ জমিতে শসা চাষ করেছেন। শসার দাম বেশি পেয়ে কৃষক মহাখুশি।

নান্দাইল উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. নাসির উদ্দিন বলেন, নান্দাইলে এ বছর শসার বাম্পার ফলন হয়েছে। তাই কৃষক ভীষণ খুশি। কৃষি অফিস শসা চাষে কৃষককে সব সময়ই সহযোগিতা ও পরামর্শ প্রদান করে থাকে।