আজকের পত্রিকাআপনি দেখছেন ৬-০৯-২০১৮ তারিখে পত্রিকা

আলোক দূষণের ভয়াবহতাও কম নয়

| চিঠিপত্র

সব দূষণ যখন আমাদের কাছে ভয়ের কারণ, তখন আলোক দূষণ নিয়ে কয়জন ভাবছে? শহরের আকাশে এখন অনেক সময়ই তারকারাজিকে অদৃশ্যমান মনে হয়। আসলেই কি অদৃশ্য আকাশের সব তারা? তা নয়; বরং শহরের প্রচুর আলো আমাদের দৃষ্টিকে ক্ষীণ করে ফেলছে প্রতিনিয়ত। প্রচুর পরিমাণ অতি উজ্জ্বল আলোর ব্যবহার শহরে জীবন থেকে রাতকে প্রায় বিদূরিত করেই ফেলছে। ঘুটঘুটে অন্ধকার রাতেও এখন জানালার পাশে আলোর অবস্থান থাকে। চোখ বন্ধ করেও যেন অন্ধকারের দেখা পাওয়া যায় না। 

সারাদিন তীব্র রিফ্লেকটিভ বস্তুর সংস্পর্শে থেকে চোখ ক্লান্ত হয়। মোবাইল ফোন ও কম্পিউটারের প্রচুর আলো, উজ্জ্বল বাতির ব্যবহার, রিফ্লেকটিভ বিভিন্ন উপাদানের কারণে দিনের আলোকে অতি উজ্জ্বলভাবে দেখার কারণ এবং প্রচুর পরিমাণ লাইটের অপব্যবহারের কারণে আলোক দূষণ বেড়েই চলেছে। ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে চোখ, মস্তিষ্ক, মনস্তাত্ত্বিক মনোযোগিতা, ঘুম আর নিজেকে রিফ্রেশ করে তোলার মাধ্যম। সাধারণত বাহ্যিক আলোর ঊর্ধ্বমুখী ও পার্শ্বমুখী পরিচলনের মাধ্যমেই আলোর দূষণ ঘটে বায়ুম-লে যায় এবং আবার তা ফিরে আসে। বায়ুম-লের কণিকাগুলো আলোর বিচ্ছুরণকে ত্বরান্বিত করে আলোক দূষণকে তীব্র আকারে পরিণত করতে থাকে। এতে সহজেই ব্যাহত হচ্ছে ঘুম, অবসাদগ্রস্ততা বেড়ে যাচ্ছে, যৌন অক্ষমতা বাড়ছে, বাড়ছে উচ্চরক্তচাপ। আলোক দূষণের সঙ্গে বাড়ছে চোখের কার্যক্ষমতা হারানোর ধরন। 
আলোক দূষণের সঙ্গে আরেকটি দূষণ জড়িত আর তাহলো তাপীয় দূষণ। যখন আলো বাড়ছে তখন তাপও বাড়ছে। তাপ বাড়ছে মানেই তা প্রভাব ফেলছে গ্রিনহাউজ গ্যাসীয় বিক্রিয়ায়! 
আমরা অসতর্কভাবে মোবাইল ফোনে পুরোমাত্রার আলো দিয়ে তারপর চোখের সামনে ধরে রাখছি আর তাতে মোবাইল গরম হয়ে উঠছে। তাপ ও আলোর এ সম্পর্কের কারণে যখনই পৃথিবী বেশি আলোকিত হচ্ছে, ঠিক তখনই পৃথিবী আরও গরম হচ্ছে। একটি গবেষণায় দেখা গেছে, পৃথিবীর ৮৩ শতাংশ মানুষ রাতে বর্তমানে আলোক দূষণের মধ্যে থাকে! আসুন সহনীয় মৃদু আলোর মধ্যে থাকি, তাপ কমবে, বিদ্যুৎ ব্যবহার কমবে এবং স্বাস্থ্যের নিরাপত্তা অনেক দিক দিয়ে বাড়বে। রাতে পুরো অন্ধকার ঘরকে ঘুমানোর জন্য বেছে নিই এবং অপেক্ষাকৃত কম আলোর লাইট ব্যবহার করি। হ

সাঈদ চৌধুরী
রসায়নবিদ ও সদস্য, উপজেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটি, শ্রীপুর, গাজীপুর