আজকের পত্রিকাআপনি দেখছেন ৬-০৯-২০১৮ তারিখে পত্রিকা

দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নিন

রাজধানীতে বেড়েছে ডেঙ্গুর উপদ্রব

| সম্পাদকীয়

প্রতি বছর মশা নিধনে সিটি করপোরেশনের বাজেটে বড় বরাদ্দ থাকে। কিন্তু এর সুফল কতটা পাচ্ছে নগরবাসী, সেটা নিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছে বাসিন্দাদের মনে। এ সংশয়ের মূল কারণ, সম্প্রতি রাজধানীতে ব্যাপকভাবে দেখা দিয়েছে ডেঙ্গুজ্বরের প্রাদুর্ভাব। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হিসাব অনুযায়ী, সারা দেশে প্রতিদিন গড়ে ১৫ থেকে ২০ জন ডেঙ্গুজ্বরে আক্রান্ত হয়ে বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিচ্ছেন, যাদের অধিকাংশই রাজধানীতে। চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত মোট ২ হাজার ৬৩২ জন ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসা নিয়েছেন। এর মধ্যে ১১ জনের মৃত্যু হয়েছে। বর্তমানে বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি হয়ে চিকিৎসাধীন রয়েছেন ১৩২ জন। আর ডেঙ্গুতে আক্রান্ত রোগীর মধ্যে অধিকাংশই নারী ও শিশু। উল্লেখ্য, মশা নিয়ন্ত্রণে সিটি করপোরেশন নিয়মিত ওষুধ ছিটানোসহ নানা ব্যবস্থা নিচ্ছে। এক্ষেত্রে পর্যাপ্তসংখ্যক লোকবল, সরঞ্জাম ও যথেষ্ট পরিমাণ অর্থ বরাদ্দ থাকার পরও মশা নিধন কার্যক্রমে কার্যকর ফল পাওয়া যাচ্ছে না কেন, জনমনে এমন প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে।
ডেঙ্গু একটি ভাইরাসজনিত জ্বর। অন্যান্য অনেক ভাইরাস রোগের মতো সরাসরি এরও কোনো প্রতিষেধক নেই, টিকাও নেই। লক্ষণ অনুযায়ী চিকিৎসা দিয়ে এর মোকাবিলা করা হয়। আইইডিসিআরের তথ্য মতে, সাধারণত জুন-জুলাই থেকে শুরু করে অক্টোবর-নভেম্বর পর্যন্ত বাংলাদেশে ডেঙ্গুর বিস্তার থাকে। তবে জুলাই-অক্টোবর পর্যন্ত পরিস্থিতি বেশি খারাপ হয়। সাধারণত মশক নিধন কার্যক্রমের স্থবিরতা, গাইডলাইনের অভাব এবং মানুষের অসচেতনতাই ডেঙ্গুর প্রকোপের জন্য দায়ী। হঠাৎ থেমে থেমে স্বল্পমেয়াদি বৃষ্টিতে ডেঙ্গুর বাহক এডিস মশার লার্ভা খুব বেশিমাত্রায় প্রজনন সক্ষমতা পায়। ফলে এডিস মশার বিস্তারও ঘটে বেশি। এ মশা যত বেশি হবে ডেঙ্গুর হারও তত বাড়বে। উৎস বন্ধ না করতে পারলে ডেঙ্গুর ঝুঁকি থেকেই যাবে। 
এডিস মশা সাধারণত বাসাবাড়িতে ফুলের টব, টায়ার, ফ্রিজ, এসিতে জমে থাকা পানিতে জন্মায়। ঘরবাড়ি ও এর চারপাশে পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে থাকা ক্যান, টিনের কৌটা, মাটির পাত্র, বোতল, নারকেলের মালা বা পানি ধারণ করতে পারে এ জাতীয় পাত্র ফেলে রাখা যাবে না। এগুলোয় পানি জমে এডিস মশার জন্ম হয়। তাছাড়া গোসলখানায় বালতি, ড্রাম, পানির ট্যাঙ্ক কিংবা মাটির গর্তে কোনো অবস্থাতেই পানি জমিয়ে রাখা যাবে না। ডেঙ্গুর মৌসুমে মশারি টানিয়ে ঘুমানো উচিত। নিজ বাড়ির আঙিনা ও চারপাশ পরিষ্কার রাখতে হবে। মশার ওষুধ ছিটানোর পাশাপাশি সচেতনতার কোনো বিকল্প নেই। এছাড়া রাজধানীতে ডেঙ্গুর প্রকোপ থেকে বাঁচতে হলে মশক নিধনে ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনকে দ্রুত আরও সক্রিয় হতে হবে। এ লক্ষ্যে সরকার, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়, গণমাধ্যমসহ সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। পাশাপাশি ডেঙ্গু প্রতিরোধে জনসচেতনতামূলক কার্যক্রমও ব্যাপক হারে বাড়ানো জরুরি।