আজকের পত্রিকাআপনি দেখছেন ৬-০৯-২০১৮ তারিখে পত্রিকা

তপু-সুফিলদের প্রত্যয়

স্পোর্টস রিপোর্টার
| খেলা

তপু বর্মণ ও টুটুল হোসেন বাদশা চুল কেটে টিম হোটেলের লিফটে ওঠার আগে উপস্থিত গণমাধ্যমের ক্যামেরার ফ্লাশগান জ্বলে ওঠে, লবিতে দাঁড়ানো দুই-তিনজন সেলফিও তোলেন। দাঁড়িয়ে মুগ্ধ চোখে দেখছিলেন মালদ্বীপ খেলোয়াড়রা। এর কিছুক্ষণ আগে মাহবুবুর রহমান সুফিল ও বিপলু আহমেদ হোটেল থেকে বের হওয়ার সময় দেখলেন অন্তত জনাবিশেক মানুষ দাঁড়িয়ে। যদিও বোঝার উপায় ছিল না তারা জাতীয় দলের খেলোয়াড়। গণমাধ্যমের উৎসাহে বুঝলেন দুই তরুণ ঘরের মাঠে সাফ ফুটবলে দেশের প্রতিনিধিত্ব করছেন। পরশু রাতে ভুটানকে হারাতে একজন গোল করেছেন, আরেকজন করিয়েছেন। একটা জয় বদলে গেছে জাতীয় দলের চিত্র। দেশের ফুটবলারদের প্রতি ফিরেছে মানুষের আস্থা, বেড়েছে ফুটবলারদের আত্মবিশ্বাস। পরশু খেলার শুরুতেই বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামে দ্বিতীয় মিনিটে গোল করে ভুটানের বিপক্ষে বাংলাদেশকে এগিয়ে দিয়েছিলেন, দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন সুফিল।

‘পেনাল্টি পেলে আমি শট নেব, আগেই দলীয় সিদ্ধান্ত ছিল। আসলে এত দ্রুত পেনাল্টি পাব ভাবতেও পারিনি। আমরাও বুঝিনি পেনাল্টি হয়েছিল। তবে ঘাবড়াইনি, মাথা ঠা-া রেখেছিলাম, বল হাতে নিয়ে মনে মনে ঠিক করে ফেলি ডানদিকে শট নেব’Ñ হোটেল লবিতে দাঁড়িয়ে বলছিলেন তপু বর্মন। কখন বুঝলেন পেনাল্টি হয়েছেÑ জবাব তপুর, ‘কর্নার হলে আমি, সাদ, বাদশা, ফাহাদ হেড করার জন্য বক্সে ছিলাম। কিন্তু ভুটানের ডিফেন্ডার তাকে টেনে ধরে রাখছিলেন, এটা রেফারিকে বলে রাখে সাদ। ধাক্কা দিয়ে ফেলার পরও বুঝিনি পেনাল্টি হয়েছে। দেখলাম রেফারি বাঁশি দিয়েছে।’ আন্তর্জাতিক ম্যাচে এটি দ্বিতীয় গোল, প্রথমটি ভুটানের বিপক্ষেই তিন বছর আগে কেরালা সাফে। পাকিস্তানের বিপক্ষেও চান প্রতিপক্ষ গোলমুখ খুলতে।
তপুর নাকি প্রতিজ্ঞা ছিল ভুটানকে না হারিয়ে চুল কাটবেন না, তাই প্রতিশোধের জয়ের রেশ থাকতে থাকতে কাল দুপুরে সতীর্থ টুটুল হোসেন বাদশাকে নিয়ে গেলেন চুল কাটতে, ফিরেছেন ঘণ্টা দেড়েক পর। এর মধ্যে আগের রাতের ধকল কাটাতে হোটেলের সুইমিংপুলে সাঁতার কেটেছেন ঘণ্টা খানেক।
অফসাইড টপকে যেভাবে বক্সে ঢুকে ভলিশটে ভুটানি গোলরক্ষক স্যামদুড় শেরিংকে পরাস্ত করলেন সুফিল, এমন শট রাত জেগে ইউরোপিয়ান লিগে দেখেন এ দেশের ফুটবলপ্রেমীরা। তুলনা করতেই বিব্রত সুফিল, পরক্ষণে যোগ করেন, ‘এমন গোল আমার আরও আছে, ঘরোয়া ফুটবলে আগেও করেছি।’ গেল ২৭ মার্চ লাল-সবুজ জার্সিতে লাওসের বিপক্ষে অভিষেক ম্যাচে করেছিলেন প্রথম গোল, পরশু দ্বিতীয় ম্যাচেও গোল; দুই ম্যাচে ২ গোল। আজ পাকিস্তানের বিপক্ষেও গোল করার প্রত্যয় সুফিলের। তবে সতীর্থদের সহযোগিতা চাইলেন তিনি, ‘আমি একা গোল করতে পারব না, দলীয় সহযোগিতা লাগবে। তার আগে সবাই মিলে একটি দল হতে চান তিনি। তিন বছর আরামবাগ ক্রীড়া সংঘে খেলে এ বছর ৩৫ লাখ টাকা পারিশ্রমিকে যোগ দিয়েছেন বসুন্ধরা কিংসে; গেল বছর তারুণ্যনির্ভর আরামবাগের আর্মব্যান্ড ছিল বাহুতে, তিন তরুণ সতীর্থ আরিফ, বাপ্পী, জুয়েলকে সঙ্গী করে স্বাধীনতা কাপে চ্যাম্পিয়ন করেছিলেন দলকে। মজার বিষয় হলো, আবু সুফিয়ান সুফিল নাম হলেও পাসপোর্ট করতে গিয়ে হয়ে যায় মাহবুবুর রহমান সুফিল, এ নামেই এখন পরিচিতি! 
ঘরোয়া ফুটবলে ভিন্ন ক্লাব খেললেও বয়সভিত্তিক ও জাতীয় দলে বিপলু আহমেদের সঙ্গে সুফিলের রসায়ন দারুণ, যেটা বিভিন্ন সময় দেখা গেছে বয়সভিত্তিক পর্যায় থেকে জাতীয় দলেও। ‘ওর সঙ্গে বন্ধুত্ব তৃতীয় বিভাগ থেকে, একসঙ্গে খেলেছি। অনূর্ধ্ব-১৯ দলেও টিমমেট ছিলাম। ফলে আমরা বুঝি, বল পেলে মাঠে কখন কোথায় থাকতে হবে। আমাদের বোঝাপড়াটা দারুণ।’
স্কোরশিটে নাম তুলতে পারতেন বিপলুও; কিন্তু পারেননি সিদ্ধান্ত নিতে ভুল করায়। বক্সে ঢুকে সামনে গোলরক্ষককে একা পেয়েও বুটের আউটসাইড দিয়ে সরাসরি তার গায়ে মারেন বল। চাইলে তিনি গোলরক্ষককে কাটাতেও পারতেন। কেন সেটা করেননিÑ ব্যাখ্যা দিলেন, ‘ঠিক ওই মুহূর্তে গোলরক্ষক অনেকখানি এগিয়ে এসেছিল, আমিও তাড়াহুড়া করে শট নিয়েছি, কিন্তু ঠিকভাবে কানেক্ট হয়নি।’ দুই মৌসুম মোহামেডানে কাটিয়ে এবার যোগ দিচ্ছেন শেখ রাসেলে।
সুফিল-বিপলুতে মুগ্ধ কোচ জেমি ডে। কাল হোটেল লবিতে বলেন, ‘ফ্যান্টাস্টিক। ওরা চাইলে অনেক ভালো ফুটবলার হতে পারবে, দায়িত্ব ওদের। এ বয়সে যা খেলছে, তা প্রশংসনীয়।’ উপদেশ দিলেনÑ শারীরিক সক্ষমতা বেড়েছে, এটা ধরে রাখতে হবে। এখন বাড়াতে হবে স্কিল।’ 
কিন্তু নিজেদের আরও পরিপক্ক করতে কতটা সচেতন হবেন সুফিল-বিপলুরা, সেটা দেখার অপেক্ষা করতেই হবে।