আজকের পত্রিকাআপনি দেখছেন ৬-০৯-২০১৮ তারিখে পত্রিকা

বাংলাদেশের সামনে আজ পাকিস্তান

প্রথম স্বপ্ন পূরণের পরীক্ষা

শফিক কলিম
| খেলা

নয় বছর আগে শেষবার সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে সেমিফাইনাল খেলেছিল বাংলাদেশ, পরের তিন আসরে বিদায় নেয় গ্রুপ পর্বে। দেড় দশক পর ঘরের মাঠে দক্ষিণ এশিয়ার ফুটবল রাজত্ব উদ্ধারে দৃঢ়প্রত্যয়ী লাল-সবুজ ফুটবলাররা। ভুটানের বিপক্ষে ২-০ গোলে প্রতিশোধের জয়ে সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ শুরু করেছে বাংলাদেশ; সেমিফাইনাল নিশ্চিত করতে চাই আরেকটা জয়। সেটা আজই হয়ে যেতে পারে, যদি পাকিস্তানকে ন্যূনতম ব্যবধানেও হারাতে পারে। তিন বছর পর আন্তর্জাতিক উঠানে ফেরা দেশটির বিপক্ষে ড্র হলে অপেক্ষা করতে হবে নেপালের বিপক্ষে শেষ ম্যাচ পর্যন্ত।

ঠিক পাঁচ বছর পর পাকিস্তানের বিপক্ষে দেখাকে স্মরণীয় করে রাখতে চান মামুনুল, নাসির চৌধুরী, জামাল ভুইয়া, ওয়ালী ফয়সালরা। কেননা ২০১৩ কাঠমান্ডু সাফে পাকিস্তানের কাছে ১-২ গোলে হারা ম্যাচে খেলেছিলেন তারা। ঘরের মাঠে খেলা, বাড়তি সুবিধা পেলেও প্রতিপক্ষকে সমীহর চোখে দেখছেন স্বাগতিকদের ব্রিটিশ কোচ জেমি ডে। কেন’র ব্যাখ্যাও দিলেন কাল তিনি, ‘তিন বছর পর আন্তর্জাতিক ফুটবলে ফিরলেও পাকিস্তান শক্তিশালী দল। ইউরোপে খেলা একাধিক ফুটবলার আছে, তিনজন খেলে ডেনমার্কে। ইংলিশ লিগ খেলা জেস রহমান আছেন। এখানে ওদের অভিজ্ঞতা, স্কিল কাজে লাগবে। আমাদের দলে অভিজ্ঞ ফুটবলার কম।’ র‌্যাঙ্কিংয়ে বাংলাদেশ ১৯৪, প্রতিপক্ষ ২০১, র‌্যাঙ্কিং দিয়ে প্রতিপক্ষের মানদ- বিচার করতে চান না জেমি, ‘র‌্যাঙ্কিংয়ে ফল প্রত্যাশা ঠিক নয়। তাহলে জাকার্তা এশিয়াডে আমরা ৯৬ ধাপ এগিয়ে থাকা কাতারকে হারাতে পারতাম না। আসলে মাঠের খেলাটা মুখ্য। পরীক্ষাটা মাঠেই দিতে চাই।’
প্রথম ম্যাচ জেতায় দুই দলের পয়েন্ট সমান ৩; গোলগড়ে উপরে বাংলাদেশ। আজ জিতলে শেষ চার নিশ্চিতই বলা যায়। ফলে কেউ ঝুঁকি নিতে চায় না, আজই শেষ চার নিশ্চিত করতে চায় বাংলাদেশের মতো পাকিস্তানও। কাল দুপুরে শেখ জামাল ধানমন্ডি ক্লাব মাঠে অনুশীলন শুরুর আগে ব্রাজিলিয়ান কোচ হোসে অ্যান্তনিও নুগেইরা জানান, ‘ম্যাচটা দুই দলের জন্যই সেমিফাইনাল নিশ্চিত করার, ঝুঁকি নিতে চাই না, ৩ পয়েন্ট চাই, জয়ের লক্ষ্য নিয়ে মাঠে নামব।’ স্বাগতিক হওয়ায় বাংলাদেশকে এগিয়ে রাখলেন ব্রাজিলিয়ান কোচ, ‘ঘরের মাঠ, ঘরের দর্শকÑ এটা বাড়তি সুবিধা দলটির জন্য। তবে নেপালকে হারানোর পর আমাদের আত্মবিশ্বাস বেড়ে গেছে। বিশেষ করে শেষ মুহূর্তে পাওয়া গোলে দল উজ্জীবিত।’ ম্যাচের কৌশল নিয়ে মুখ খুলতে নারাজ কোচ, নেপাল ম্যাচে হওয়া ভুল সংশোধনে কাল অনুশীলন নিয়ে কাজ করেছেন কোচ।
পাকিস্তানি ফুটবলাররা শারীরিক গড়ন, সক্ষমতা ও স্কিলে এগিয়ে। নেপাল ম্যাচে লম্বা ডিফেন্ডাররা পেছনে থেকে রক্ষণ কাজ করেছেন। ফলে প্রতিপক্ষের ক্রসগুলো বক্সের ভেতর থেকে সহজেই বের করে দিয়েছেন। নেপালিদের মতোই শারীরিক গড়ন বাংলাদেশি ফুটবলারদের। লাল-সবুজ কোচ জেমির ভরসা তারুণ্যের গতি। দুর্গ ভাঙতে প্রতিপক্ষ রক্ষণকে টেনে উপরে তুলে আনতে হবে, এরপর যদি কিছু করা যায়।
প্রতিপক্ষ যে-ই হোক, মাঠে আজ এক ইঞ্চি জায়গাও ছাড় দিতে চান না লাল-সবুজ ফুটবলাররা। প্রতিপক্ষকে সমীহ করলেও জেমির কথা, ‘ঘরের মাঠে খেলা, প্রথম ম্যাচ জেতায় দলের আত্মবিশ্বাস বেড়েছে। সমর্থকরা মাঠে এসে উজ্জীবিত করলে আরও ভালো খেলার অনুপ্রেরণা পাবে ছেলেরা। পাকিস্তান শক্তিশালী হলেও হারানোর সামর্থ্য আমাদের আছে।’
লাল-সবুজ ফুটবলারদের অনুপ্রেরণা হতে পারে ঢাকায় পাকিস্তানের কাছে কোনো ম্যাচ হারেনি বাংলাদেশ। জাতীয় বা ‘এ’ কিংবা ‘বি’ দল মিলিয়ে ২৪ ম্যাচের যে সাতটিতে হেরেছে, সবক’টিই পাকিস্তান বা নিরপেক্ষ ভেন্যুতে। তবে পাকিস্তানকে তাদের মাঠেই পাঁচবার হারিয়েছে বাংলাদেশ, মোট জয় ৯টি, হারও তাই। অমীমাংসিত ছিল ৬টি। সর্বশেষ জয় পাকিস্তানের, ২০১৩ কাঠমান্ডু সাফে ২-১ এ। বাংলাদেশ শেষ জিতেছে ২০১১ বিশ্বকাপ প্রাক-বাছাইয়ে ঢাকায় ৩-০ গোলে।
জাকার্তায় গোলের নিচে দারুণ খেলা আশরাফুল রানাকে বাদ দিয়ে প্রথম ম্যাচে হঠাৎ একাদশে নেওয়া হয় শহীদুল আলম, আজও সে একাদশ খেলাতে চান তিনি। ইমনকে শতভাগ পূর্ণ ফিট মনে না করায় একাদশে রাখছেন না।