আজকের পত্রিকাআপনি দেখছেন ৬-০৯-২০১৮ তারিখে পত্রিকা

অনুমোদন পেল রানার অটোমোবাইল

উচ্চ সিসির মোটরসাইকেল রপ্তানির বাজারে বাংলাদেশ

নিজস্ব প্রতিবেদক
| অর্থ-বাণিজ্য

বাংলাদেশ থেকে নেপালের বাজারে ৫০০ সিসি মোটরসাইকেল রপ্তানি করবে রানার অটোমোবাইল। কোম্পানিটির ২০১৭ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে মোটরসাইকেল রপ্তানি শুরু হয়। প্রথম ধাপে দেশীয় প্রতিষ্ঠান রানার অটোমোবাইলের হাত ধরে মেইড ইন বাংলাদেশের প্রথম মোটরসাইকেল রপ্তানি হয় নেপালের বাজারে। ৮০ থেকে ১৫০ সিসির মোটরসাইকেলগুলো ব্যাপক জনপ্রিয় হয়ে ওঠে বিদেশের মাটিতে। এরপর চাহিদা বাড়তে থাকায় ১৬৫ থেকে ৫০০ সিসির মোটরসাইকেল তৈরির জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামাল আমদানি এবং রপ্তানির অনুমোদন দিয়েছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। 

বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, গেল ৩০ আগস্ট রানার অটোমোবাইলসকে রপ্তানির উদ্দেশ্যে ১৬৫ থেকে ৫০০ সিসি পর্যন্ত মোটরসাইকেল উৎপাদনের জন্য কাঁচামাল ও উপাদান আমদানির অনুমতি (আইপি) প্রদান করা হয়েছে। দেশের অভ্যন্তরে আপাতত মোটরসাইকেল, আমদানি পার্টস বিক্রি না করা এবং এটি নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করার শর্তে এ অনুমোদন দেওয়া হয়। 
জানা গেছে, নেপালের পর রপ্তানির বাজার সম্প্রসারণে এবার প্রতিষ্ঠানটি নজর দিচ্ছে ভুটান, মিয়ানমার, ভারতের সাতটি রাজ্য (সেভেন সিস্টার) আফ্রিকা ও মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি দেশে। 
এ বিষয়ে রানার গ্রুপের চেয়ারম্যান হাফিজুর রহমান খান বলেন, আমরা খুবই আনন্দিত যে, আমাদের আবেদনে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সাড়া দিয়েছে। এখন আমরা হাই অ্যান্ড মোটরসাইকেলের বাজারে প্রবেশ করব। আর এর মধ্যদিয়ে মেইড ইন বাংলাদেশ খ্যাত রানার মোটরসাইকেল ছড়িয়ে পড়বে এশিয়া, আফ্রিকা ও মধ্য প্রাচ্যের কয়েকটি দেশে।
বিশ্বের বিভিন্ন দেশে উচ্চ সিসির মোটরসাইকেলের চাহিদা বাড়ছে উল্লেখ করে রানার গ্রুপের চেয়ারম্যান বলেন, প্রতি বছর ২ কোটি ইউনিট উচ্চ সিসির মোটরসাইকেল বাজার ধরতে আমরা সব ধরনের প্রস্তুতি নিচ্ছি। এরই মধ্যে ভালুকায় আমাদের কারখানায় প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিয়েছি। বাজার গবেষণা, উদ্ভাবন ও মাননিয়ন্ত্রণের কাজ চলছে। এখন কাঁচামাল ও প্রয়োজনীয় উপকরণ আমদানির পর খুব শিগগিরই ১৬৫ থেকে ৫০০ সিসির মোটরসাইকেল আমরা দেশেই বানাতে সক্ষম হব এবং তা রপ্তানি করব। তবে প্রাথমিকভাবে আমরা ২০০ থেকে ২৫০ সিসিতে বেশি অগ্রাধিকার দিচ্ছি। পর্যায়ক্রমে তা বাড়ানো হবে।
রানার অটোমোবাইলসের এমডি ও সিইও মুকেশ শর্মা বলেন, রানার অটোমোবাইলস রপ্তানি বাজারে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করতে যাচ্ছে। আমরা আশা করছি এ বছরের শেষ নাগাদ আমাদের কারখানায় রপ্তানির উদ্দেশ্যে উচ্চ সিসির মোটরসাইকেল উৎপাদন করতে পারব। পরবর্তীতে আগামী বছর থেকে তা রপ্তানি শুরু হবে। ২০১৭ সালে ভালুকায় রানারের রপ্তানি কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ। পরবর্তীতে ৮০ থেকে ১৫০ সিসির সাত মডেলের মোটরসাইকেল নিয়ে ব্যাপক পরিসরে নেপালের বাজারে রপ্তানি সম্প্রসারণ করে রানার অটোমোবাইলস। 
২০০০ সালে মোটরসাইকেল আমদানি করে বাজারজাত শুরু করে রানার। কয়েক বছর পর প্রতিষ্ঠানটি মোটরসাইকেলের পার্টস সংযোজন শুরু করে। আর ২০০৭ সালে ময়মনসিংহের ভালুকায় রানার বাংলাদেশে প্রথম মোটরসাইকেলের কম্পোনেন্টস তৈরির মাধ্যমে স্থানীয়ভাবে মোটরসাইকেল উৎপাদন শুরু করে, যা বুয়েট এবং বিআরটিএ অনুমোদন দেয়। পরবর্তী সময় ২০১১ সালে রানার পানচিং, ওয়েল্ডিং, পেইন্টিং, এসেম্বলিং, টেস্টিং ইত্যাদি মেশিনারিজ স্থাপনের মাধ্যমে মোটরসাইকেল উৎপাদনকারী হিসাবে সরকারি অনুমোদন লাভ করে। পূর্ণাঙ্গ মোটরসাইকেল কারখানা হিসেবে ২০১২ সালে পুরোদমে উৎপাদন শুরু করে। এসব যন্ত্রাংশ রং করার জন্য অত্যাধুনিক পেইন্ট শপ স্থাপন করা হয়েছে।
কারখানায় দৈনিক উৎপাদন ক্ষমতা ৫০০ মোটরসাইকেল এবং ২০১৮ সালের মধ্যে উৎপাদন ক্ষমতা ১০০০-এ উন্নীতকরণের কার্যক্রম হাতে নেওয়া হয়েছে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তিসম্পন্ন উচ্চক্ষমতার বিখ্যাত ইউএম-রানার ব্র্যান্ডের মোটরসাইকেল বাজারে সরবরাহের কাজ চলছে।