আজকের পত্রিকাআপনি দেখছেন ৬-০৯-২০১৮ তারিখে পত্রিকা

যুদ্ধ থামুক, চায় ইয়েমেনের নোরান

আলোকিত ডেস্ক
| আন্তর্জাতিক

পেরিয়ে গেছে তিনটি বছর। যুদ্ধ, রক্তপাত, বোমার শব্দ এখন রোজনামচা। বিধ্বস্ত ইয়েমেনে এখন অন্তত ১ কোটি ১৩ লাখ শিশু বিপন্ন। একটি ১৩ বছরের মেয়ের ভিডিও সম্প্রতি ছড়িয়ে পড়েছে ইন্টারনেটে। তার নাম নোরান। হুইলচেয়ারে বন্দি মেয়েটার হাত-পা-শরীর বেঁকে গেছে। ঘাড় সোজা করে বসতেও পারে না সে। গোটা বিশ্বের কাছে ভিডিও বার্তা দিয়েছে সেÑ সাহায্য করার জন্য, তার মতো অগুনতি শিশুর পাশে দাঁড়ানোর জন্য। ইয়েমেনে যুদ্ধ থেমে যাক, চায় নোরান। কারণ ওর মতো অনেক শিশুকে যুদ্ধে আহত হতে হয়। এটা একেবারেই অন্যায্য, বোঝাতে চায় সে। হুইলচেয়ারে ঝুঁকে বসেই মেয়েটা বলে যায়, ‘হেঁটে হেঁটে স্কুলে যেতাম এক সময়। পড়াশোনা করতাম, খেলতাম। অন্য বাচ্চাদের মতোই। স্কুলের ডেস্কে চেয়ারে বসতাম, লিখতাম।’ দুই বছর আগে আকাশপথে হামলার পর শিরদাঁড়ায় আঘাত লেগে ভয়ঙ্কর জখম হয় সে। তারপর থেকে পঙ্গুত্বের বোঝা চেপে বসেছে। চিকিৎসা করানোর অর্থটুকুও নেই নোরানের পরিবারের। তাই দিন দিন তার অবস্থা আরও সঙ্গীন হয়ে পড়ছে। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, ওর অস্ত্রোপচার করতে হবে। কিন্তু ১৮ মাস ধরে বেতন বন্ধ নোরানের বাবার। যখন বাবা বেতন পেতেন, নোরান সঙ্গে যেত ডাকঘর থেকে সেই অর্থ আনতে। 

চিকিৎসার খরচ কিছুটা জুটত। কিন্তু এখন রোজকার খাবারটা জোগাড় করাও মুশকিল হয়ে পড়েছে। ক্যামেরার দিকে তাকানো ফ্যাকাশে হাসিমুখটা বলে যায়, ‘এখন আর লিখতে পারি না। হাতে ব্যথা করে। পিঠে এমন চোট পেয়েছি... সবচেয়ে দুঃখ হয় যখন খেলতেও পারি না। আগে যেমন পারতাম।’ সূত্র : আনন্দবাজার পত্রিকা