আজকের পত্রিকাআপনি দেখছেন ৬-০৯-২০১৮ তারিখে পত্রিকা

হঠাৎ মাংসপেশি টেনে ধরলে

ডা. এম ইয়াছিন আলী
| সুস্থ থাকুন

খেলোয়াড়দের ক্ষেত্রে খেলাধুলার সময় হঠাৎ মাংসপেশি টেনে ধরে। বিশেষ করে ঊরুর পেছনে মাংসপেশিটিকে মেডিকেল পরিভাষায় হ্যামস্ট্রিং বলে এবং হাঁটুর নিচে মাংসপেশি যেটিকে কাফ মাসল বলে

বেশিরভাগ মানুষই জীবনে বিভিন্ন সময় এ সমস্যার সম্মুখীন হয়ে থাকে। বিশেষ করে হাঁটুর নিচের মাংসপেশিতে (যাকে মেডিকেল পরিভাষায় কাফ মাসল বলা হয়) এ সমস্যা বেশি দেখা দেয়। কারও কারও ক্ষেত্রে রাতে বিছানায় ঘুমের মধ্যে হঠাৎ পায়ের মাংসপেশি টেনে ধরে। মনে হয়, যেন টেনডনটি ছিঁড়ে যাবে। তাছাড়াও দেখা যায়, বসা থেকে উঠতে গিয়ে অনেক ক্ষেত্রে উঠতে পারে না। পায়ের মাংসপেশি টেনে ধরে যাকে। মেডিকেল পরিভাষায় একে মাসল ক্রাম্পিং বা মাসল স্পাজম বলা হয়ে থাকে। 

বিভিন্ন কারণে এ মাংসপেশি টেনে ধরতে পারে, যেমনÑ আমাদের শরীরে যখন রক্তের মধ্যকার ক্যালসিয়াম ও ম্যাগনেসিয়াম কমে যায় তখন এ সমস্যা দেখা যেতে পারে। তাছাড়া পটাশিয়াম কমে গেলেও হঠাৎ মাংসপেশি টেনে ধরতে পারে। তাছাড়া খেলোয়াড়দের ক্ষেত্রে খেলাধুলার সময় হঠাৎ মাংসপেশি টেনে ধরে। বিশেষ করে ঊরুর পেছনে মাংসপেশিটিকে মেডিকেল পরিভাষায় হ্যামস্ট্রিং বলে এবং হাঁটুর নিচে মাংসপেশি যেটিকে কাফ মাসল বলে। 
তাছাড়াও কিছু ওষুধ সেবনের ক্ষেত্রে মাংসপেশির সংকোচন হতে পারে। ডাই-ইউরেটিক্স জাতীয় ওষুধ, যেমনÑ স্ক্রুসিমাইড, কার্বন, ডাইউরোটিকগের জন্য হঠাৎ করে শরীরের পটাশিয়াম, ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম কমে যেতে পারে। 
কিছু ভিটামিনের ঘাটতিজনিত কারণে মাংসপেশির সংকোচন হতে পারে। যেমনÑ থায়ামিন (বি-১), প্যানথোনিক এসিড (বি-৫) এবং পাইরিডক্সিল (বি-৬)।
তাছাড়া যদি পায়ের রক্তনালিগুলোর মধ্যে রক্ত চলাচল স্বাভাবিক না থাকে সেক্ষেত্রেও পায়ের মাংসপেশিগুলো ক্যাম্প বা টেনে ধরতে পারে। মেডিকেল পরিভাষায় সেটিকে ইন্টারমিটেন্ট ক্লাউডিকেশন বলা হয়। এটি সাধারণত কাফ মাসল বা হাঁটুর নিচের মাংসপেশিতে হয়ে থাকে। 
করণীয় 
যেহেতু অনেক কারণে হঠাৎ মাংসপেশিতে টান ধরতে পারে, তাই এ ধরনের সমস্যা নিয়মিত হতে থাকলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া এবং কারণটি নির্ণয় করা প্রয়োজন। কিছু কিছু ক্ষেত্রে সামান্য একটি স্ট্রেচিং এক্সারসাইজ বা ব্যায়ামই এটি ভালো করার জন্য যথেষ্ট। তাছাড়া হঠাৎ আক্রান্ত হলে আক্রান্ত স্থানে মৃদু গরম সেক দিয়ে, হালকাভাবে ম্যাসাজ করুন। সেক্ষেত্রে সাময়িকভাবে কমে যাবে। কিন্তু মাংসল স্পাজম যদি ডিহাইড্রেশনের জন্য হয় সেক্ষেত্রে দ্রুত ইলেকট্রোলাইট ব্যালেন্স করতে হবে। তাছাড়া মাংসপেশি রিক্সাক্স করার জন্য কিছু ওষুধের ব্যবহার করতে হয়, যেমনÑ সøাইক্লোবেনজাপ্রিন হাইড্রোক্লোরাইড, টলপেরিসন হাইড্রোক্লোরাইড, ব্যাকলোফেন, ইপেরিসন হাইড্রোক্লোরাইড, টিজিনাডিন ইত্যাদি। 
তাছাড়া যারা খেলোয়াড় তাদের ক্ষেত্রে খেলা শুরু করার আগে ওয়ার্মআপ এক্সারসাইজ ও খেলা শেষে কুল ডাউন এক্সারসাইজ করতে হবে, তাহলে খেলার সময় অনাকাক্সিক্ষত মাসল স্পাজম এড়ানো সম্ভব। যাদের ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম, পটাশিয়াম ও ভিটামিনের ঘাটতি আছে তাদের সাপ্লিমেন্ট খেতে হবে। 

ডা. এম ইয়াছিন আলী
বাত, ব্যথা, প্যারালাইসিস ও ফিজিওথেরাপি বিশেষজ্ঞ
চিফ কনসালটেন্ট
ঢাকা সিটি ফিজিওথেরাপি হাসপাতাল
ধানমন্ডি, ঢাকা