আজকের পত্রিকাআপনি দেখছেন ৬-০৯-২০১৮ তারিখে পত্রিকা

দলের প্রেসিডিয়াম ও সংসদীয় সভা

ন্যায্য হিস্যা আদায় করে জোট করার পরামর্শ এরশাদকে

| প্রথম পাতা

ষ মিজান রহমান

 

আগামী জাতীয় নির্বাচনে জাতীয় পার্টি কারও ক্ষমতায় যাওয়ার সিঁড়ি হবে না। যদি কেউ ক্ষমতার অংশীদার হতে চায়, তারাই জাতীয় পার্টির সঙ্গে জোটে আসবে। আর যে দলের সঙ্গেই জোট করা হোক না কেন, এবার ন্যায্য হিস্যা আদায় করেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য দলীয় চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদকে অনুরোধ করেছেন দলের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও জাপা দলীয় এমপিরা। বিশেষ করে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের সঙ্গে জোট করার আগে শতবার চিন্তা করে বুঝেশুনে আসনসহ ক্ষমতায় গেলে কীভাবে সরকার গঠন হবে, সব কিছু আগেভাগেই জাপাকে বুঝিয়ে দেওয়ার পর জোট করার ক্ষেত্রে ইতিবাচক সিদ্ধান্তের কথা বলেন তারা। বুধবার রাজধানীর বনানীতে জাপা চেয়ারম্যানের রাজনৈতিক কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত দলের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও সংসদ সদস্যের যৌথসভায় এমন মনোভাব প্রকাশ করা হয় বলে জানা গেছে।

সভার শুরুতেই জাপা মহাসচিব রুহুল আমিন হাওলাদার শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন। তিনি বলেন, দেশের মানুষ লাঙ্গলে ভোট দিয়ে এরশাদ সাহেবকে ক্ষমতায় বসানোর জন্য অপেক্ষায় আছেন। এজন্য সর্বশক্তি দিয়ে আমাদের নির্বাচনি মাঠে নেমে পড়তে হবে। তিনি আগামী দেড় মাসের মধ্যেই ৩০০ সংসদীয় আসনের সবক’টি কেন্দ্র কমিটি ও পোলিং এজেন্ট নিয়োগ করে তাদের প্রশিক্ষণ দেওয়ার জন্য দলের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও এমপিদের প্রতি আহ্বান জানান।

বৈঠক সূত্র জানায়, তিনটি বিষয় বেশি গুরুত্ব পেয়েছে বৈঠকে। প্রথমত, যদি বিএনপি নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে তাহলে আওয়ামী লীগের সঙ্গে জোট হতে পারে। তবে সেটা অবশ্যই তাদের কাছ থেকে হিসাব করে বুঝে নিতে হবে। দ্বিতীয়ত, যদি বিএনপি নির্বাচনে না আসে তাহলে ৩০০ আসনে প্রার্থী দেবে জাতীয় পার্টি। তৃতীয়ত, আলোচনায় আসে জোটের হিসাব-নিকাশ। তারা এবার সিদ্ধান্ত নিয়েছে, কারও ক্ষমতায় যাওয়ার সিঁড়ি হবে না। যদি কেউ ক্ষমতার অংশীদার হতে চায় তারাই জাতীয় পার্টির সঙ্গে জোটে আসবে।
বৈঠকে জাপার সিনিয়র কো-চেয়ারম্যান ও বিরোধীদলীয় নেতা রওশন এরশাদ বলেন, আমরা কারও কাছে সিট চাইব না, মন্ত্রী সংখ্যাই বা আমরা কেন চাইব। আমরা বিরোধী দল বা সরকারের অংশীদার হওয়ার জন্য তো রাজনীতি করছি না। রাজনীতি করছি ক্ষমতায় গিয়ে দেশের সাধারণ মানুষের মুখে হাসি ফোটানোর জন্য। এবার আমরা সরকার গঠন করে রাষ্ট্র পরিচালনা করব। তবে নির্বাচনি রাজনীতিতে জোট করা যায়। কিন্তু এবার আমরা কারও সঙ্গে আগ বাড়িয়ে জোটে যাওয়ার কথা কেন বলব। কেউ যদি ক্ষমতার অংশীদার হতে চায়, তাহলে তারাই আমাদের সঙ্গে জোটে আসবে। 
রওশন এরশাদের বক্তব্যের জবাবে জাপা চেয়ারম্যান এরশাদ বলেন, রওশনের বক্তব্যে আমি খুশি হয়েছি, উৎসাহিত হয়েছি। আমরা এবার নিজেরাই রাষ্ট্রক্ষমতায় গিয়ে মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন করব। এ সময় তিনি আরও বলেন, প্রয়োজন হলে আরও বৃহৎ জোট করব। তবে এটা নিশ্চিত, এবার ন্যায্য হিস্যা আদায় করেই জোটের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেব।
সভায় কাজী ফিরোজ রশীদ বলেন, তোফায়েল আহমেদ বলেছেন, বিএনপি ক্ষমতায় এলে প্রথম দিনে ১ লাখ মানুষ মারা যাবে। তো দ্বিতীয় দিনে কতজন মারা যাবে তা বলেননি। তবে আমরা চাই, কোনো মানুষ মারা না যাক। আর এজন্য জাতীয় পার্টি ক্ষমতায় আসা ছাড়া উপায় নেই। 
সৈয়দ আবু হোসেন বাবলা এমপি বলেন, এরশাদ ও জাতীয় পার্টি ছাড়া জোটের রাজনীতি যে বিগ জিরো, তা দেশের সব রাজনৈতিক দলের নেতারা যেমন ভালো করে জানেন, তেমনি সাধারণ মানুষও জানেন। তাই জাতীয় পার্টি আর এরশাদ ছাড়া তথাকথিত বড় কোনো দলের রাষ্ট্রক্ষমতায় যাওয়ার সুযোগ নেই।
পীর মেজবাহ এমপি বলেন, আওয়ামী লীগের সঙ্গে জোট করলে তারা আমাদের ছেড়ে দেওয়া আসনে বিদ্রোহী প্রার্থী দাঁড় করিয়ে দেয়। এবারও তা করতে পারে, তাই তাদের সঙ্গে জোট করার আগে বুঝেশুনে করতে হবে।
বৈঠকে জাপার কো-চেয়ারম্যান জিএম কাদের ও ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদ বৈঠকে উপস্থিত থাকলেও বক্তব্য রাখেননি। সভায় আরও বক্তব্য রাখেন দলের প্রেসিডিয়াম সদস্য এমএ সাত্তার, কাজী ফিরোজ রশীদ এমপি, সৈয়দ আবু হোসেন বাবলা এমপি, জিয়াউদ্দিন আহমেদ বাবলু এমপি, প্রফেসর দেলোয়ার হোসেন খান, সাহিদুর রহমান টেপা, অ্যাডভোকেট সালমা ইসলাম, মাহমুদুল ইসলাম চৌধুরী, সুনীল শুভ রায়, এসএম ফয়সল চিশতি, সোলেয়মান আলম শেঠ, এম হাফিজ উদ্দিন আহমেদ, ফখরুল ইমাম এমপি, মশিউর রহমান রাঙ্গা, মুজিবুল হক চুন্নু, নুর-ই হাসনা লিলি চৌধুরী, মীর আবদুস সবুর আসুদ, মেজর (অব.) খালেদ আখতার, নুরুল ইসলাম ওমর এমপি, সেলিম উদ্দীন এমপি, আজম খান, মুজিবুল হক সেন্টু, আবদুর রশীদ সরকার, ব্যারিস্টার দিলারা খন্দকার, মাসুদা এমএ রশিদ চৌধুরী, শফিকুল ইসলাম সেন্টু, পীর মেজবাহ এমপি, জিয়াউল হক মৃধা এমপি, নুরুল ইসলাম মিলন এমপি, ব্যারিস্টার শামীম হায়দার পাটোয়ারী, লিয়াকত হোসেন খোকা এমপি, ইয়াহহিয়া চৌধুরী।