আজকের পত্রিকাআপনি দেখছেন ৬-০৯-২০১৮ তারিখে পত্রিকা

আদালতে খালেদা জিয়া

বারবার আসতে পারব না যত খুশি সাজা দিয়ে দিন

| প্রথম পাতা

ষ নিজস্ব প্রতিবেদক 

 

পুরান ঢাকার নাজিমুদ্দিন রোডের পুরানো কেন্দ্রীয় কারাগারে স্থানান্তর হওয়া অস্থায়ী বিশেষ জজ আদালতে বুধবার জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলার শুনানি হয়েছে। মামলার আসামি কারাবন্দি বিএনপি  চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া শুনানির সময় বিচারকের উদ্দেশে বলেছেন, ‘আমি খুবই অসুস্থ। বারবার আদালতে আসতে পারব না। যা ইচ্ছা রায় দেন, যত খুশি সাজা দিয়ে দেন।’ শুনানি শেষে আদালত মামলার পরবর্তী কার্যক্রম ১২ ও ১৩ সেপ্টেম্বর ধার্য করেন। এ সময় পর্যন্ত এ মামলায় খালেদা জিয়ার জামিন বহাল রাখেন আদালত। শুনানিকালে বিশেষ জজ আদালতের বিচারক ড. আক্তারুজ্জামানের উদ্দেশে খালেদা জিয়া বলেন, ‘জজ সাহেবের কাছে কোনো কথা বা নিবেদন করা যায় না। উনি তারিখ দিয়ে উঠে চলে যান। আমাদের কারও কথা শোনেন না। সরকারের হুকুমে এবং নির্দেশে তিনি সব কিছু পরিচালনা করছেন। আমার পায়ে ব্যথা। ডাক্তার আমাকে পা সব সময় উঁচু করে রাখতে বলেছেন। হাতেও প্রচ- ব্যথা। আমাকে জোর করে এখানে আনা হয়েছে। আমি খুবই অসুস্থ। আমি ঘন ঘন কোনো হাজিরা দিতে পারব না। রায় তো লেখাই আছে। আমার হাত-পা প্যারালাইজড হয়ে যাচ্ছে। আপনাদের যা ইচ্ছা রায় দেন, যত খুশি সাজা দিয়ে দেন।’

আদালতে খালেদা জিয়া বলেন, ‘এখানে যে আদালত বসানো হয়েছে এবং প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে, তা আমার আইনজীবীরা জানেন না। এটা জানলে আমি আসতাম না। আদালত পরিবর্তন হলে কমপক্ষে সাত দিন আগে নোটিশ দিতে হয়। তা জানানো হয়নি।’ তিনি বলেন, ‘মাননীয় আদালত, আমি জানি এ আদালতে আমি ন্যায়বিচার পাব না। আমি আর এই আদালতে আসব না।’ এর আগে বেলা ১১টার দিকে ৫ নম্বর বিশেষ জজ আদালতের বিচারক ড. আক্তারুজ্জামান আদালতে প্রবেশ করেন। তার আগে সকাল পৌনে ১১টার দিকে আইনজীবী ও সাংবাদিকরা প্রবেশ করেন। দুপুর ১২টার দিকে খালেদা জিয়াকে একটি হুইল চেয়ারে করে আদালতে আনা হয়। 
আদালতে কারাগার বসানো উপলক্ষে সকাল থেকে কারাগার এলাকায় কঠোর নিরাপত্তা নেওয়া হয়। কারাগারের সামনের সড়কে যানবাহন ও সাধারণ মানুষের চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়। কারাগারের ফটকের সামনে নিরাপত্তা অন্য দিনের চেয়ে আরও জোরদার করা হয়। গলির মুখে মুখেও ছিল আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা। বন্ধ ছিল ওই এলাকার দোকানপাট। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি প্রস্তুত রাখা হয় ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্সের গাড়ি।
মঙ্গলবার বিকালে কারা অভ্যন্তরে আদালত বসা নিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে আইন মন্ত্রণালয়। আইন মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, নিরাপত্তাজনিত কারণে সরকারি আলিয়া মাদ্রাসার মাঠে স্থাপিত অস্থায়ী বিশেষ জজ আদালত থেকে নাজিমুদ্দিন রোডে অবস্থিত পুরান ঢাকার কেন্দ্রীয় কারাগারের প্রশাসনিক ভবনের কক্ষ নম্বর ৭-কে অস্থায়ী আদালত ঘোষণা করা হয়েছে। এখন থেকে সেখানেই খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে জিয়া চ্যারিটেবল দুর্নীতি মামলার বিচার কাজ সম্পন্ন হবে।
চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলায় মোট আসামি চারজন। খালেদা জিয়া ছাড়া অপর তিন আসামি হলেন, খালেদা জিয়ার তৎকালীন রাজনৈতিক সচিব হারিছ চৌধুরী, হারিছ চৌধুরীর তৎকালীন একান্ত সচিব জিয়াউল ইসলাম মুন্না এবং ঢাকা সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র সাদেক হোসেন খোকার একান্ত সচিব মনিরুল ইসলাম খান। এ মামলায় রাষ্ট্রপক্ষে সাক্ষ্য দিয়েছেন মোট ৩২ জন। ২০১০ সালের ৮ আগস্ট তেজগাঁও থানায় জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলা করা হয়।