আজকের পত্রিকাআপনি দেখছেন ৬-০৯-২০১৮ তারিখে পত্রিকা

মেয়র-কাউন্সিলরদের শপথ অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী

গণতন্ত্র শক্ত ভিতের ওপর প্রতিষ্ঠিত

নিজস্ব প্রতিবেদক
| প্রথম পাতা

গণতন্ত্র শক্ত ভিতের ওপর প্রতিষ্ঠিত হয়েছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘সাম্প্রতিক সিটি করপোরেশন নির্বাচনগুলোয় বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রার্থীদের বিজয়ী হওয়ায় এটাই প্রমাণিত হয়, দেশে সুষ্ঠু গণতান্ত্রিক পরিবেশ বজায় রয়েছে এবং গণতন্ত্র শক্ত ভিতের ওপর প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।’ বুধবার প্রধানমন্ত্রী তেজগাঁওয়ের কার্যালয়ে রাজশাহী ও সিলেটের নবনির্বাচিত মেয়র এবং কাউন্সিলরদের শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে একথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী রাজশাহীর মেয়র এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন এবং সিলেট সিটি করপোরেশনের মেয়র আরিফুল হক চৌধুরীকে শপথবাক্য পাঠ করান এবং এলজিআরডি ও সমবায়মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন কাউন্সিলরদের শপথবাক্য পাঠ করান। রাজশাহী সিটি করপোরেশনের মেয়র ও ৪০ জন কাউন্সিলর এবং সিলেট সিটি করপোরেশনের মেয়র ও ৩৬ জন কাউন্সিলর ৩০ জুলাই অনুষ্ঠিত নির্বাচনে নির্বাচিত হন। স্থানীয় সরকার বিভাগের সিনিয়র সচিব জাফর আহমেদ খান শপথগ্রহণ অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন। অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত, সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এবং রাজশাহী ও সিলেটের রাজনৈতিক নেতারা এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ‘জনগণ সিটি করপোরেশন নির্বাচনগুলোয় নিজস্ব পছন্দের প্রার্থী, সরকারি এবং বিরোধীদলীয় সদস্যকে অবাধে ভোট দিতে পেরেছে।’ তিনি বলেন, ‘প্রত্যেক এলাকার মানুষ অবাধে তাদের পছন্দের প্রার্থীর পক্ষে ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছে। রাজশাহীতে আওয়ামী লীগের প্রার্থী ও সিলেটে বিএনপির প্রার্থীর জয়ী হওয়ার কথা উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, কাউন্সিলররাও বিভিন্ন দল ও স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচিত হয়ে এসেছেন।’
জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠায় আওয়ামী লীগের বিগত দিনের ত্যাগ ও সংগ্রামের কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আজ জনগণের ভোটের অধিকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে, তারা তাদের ইচ্ছেমতো প্রার্থীকে নির্বাচিত করার সুযোগ পাচ্ছে। একটি দেশের উন্নয়নে দেশে সুষ্ঠু গণতান্ত্রিক ধারা বজায় থাকার ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, ১০ বছর দেশে সুষ্ঠু গণতান্ত্রিক পরিবেশ বজায় ছিল বলেই বাংলাদেশ প্রতিটি ক্ষেত্রে বিস্ময়কর উন্নয়ন সাধন করেছে। বাংলাদেশ আজ বিশ্বে উন্নয়নের রোল মডেল হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে। বাংলাদেশ এখন উন্নয়নশীল দেশ এবং এ উন্নয়নের ধারাকে টেকসই রূপ দিতে সরকার ‘বাংলাদেশ ডেল্টা প্ল্যান-২১০০’ নামে আগামী ১০০ বছরের পরিকল্পনা প্রণয়ন করেছে।
শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমি শুধু এটুকু বলব, যারাই ক্ষমতায় আসুক উন্নয়নের ধারাবাহিকতা যেন বজায় থাকে। বাংলাদেশ যেন এগিয়ে যায়, বাংলাদেশ যেন আর কখনও পিছিয়ে না যায়, সেটাই আমাদের লক্ষ্য। তিনি বলেন, ‘আমি আশা করব, যে সরকারই আসবে শুধু নিজেদেরই ধনশালী-সম্পদশালী করবে না, জনগণ যেন ধনশালী-সম্পদশালী হয় সেদিকে নিবেদিত থাকবে, সেদিকেই দৃষ্টি দেবে। জনগণ সম্পদশালী হলে দেশ এগিয়ে যাবে।
জনপ্রতিনিধিদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আপনারা নির্বাচিত প্রতিনিধি। জনগণ আস্থা রেখে আপনাদের ভোট দিয়েছে। যে যে দলই করেন না কেন, নিজ নিজ এলাকার ও জনগণের উন্নয়নই হবে আপনাদের কর্তব্য।’ স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা যে দলেরই হোক না কেন, সরকারপ্রধান হিসেবে তাদের সব রকমের সহায়তার আশ্বাস দেন প্রধানমন্ত্রী। একই সঙ্গে তিনি তাদের সতর্ক করে বলেন, ‘পাশাপাশি এটাও বলব, যদি কোনো অনিয়ম হয়; যদি সেখানে কোনো ধরনের দুর্নীতি, সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদী কাজ হয়; তবে সে যে দলেরই হোক সে কিন্তু রেহাই পাবে না। আমরা দেশকে উন্নত করতে চাই এবং দেশের মানুষের শান্তি, উন্নয়ন, নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে চাই।’
সিলেটে একটি মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠায় সরকারের পরিকল্পনার কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকার কখনোই কোনো রাজনৈতিক ভিত্তিতে স্থানীয় সরকারের বাজেট বরাদ্দ করে না। অতীতে তার সরকার রাজশাহী এবং সিলেট সিটি করপোরেশনের জন্য ব্যাপক বরাদ্দ দিয়েছে উল্লেখ করে সরকারপ্রধান বলেন, কে কোন দলের মেয়র সেটা চিন্তা না করে জনগণের কল্যাণের কথাটাই সরকার আগে চিন্তা করে। ভোট জনগণের সাংবিধানিক অধিকার, আর এ সাংবিধানিক অধিকারের যথাযথ প্রয়োগের ওপরই গণতন্ত্র নির্ভরশীল। আর আমরা জনগণের এ অধিকারকে সমুন্নত রাখতে বদ্ধপরিকর। যে কোনো মূল্যেই তাদের এ অধিকার রক্ষা করা হবে।