আজকের পত্রিকাআপনি দেখছেন ৬-০৯-২০১৮ তারিখে পত্রিকা

ইভিএম চাপিয়ে দেওয়া ঠিক নয় : শামসুল হুদা

সুষ্ঠু নির্বাচনে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ ইসি : সিইসি

নিজস্ব প্রতিবেদক
| প্রথম পাতা

সংবিধান অনুযায়ী অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন করতে নির্বাচন কমিশন প্রতিজ্ঞাবদ্ধ বলে জানিয়েছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কেএম নূরুল হুদা। বুধবার ফোরাম অব ইলেকশন ম্যানেজমেন্ট বডিস অব সাউথ এশিয়ার (ফেমবোসা) নবম সম্মেলনে এসব কথা বলেন তিনি। অন্যদিকে একই অনুষ্ঠানে সাবেক প্রধান নির্বাচন কমিশনার শামসুল হুদা বলেছেন, জোর করে ইভিএম চাপিয়ে দেওয়া ঠিক নয়।

জাতীয় সংসদের স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী প্রধান অতিথি হিসেবে রাজধানীর হোটেল র‌্যাডিসনে সকালে আনুষ্ঠানিকভাবে দুই দিনব্যাপী এ সম্মেলনের উদ্বোধন করেন। আফগানিস্তান নির্বাচন কমিশনের চেয়ারম্যান ও 

ফেমবোসার বর্তমান চেয়ারম্যান ডা. গোলাজান এ বাদি সাইদ এবং বাংলাদেশের প্রধান নির্বাচন কমিশনার কেএম নূরুল হুদা বক্তব্য রাখেন। এতে স্বাগত বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনের সচিব হেলালুদ্দীন আহমেদ। অনুষ্ঠানে ভুটানের নির্বাচন কমিশন সচিব দাউয়া তানজিন, ভারতের নির্বাচন কমিশনার অশোক লাভাসা, মালদ্বীপের অ্যাম্বাসেডর এশাথ শান শাকির, নেপালের প্রধান নির্বাচন কমিশনার ডা. আইয়োদী প্রাশাদ জাদেভ, পাকিস্তানের ভারপ্রাপ্ত হাইকমিশনার শাহ ফয়সাল কাকার, শ্রীলঙ্কার নির্বাচন কমিশন চেয়ারম্যান মাহিন্দ্রা দেশাপ্রিয়াসহ বাংলাদেশের সাবেক ও বর্তমান নির্বাচন কমিশনার এবং দেশি-বিদেশি প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। এ সম্মেলনে ভারত, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা, আফগানিস্তান, নেপাল, ভুটান, মালদ্বীপ থেকে প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশের জাতীয় সংসদের স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী বলেন, নির্বাচন কমিশনকে অবশ্যই অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন নিশ্চিত করতে হবে। তিনি বলেন, শক্তিশালী গণতন্ত্র চর্চায় আরপিও ও সংবিধান অনুযায়ী নির্বাচন আয়োজন করতে বাংলাদেশের নির্বাচন কমিশন দায়বদ্ধ। অবাধ, নিরপেক্ষ ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন গণতন্ত্রের মূল ভিত্তি। 
স্পিকার বলেন, নির্বাচনে স্বচ্ছতা নিঃসন্দেহে কঠিন। নির্বাচনে অংশীজনদের অংশগ্রহণ নিশ্চিতের মাধ্যমে জনগণের প্রতিনিধি বেছে নেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করতে হবে রাজনৈতিক দল এবং প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের। ভোটার, গণমাধ্যম, সরকারি প্রতিষ্ঠান ও জনগণ কমিশনের গুরুত্বপূর্ণ অংশীজন। নির্বাচনে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে অংশীজনদের নির্বাচনে যুক্ত করতে হবে।
প্রধান নির্বাচন কমিশনার কেএম নূরুল হুদা বলেন, সংবিধান অনুযায়ী অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন করতে নির্বাচন কমিশন প্রতিজ্ঞাবদ্ধ। এ সম্মেলন আমাদের অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন করতে উৎসাহী করবে। তিনি বলেন, আমরা আগেও বলেছি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন আমরা চাই। সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য যা করা প্রয়োজন তাই করবে বর্তমান কমিশন।  
সাবেক প্রধান নির্বাচন কমিশন এটিএম শামসুল হুদা বলেছেন, জাতীয় নির্বাচনে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) জোর করে চাপিয়ে দেওয়া ঠিক নয়। তিনি বলেন, ইভিএমের জন্য তাড়াহুড়ার কিছু নেই। স্থানীয় সরকার নির্বাচনগুলোতে এটি ব্যবহার করে সবার মধ্যে বিশ্বাস স্থাপন করে জাতীয় নির্বাচনে পরীক্ষামূলকভাবে ইভিএম ব্যবহার করা যেতে পারে।
শামসুল হুদা বলেন, আমাদের সময় চালু হওয়া ইভিএমের ধারাবাহিকতা থাকলে আজকের বিতর্কের জন্ম নিত না। আমরা ইভিএম চালু করেছিলাম। কিন্তু তার ধারাবাহিকতা বজায় রাখা হয়নি। আমাদের পরের কমিশন এটাকে কোল্ড স্টরেজের মধ্যে ফেলে রাখল। আবার এ কমিশন চালু করেছে। আমরা যেটা শুরু করেছিলাম তার ধারাবাহিকতা রাখা হলে এখন কোনো অসুবিধা হতো না।
জাতীয় নির্বাচনে ইভিএম বিতর্কের প্রশ্নে তিনি বলেন, এখন ইভিএম নিয়ে যে বিতর্ক চলছে। এটা দেখে মনে হচ্ছে আমাদের সিদ্ধান্তটাই সঠিক ছিল। আমরা বলেছিলাম ঝট করে জাতীয় নির্বাচনে ইভিএম নিয়ে যাব না। স্থানীয় সরকার নির্বাচনে এটা আমরা প্রথমে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করব। স্থানীয় সরকারের কিছু কিছু জায়গায় এটা করব এবং আমরা সেটা করেও ছিলাম। মানুষ তাতে ইতিবাচকভাবে সাড়াও দিয়েছিল।
ইভিএমের মধ্যে কিছু সুবিধা-অসুবিধা থাকার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, যে মেশিনটা উদ্ভাবন করা হলো তাতে আরও কী কী নিরাপত্তা সংযুক্ত করা যায়- আরও কীভাবে তা উন্নতি করা যায় এবং সব রাজনৈতিক দল যখন বিশ্বাস আনবে, সবাই যখন বলবে ঠিক আছে তখনই জাতীয় নির্বাচনে এর ব্যবহার করা উচিত।
ইভিএম কারও ?ওপর চাপিয়ে দেওয়া ঠিক হবে না মন্তব্য করে তিনি আরও বলেন, এত তাড়াহুড়ার কি আছে। তাড়াহুড়ার তো কিছু নেই। এখনও এটি পুরোপুরিভাবে পরীক্ষা করা হয়নি। স্থানীয় সরকার নির্বাচনগুলোতে আরও ব্যবহার করা উচিত। তারপর সেটা মনিটর করে, তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করে কী হয়েছে, কী সুবিধা-অসুবিধা যাচাই-বাছাই করে নিরবচ্ছিন্নভাবে প্রযুক্তির উন্নয়ন ঘটিয়ে কারিগরি ব্যবস্থাপনার আরও উন্নয়ন ঘটিয়ে যখন সফলতা আসবে, তখনই জাতীয় নির্বাচনে এর ব্যবহার হবে। আর জাতীয় সংসদ নির্বাচনে একসঙ্গে করা ঠিক নয়। পরীক্ষামূলকভাবে করা যেতে পারে।
জাতীয় নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহারের জন্য হঠাৎ আরপিও সংশোধন প্রশ্নে সাবেক সিইসি বলেন, এটা নিয়ে এখন মন্তব্য করে লাভ কি?  যে কোনো উদ্যোগ নেওয়ার আগে তা যথোপযুক্ত কি না দেখা উচিত। যারা এটা করছেন এবং যারা ক্ষমতায় আছেন বিষয়টি তাদেরই দেখা উচিত ছিল। নির্বাচন খুবই স্পর্শকাতর বিষয়। প্রতিযোগিতার বিষয়। ক্ষমতা দখলের জন্য বিভিন্ন রাজনৈতিক দল নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে। রুলস অব দ্য গেম, লেভেলপ্লেইং ফিল্ডÑ এগুলো নিশ্চিত না করলে তো খেলা সমান হবে না। এটা নিশ্চিত করতে হবে। তিনি বলেন, অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের পরিবেশ সৃষ্টি করার দায়িত্ব মূলত সরকারের। সরকারই এটা করবে। তারা না করতে পারলে এটা অবশ্যই অসুবিধার কথা। কী করলে জনগণ আস্থা অর্জন করতে পারে সরকারকেই সে পদক্ষেপ নিতে হবে।
বাংলাদেশ থেকে ২০১০ সালে ফেমবোসার যাত্রা শুরু। পর্যায়ক্রমে ২০১১ সালে পাকিস্তান, ২০১২ সালে ভারত, ২০১৩ সালে ভুটান, ২০১৪ সালে নেপাল, ২০১৫ সালে শ্রীলঙ্কা, ২০১৬ সালে মালদ্বীপ ও ২০১৭ সালে আফগানিস্তানে সংস্থাটির বার্ষিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। দেশের নামের বর্ণানুক্রমে ঘুরে এসে ২০১৮ সালে বাংলাদেশে নবম সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।