আজকের পত্রিকাআপনি দেখছেন ৬-০৯-২০১৮ তারিখে পত্রিকা

দুর্নীতির দায় থেকে রেহাই পেলেন না এসপি মিজান

নিজস্ব প্রতিবেদক
| শেষ পাতা

অবৈধ উপায়ে সম্পদের অর্জনের অভিযোগ থেকে দায়মুক্তি সনদ পেলেও তিন বছর পর একই অভিযোগে মামলার আসামি হলেন পুলিশ সুপার (পুলিশ সুপার পদমর্যাদার রেঞ্জ রিজার্ভ ফোর্সের কমান্ড্যান্ট) মিজানুর রহমান ও তার স্ত্রী নীপা মিজান। প্রায় সাড়ে ৩ কোটি টাকা অর্জনের অভিযোগে তাদের বিরুদ্ধে বুধবার রাজধানীর তেজগাঁও মডেল থানায় দুইটি মামলা করেন দুদকের সহকারী পরিচালক মো. ফারুক আহমেদ। প্রায় ১ কোটি ১৭ লাখ টাকার অবৈধ সম্পদের অভিযোগে একটি মামলা মিজানুর রহমানের বিরুদ্ধে এবং ২ কোটি ৩২ লাখ টাকার অবৈধ সম্পদের অভিযোগে নীপা মিজানের বিরুদ্ধে অপর মামলাটি দায়ের করা হয়। 

এজাহারে বলা হয়, এসপি মিজানের নামে তার নিজ জেলা গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় ৯৮ লাখ ৪০ হাজার টাকার বাড়িসহ ১৩.০৮ একর জমি, ঢাকার তেজকুনিপাড়ায় ১৮০০ বর্গফুট ও ১৭১৮ বর্গফুটের দুইটি ফ্ল্যাট, ঢাকার জুরাইনে একটি দোকান, মিরপুরসহ বিভিন্ন মৌজার ৩ দাগে ১৫ শতাংশ জমি, উত্তরায় ৩ কাঠার আরেকটি প্লটের তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে। তার নামে ব্যাংক অ্যাকাউন্টে ৯১ লাখ ১২ হাজার ৫৪৭ টাকা নগদ ও ৭৫ লাখ টাকার এফডিআর, মোল্লা এনপিকেএস লিমিটেড সার কারখানার নামে ২ লাখ টাকার শেয়ারের মালিকানা থাকার তথ্য-প্রমাণ পাওয়া গেছে।

এছাড়া, তার নামে মেঘনা ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেড, মেসার্স খোয়াজ ফার্টিলাইজার, ফার্ম নেস্ট অ্যান্ড মিল্ক প্রডাক্টস লিমিটেড ও একটি মাইক্রোবাসের মালিকানার প্রমাণ পাওয়া গেছে। এর মধ্যে জ্ঞাত আয়-বহির্ভূত ১ কোটি ১৭ লাখ টাকার তথ্য এসপি মিজানের অপর মামলায় উল্লেখ করা হয়। এসপি মিজানের স্ত্রী নীপা মিজানের নামে উল্লেখযোগ্য সম্পদের মধ্যে ঢাকার মিরপুর মাজার রোডে তিন তলা ভবনসহ ৫ কাঠার জমি, ২ কাঠা জমিতে দোকান, ঢাকার কেরানীগঞ্জে ২ তলা বাড়িসহ ১০ শতাংশ জমি ও ৬৬ শতাংশ জমি, তেজকুনিপাড়ায় ১৮০০ বর্গফুটের একটি ফ্ল্যাট, গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় ৫.৩৮ একর জমি এবং ব্যবসায়িক মূলধন ও নগদ অর্থসহ মোট ৭ কোটি ৮ লাখ ৬৩ হাজার ৩৮৪ টাকার অস্থাবর সম্পদ রয়েছে। 
অবৈধ উপায়ে সম্পদ অর্জন, ক্ষমতার অপব্যবহার, সাভারের হেমায়েতপুরের আলীপুর ব্রিজসংলগ্ন ৮৪ শতাংশ জমির ওপর বাড়ি তৈরি ও ঢাকার মিরপুরের মাজার রোডের আলমাস টাওয়ারের পাশে আরও একটি বাড়ি নির্মাণে জোগালি ও শ্রমিক হিসেবে পুলিশের ৬০ সদস্যকে রাজমিস্ত্রির সহকারী বা জোগালির কাজ করানোসহ বিভিন্ন দুর্নীতির অভিযোগে এসপি মিজানের বিরুদ্ধে ২০১১ সালে আরেকটি অনুসন্ধান করেন দুদকের চট্টগ্রাম বিভাগীয় কার্যালয়ের তৎকালীন অনুসন্ধান কর্মকর্তা সহকারী পরিচালক মো. আমিরুল ইসলাম। অনুসন্ধানে তার বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার, সরকারি চাকরিতে থাকা অবস্থায় স্ত্রীর নামে ব্যবসা পরিচালনাসহ সংশ্লিষ্ট অভিযোগে মামলা রুজুর সুপারিশ করেন। এরপর দুদকের উপপরিচালক এসএম মফিদুল ইসলাম দুদকের আরও কয়েক কর্মকর্তা বিষয়টি পুনরায় অনুসন্ধান করে মামলা রুজুর সুপারিশ করেন। তবে কমিশনে তা অনুমোদন না হওয়া মামলা করা হয়নি। এ অবস্থায় ২০১৫ সালের মে মাসে এসপি মিজান ও তার স্ত্রী নীপা মিজানকে দায়মুক্তি দিয়ে অভিযোগুলো নথিভুক্ত করা হয়। কিন্তু, ২০১৬ সালে এসপি মিজানের বিরুদ্ধে আবারও একই অভিযোগ দুদকে এলে অনুসন্ধান শেষে বুধবার মামলা করা হয়।