আজকের পত্রিকাআপনি দেখছেন ৬-০৯-২০১৮ তারিখে পত্রিকা

জেলে আদালত সংবিধান লঙ্ঘন নয় : কাদের

নিজস্ব প্রতিবেদক
| শেষ পাতা

বিএনপির বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক, সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, কারাগারে আদালত বসানো সংবিধানের লঙ্ঘন নয়। তিনি প্রশ্ন রেখে বলেন, ‘জেলের মধ্যে বিশেষ আদালত সংবিধানের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন কী কারণে? কোথায় লেখা আছে যে এ ধরনের আদালত বসতে পারবে না?’ বুধবার ধানমন্ডিতে আওয়ামী লীগ সভাপতির রাজনৈতিক কার্যালয়ের পাশে নতুন ভবনে ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনগুলোর সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকদের যৌথসভার শুরুতে তিনি এ কথা বলেন। এরপর যৌথ সভা অনুষ্ঠিত হয়।

মঙ্গলবার রাতে বিএনপি চেয়াপারসনের গুলশান কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, আগামী একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে প্রভাবিত করার জন্য খালেদা জিয়ার মামলার কার্যক্রম কেন্দ্রীয় কারাগারে পরিচালনা করার জন্য সরকার প্রজ্ঞাপন জারি করেছে। এটা সংবিধানবিরোধী ও সংবিধানের লঙ্ঘন। এ বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘যে বিষয়টি নিয়ে তারা কথা বলেছেনÑ কারাগারে মধ্যে কোর্ট বসানো যাবে না, এটা তো চালু করেছেন জেনারেল জিয়াউর রহমান। কর্নেল তাহেরকে জেলে কোর্ট বসিয়ে ফাঁসি দিয়েছিলেন। এটা কি বিএনপি ভুলে গেছে? কিভাবে কর্নেল তাহেরের ফাঁসি হয়েছিল? কোথায় হয়েছিল?’ বিএনপির দিকে এমন প্রশ্ন উত্থাপন করে তিনি বলেন, ‘এটা সংবিধানের কোথাও লেখা নেই যে জেলের মধ্যে বিশেষ প্রয়োজনে বিশেষ আদালতের ব্যবস্থা করা যাবে না।’
খালেদা জিয়ার বয়স ও শারীরিক অসুস্থাতাজনিত কারণে জেলের মধ্যে বিশেষ আদালত বসতে পারেÑ এমন মন্তব্য করে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘বয়স বিবেচনায় তার পক্ষে কোর্টে মুভ করা সব সময় হয়ত সম্ভব নয়। জিয়া চ্যারিটেবল যে মামলা, সেই মামলাও তো তিনি হাজিরা দিচ্ছিলেন না। এমতাবস্থায় তাকে হাজিরা দেওয়া সুবিধা করে দেওয়ার জন্য এ বিশেষ আদালতের ব্যবস্থা।’ তিনি বলেন, ‘অসুস্থ হলেও তো মামলা চলবেই। জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলা ১০ বছর বিলম্বিত করেছে। প্রলম্বিত করেছে। এ মামলা অনেক আগেই স্যাটেলড হয়ে যেত, এখানে সরকারের কোনো দোষ নেই। সরকার চেয়েছিল মামলাটা যত দ্রুত নিষ্পত্তি হোক, কিন্তু বিএনপির বহুরূপী আইনজীবী, এত বিজ্ঞ-অভিজ্ঞ আইনজীবীরা, তারা বেগম জিয়ার কেইসটা ১০ বছর ধরে চালিয়েছে। এখন জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্টের যে মামলা, এ মামলাও নানা কৌশলে বিঘিœত করার জন্য অপচেষ্টা চালাচ্ছে। কিন্তু বিচারকার্য কারও জন্য তো থেমে থাকবে না। বেগম জিয়া যদি অসুস্থতা কারণ দেখিয়ে আদালতে না যান কিন্তু অসুুুুস্থতার কারণে আদালতের মধ্যে যে কোর্ট সেখানে যেতে তো অসুবিধা হবে না? আর এটা মির্জা ফখরুল সাহেব সুস্পষ্ট সংবিধাননের লঙ্ঘন বলেছেন। সংবিধানের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন কী কারণে? কোথায় লেখা আছে যে এ ধরনের আদালত বসতে পারবে না?’ নিরপেক্ষ বিচার ব্যবস্থাকে এভাবে সংবিধান লঙ্ঘন করা এটা যারা বলে, তারাই সংবিধান লঙ্ঘন করেছে। বৈঠকের প্রসঙ্গে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘আগামী জাতীয় নির্বাচন কেন্দ্র করে সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের সহযোগিতা নেওয়া হবে। সে বিষয়ে করণীয় ঠিক করতেই আজকের এ যৌথসভা।’ ওবায়দুল কাদেরের সভাপতিত্ব বৈঠকে আরও উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগ নেতা মাহবুব-উল-আলম হানিফ, ডা. দীপু মনি, আহমদ হোসেন, আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল, আবদুস সোবহান গোলাপ, মৃণাল কান্তি দাস, ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া, ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সভাপতি আবুল হাসনাত, মহিলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সাফিয়া খাতুন, যুবলীগ চেয়ারম্যান ওমর ফারুক চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক হারুনুর রশীদ, স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি মোল্লা মো. আবু কাওসার, যুব মহিলা লীগের সভাপতি নাজমা আক্তার প্রমুখ।