আজকের পত্রিকাআপনি দেখছেন ৬-০৯-২০১৮ তারিখে পত্রিকা

নতুন ধানে স্বপ্ন বুনন

সোনা চৌধুরী, রাজশাহী
| সুসংবাদ প্রতিদিন

চাষাবাদে খরচ কম, কিন্তু উৎপাদন বেশি। তাই নতুন জাতের ব্রি-৮২ ধানে নতুন স্বপ্ন বুনছেন কৃষি কর্মকর্তারা। তারা বলছেন, আউশ মৌসুমে অন্য জাতের ধানের ফলন যেখানে বিঘাপ্রতি ১৬ থেকে ১৮ মণ, সেখানে ব্রি-৮২ ধানের ফলন কমপক্ষে ২০ মণ। উৎপাদন খরচ কম হওয়ায় উচ্চ ফলনশীল এ ধান চাষ করে কৃষকরা লাভবান হবেন।

গোদাগাড়ী উপজেলার বিভিন্ন মাঠে চলতি আউশ মৌসুমে প্রথমবারের মতো পরীক্ষামূলকভাবে ব্রি-৮২ জাতের ধান চাষ হয়েছে। এর মধ্যে উপজেলার আদাড়পাড়া মাঠে এক বিঘা জমিতে এ ধান চাষ করেন কৃষক দারুল হাসান। বৃহস্পতিবার তিনি জমির ধান কাটেন। মাড়াই শেষে দেখেন ফলন হয়েছে ২০ মণ। দারুল হাসান জানান, বীজতলা থেকে ধান ঘরে তোলা পর্যন্ত সময় লেগেছে ১১০ দিন। ধানক্ষেতে রোগ-বালাই হয়নি। তাই ধানে চিঁটাও নেই। প্রথম চাষ করায় তিনি একটি শীষ গুনে দেখেছেন, তাতে ধানের সংখ্যা ছিল ১৯০টি। এক বিঘা জমিতে ধান চাষে তার খরচ হয়েছিল ৫ হাজার টাকা। এখন বাজারে ধানের দাম প্রায় ৮০০ টাকা মণ। এ দামে ধান বিক্রি করলেও খরচ বাদে ১১ হাজার টাকা লাভ হবে।

কৃষক দারুলের জমিতে ধান কাটার সময় উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত কৃষি কর্মকর্তা লুৎফুন নাহারও উপস্থিত ছিলেন। তিনি বলেন, ব্রি-৮২ ধানের চাল মধ্যম চিকন এবং সুস্বাদু। ধানটি রোগ-বালাই সহিষ্ণু। তাই রাসায়নিক সার ও কীটনাশক কম ব্যবহার করেই ধানটি চাষ করা যায়। আবার বর্ষা মৌসুমে চাষাবাদের কারণে আলাদাভাবে সেচেরও তেমন প্রয়োজন হয় না। এজন্য খরচ কম। কিন্তু ফলন বেশি। ফলে কৃষকরা লাভবান হবেন। স্থানীয় উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা আশরাফুল বলেন, ব্রি-৮২ চাষাবাদে এক বিঘা জমিতে বীজ লাগে মাত্র ৫ কেজি। চারা রোপণের পর এক বিঘা জমিতে ২ কেজি ইউরিয়া, ১৫ কেজি পটাশ, ৮ কেজি জিপসাম ও এক কেজি দস্তা ব্যবহার করলেই চলে। এ ধান ব্লাস্ট রোগ থেকে মুক্ত। তবে খোলাপড়া ও পাতা ঝলসানো রোগ হতে পারে। তখন আলাদাভাবে ধানের পরিচর্যা করতে হবে। জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক দেব দুলাল ঢালি বলেন, গত বছর বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট ব্রি-৮২ ধানের জাত অবমুক্ত করে। চলতি মৌসুমে বরেন্দ্র অঞ্চলে ধানটি চাষ হয়েছে। বিভিন্ন জায়গা থেকে ফলাফল ভালো বলেই শোনা যাচ্ছে। কৃষকরা লাভবান হচ্ছেন। তাই আগামী মৌসুমে এর চাষাবাদ সম্প্রসারণে উদ্যোগ নেওয়া হবে।