আজকের পত্রিকাআপনি দেখছেন ৬-০৯-২০১৮ তারিখে পত্রিকা

খুলনায় প্রতি বছর হাজারে ১৪ নবজাতকের মৃত্যু

খুলনা ব্যুরো
| নগর মহানগর

অদক্ষ দাই, সনাতন পদ্ধতিতে ডেলিভারি ও অপুষ্টিজনিত কারণে নবজাতকের মৃত্যুর হার বাড়ে। ২০১৭ সালের তথ্য অনুযায়ী খুলনায় বছরে প্রতি হাজারে ১৪ নবজাতক শিশুর মৃত্যু হয়। এ তালিকায় শীর্ষে রয়েছে ডুমুরিয়া ও পাইকগাছা উপজেলা। ২০২৫ সালে খুলনায় প্রতি হাজারে নবজাতকের মৃত্যু ১২ শতাংশের নিচে নামিয়ে আনতে হবে। এ মৃত্যুর হার কমানোর মাধ্যমে এসডিজি অর্জনের লক্ষ্যে জাতীয় নবজাতক স্বাস্থ্য কর্মসূচি উপলক্ষে এক আলোচনা সভায় বক্তারা এ কথা বলেন। বুধবার সিভিল সার্জনের কক্ষে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সিভিল সার্জন কার্যালয়, খুলনা ও জেনারেল হাসপাতাল যৌথভাবে এর আয়োজন করেছে।

আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন সিভিল সার্জন ডা. এএসএম আবদুর রাজ্জাক। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন খুলনা বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক ডা. সুশান্ত কুমার রায়। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন শিশু বিশেষজ্ঞ ডা. মো. সরাফত হোসেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন ডেপুটি সিভিল সার্জন ডা. মো. আতিয়ার রহমান শেখ, চিকিৎসক ও নার্সরা। সভা পরিচালনা করেন স্বাস্থ্য শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আবুল কালাম আজাদ।  
সভায় বক্তারা বলেন, ২০১৬ সালে সারা দেশে ৫ বছর বয়সের নিচে ১ লাখ ৫ হাজার শিশু মারা যায়। তার মধ্যে ৬২ হাজার নবজাতক। ২০২২ সালের মধ্যে দেশে নবজাতকের মৃত্যু ১৮ শতাংশের নিচে নামিয়ে আনতে হবে। সেইসঙ্গে মাতৃমৃত্যুর হার কমাতে হবে। আন্তরিকভাবে স্বাস্থ্যসেবা দেওয়ায় গড় আয়ু বৃদ্ধি পেয়েছে। স্বাস্থ্য বিভাগের ২০১৭ সালের প্রতিবেদন অনুযায়ী, খুলনায় শূন্য থেকে ২৮ দিন বয়সি শিশুর মৃত্যু সংখ্যা প্রতি হাজারে ১৪ জন। এক্ষেত্রে এসডিজির লক্ষ্যমাত্রা ১২ বা তার নিচে, যা ২০২৫ সালের মধ্যে অর্জিত হতে পারে বলে আশা স্বাস্থ্য বিভাগের। 
অনুষ্ঠানে শিশুমৃত্যুর অন্যতম কারণ হিসেবে বলা হয়, কম জন্মওজন, সংক্রমণ ও প্রসবকালীন সঠিক ব্যবস্থাপনার অভাব। কম জন্মওজনের শিশুকে মায়ের শরীরের সংস্পর্শে রেখে সঠিক উষ্ণতা প্রদানের জন্য ক্যাঙ্গারুকেয়ার পদ্ধতির অনুসরণ শিশুমৃত্যু হার কমাতে অবদান রাখতে পারে। জন্মের এক মিনিটের মধ্যে শিশুর কেঁদে ওঠা নিশ্চিত করা ও তাকে সংক্রমণমুক্ত পরিবেশে রাখা একান্ত প্রয়োজন। শিশুর জন্য সঠিক নিওনেটাল কেয়ার নিশ্চিত করা গেলে শূন্য থেকে ২৮ দিন বয়সের শিশুর মৃত্যুহার উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পাবে। সব ধরনের কৃত্রিম শিশুখাদ্য পরিহার করে জন্মের ১ ঘণ্টার মধ্যে শিশুকে মায়ের বুকের দুধ পান করানো শুরু করতে হবে। স্বাস্থ্যসেবা খাতের দক্ষতা বৃদ্ধি, ওষুধের প্রাপ্যতা নিশ্চিত করা, যথাযথ সমন্বয় ও সঠিক ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে সরকার শিশুমৃত্যুর হার হ্রাস ও এসডিজি লক্ষ্য বাস্তবায়নে কাজ করছে। 
খুলনার সিভিল সার্জন ডা. এএসএম আবদুর রাজ্জাক বলেন, ২০২৫ সালের মধ্যে পাঁচ বছরের কমবয়সি শিশুর ক্ষেত্রে মৃত্যুর হার প্রতি হাজারে ২৫ জনের কমে নামিয়ে আনতে সার্বিক প্রচেষ্টা অব্যাহত আছে। গর্ভবতী ও প্রসূতি মায়ের জন্য গর্ভকালীন চেকআপ, পুষ্টিকর খাবার নিশ্চিত করা, রক্তস্বল্পতা দূর করা ও প্রয়োজনীয় আয়রন-ফলিক এসিড গ্রহণ নিশ্চিত করতে সচেতনতা বৃদ্ধিমূলক প্রচারণা চলমান রয়েছে। ফলে এসডিজি বাস্তবায়নে অগ্রগতি ক্রমাগত দৃশ্যমান হচ্ছে।