আজকের পত্রিকাআপনি দেখছেন ৭-০৯-২০১৮ তারিখে পত্রিকা

শিশুরা আগামী দিনের ভবিষ্যৎ

শিশুশ্রম বন্ধে দারিদ্র্য দূর করতে হবে

| সম্পাদকীয়

বাংলাদেশ শ্রম (সংশোধন) আইন ২০১৮ এর নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। আইএলও কনভেনশন অনুযায়ী বর্তমান বাংলাদেশ শ্রম আইন ২০০৬-কে আরও যুগোপযোগী করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব শফিউল আলম। সোমবার সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বৈঠকে সংশোধিত আইনের খসড়ায় অনুমোদন দেওয়া হয়। এ আইনের উল্লেখযোগ্য সংশোধন হচ্ছে, ১৪ বছর বয়সের নিচে কোনো শিশুকে কোনো কারখানায় নিয়োগ দেওয়া যাবে না। ১৪ বছরের নিচে কাউকে নিয়োগ দেওয়া হলে মালিকের ৫ হাজার টাকা জরিমানা হবে। ১৪ থেকে ১৮ বছর বয়সি কিশোরদের কারখানায় শ্রমিক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া যাবে। 
বাংলাদেশে শিশুরা অশিক্ষা ও দারিদ্র্যের কারণে তাদের মৌলিক অধিকার থেকে নানাভাবে বঞ্চিত হচ্ছে। দেখা যায়, যে বয়সে বই-খাতা হাতে স্কুলে যাওয়ার কথা, খেলার মাঠে নিমগ্ন হওয়ার কথা, সে বয়সে অনেক শিশুকে যেতে হয় আয়-রোজগারে, নামতে হয় ঝুঁঁকিপূর্ণ কাজে। কোমল যে হাত ভারি জিনিস বহন করতে পারে না, সেই হাতেই তুলে নিতে হয় হাতুড়ি। ভাঙতে হয় ইট কিংবা বাস, টেম্পো-লেগুনায় হেলপারের মতো কঠিন কাজও অল্প বয়সে আয়ত্ত করে নিতে হয়। 
এছাড়া কম টাকায় কাজ করানো যায় বলে শ্রমের বাজারে এসব শিশুর চাহিদাও বেশি। পরিসংখ্যান ব্যুরোর মতে, শিশু শ্রমিকদের মধ্যে বড়দের মতো কাজ করে ৮৫ শতাংশ। স্কুলে যায় না ২৪ লাখ শিশু। মজুরি পায় না ১৬ লাখ শিশু। পরিবারকে সহায়তা দিতে কাজ করে ৬৫ শতাংশ শিশু। একজন শিশু দিনে গড়ে সাড়ে ৬ ঘণ্টা কাজ করছে। কর্মক্ষেত্রে দূষিত পরিবেশে কাজ করছে ১৭ শতাংশ শিশু। কর্মক্ষেত্রে শিশুরা মালিক দ্বারা শোষিত হয়, নির্যাতনের শিকার হয়। অথচ শ্রম আইন অনুযায়ী শিশুদের ঝুঁকিপূর্ণ কাজে নিয়োগ দেওয়া যায় না। 
বোঝা যাচ্ছে, শিশুশ্রম বন্ধে আইন পাস করা হলেও তা বাস্তবায়ন যথেষ্ট কঠিন। শিশুশ্রমকে সামাজিকভাবে বর্জন করাও দুরূহ। কারণ হতদরিদ্র, অতিদরিদ্র পরিবারে মা-বাবার সহায়তায় এগিয়ে আসতে হয় শিশুকে। শিশুশ্রম বন্ধ করার জন্য আইন প্রয়োগ কার্যকর করতে হলে দরিদ্র শিশুদের বাবা-মায়ের কাজের ব্যবস্থা করা দরকার কিংবা দরিদ্র শিশুরা কাজ করে যে অর্থ পায়, সেই পরিমাণ অর্থ তার অভিভাবকদের আর্থিক সহায়তা হিসেবে দেওয়া প্রয়োজন। পুরো বিষয়টি পর্যালোচনা করে বাস্তবসম্মত পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি। রাষ্ট্র, সমাজ এবং সবার দায়িত্ব শিশুদের অধিকার রক্ষা করা। শিশুশ্রমসংক্রান্ত আইন যথাযথভাবে প্রয়োগের লক্ষ্যে সর্বস্তরে দারিদ্র্য দূরীকরণের দিকে আরও গুরুত্ব প্রদান করতে হবে।