আজকের পত্রিকাআপনি দেখছেন ৭-০৯-২০১৮ তারিখে পত্রিকা

তারকাশূন্য সাফ ফুটবল

শফিক কলিম
| খেলা

নব্বই দশকে বাংলাদেশের আলফাজ, জুয়েল রানা, ভারতের বাইচুং ভুটিয়া, আইএম বিজয়ন, মালদ্বীপের ইব্রাহিম ফজল, আহমেদ তরিক, শ্রীলঙ্কার রোশন পেরেরা, পাকিস্তানের সরফরাজ রসুলরা তারকা হয়েছেন দক্ষিণ এশিয়ার বিশ্বকাপ সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে খেলে। হালে তারকাদ্যুতি ছড়িয়ে সার্ক অঞ্চলে ‘মহাতারকা’ হয়ে উঠেছেন ভারতের সুনীল ছেত্রী, মালদ্বীপের আলি আশফাক। বাংলাদেশের জামাল ভুইয়া হয়েছেন দক্ষিণ এশিয়ার সেরা আট ফুটবলারের একজন, মামুনুলের পরিচিতি থাকলেও নিজেকে মেলে ধরতে পারেননি। সিজি-সেভেন হয়েছেন ভুটানি চেনচো জেইলশেন, বিজি-টেন নেপালের বিমল ঘাত্রি। ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে টটেনহ্যামে খেলা জেস রহমানের ক্রেজ অবশ্য মিইয়ে গেছে। ৯ বছর আগে ঢাকা সাফে খেলে গেছেন আলি আশফাকসহ সমসাময়িক আরও কিছু তারকা। পরের তিন সাফেও কম-বেশি তারকা খেলেছেন। তবে বাংলাদেশে তৃতীয় সাফ তারকাশূন্যই বলা যায়! সুনীল, আশফাক নেই; আছেন চেনচো, জেস, মামুনুল ও জামাল। কিন্তু তাদের খেলা কি মাঠে দর্শক আনতে পারছে? ধরে নেওয়া হয়েছিল এবার সুনীল ও আশফাকের দ্বৈরথ দেখতে পাবেন দর্শকরা, কেউই আসেননি! ২০১১ সালে দিল্লি সাফে ৭ গোল করে সর্বোচ্চ গোলদাতা ও টুর্নামেন্ট সেরা সুনীলের না আসার কারণ বলা হচ্ছে এএফসি কাপে ব্যাঙ্গালুরুর সঙ্গে প্রস্তুতি নিচ্ছেন। অথচ ১৩ গোল করে সাফে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ গোলদাতা, দুইবার হয়েছেন আসর সেরা। ২০০৭ ও ২০০৯ নেহরু কাপ জেতাতে অনবদ্য ভূমিকা রাখা জাতীয় দলের অধিনায়কের শুরুটা ছিল বাইচুং ভুটিয়ার ছায়ায় থেকে, এক সময় নিজেই নির্ভরতা হয়ে ওঠেন দেশের জার্সি গায়ে ১০১টি ম্যাচ খেলা সুনীল, করেছেন ৬৪ গোল। এশিয়ান কাপকে গুরুত্ব দিয়ে এশিয়ান গেমসে খেলেনি ভারত, সাফের জন্য অনূর্ধ্ব-১৭ বিশ্বকাপ খেলা চারজনকে জুড়ে দিয়েছে অলিম্পিক স্কোয়াডে। সাতবার সাফজয়ীরা খেলতে এসেছেন অপরিচিত ফুটবলার নিয়ে; অষ্টমবার বাজিমাত করতে অস্ট্রেলিয়ায় ২ মাস প্রস্তুত করানো হয়েছে দলটিকে। ইউরোপিয়ান তিনটি দলের বিপক্ষে খেলেছে প্রস্তুতি ম্যাচ। একটায় তো অস্ট্রেলিয়া অলিম্পিক দলকেও হারিয়েছে।

তবে হালে দক্ষিণ এশিয়ার সেরা তারকা আলি আশফাক; স্রেফ বিধ্বংসী বোমা। খেলেছেন ছয়টি সাফ, মোট গোল ২০টি। ২০১৩ কাঠমান্ডু সাফে তো শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ১০-০ গোলে জেতা ম্যাচে একাই করেছেন ৬টি; সাফে প্রথম ও এখন পর্যন্ত একমাত্র ডাবল হ্যাটট্রিক এটি। বয়স ৩৩, এখনও দারুণ খেলছেন ঘরোয়া ফুটবল। টিসি স্পোর্টস ক্লাবের জার্সি গায়ে চলতি মৌসুমে ২৫টি গোল। কিন্তু তাকে জাতীয় দলে নেওয়া হয়নি। কেন নেওয়া হয়নিÑ টুর্নামেন্টের অফিসিয়াল গণমাধ্যমপর্বে জার্মান কোচ স্টিভেন সেগাল বলেন, ‘আমি নিতে চেয়েছিলাম, কিন্তু সে জানায় তার বয়স হয়েছে, এখন নতুনদের সুযোগ দেওয়া উচিত।’
তবে মালদ্বীপ থেকে আসা গণমাধ্যম কর্মীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, আশফাকের না আসার কারণ ফুটবল ফেডারেশন সভাপতির সঙ্গে বনিবনা হচ্ছে না। বর্তমান সভাপতিকে সমর্থন করেন না তিনি, তার সঙ্গে মতবিরোধ রয়েছে। সভাপতির ইচ্ছাকেই আশফাককে দলে রাখা হয়নি। এটা নিয়ে মুখ খুলতে নারাজ সাফ খেলতে আসা ফুটবলাররা। কেন দলে নেইÑ প্রশ্নে ঠোঁটে আঙুল চাপলেন একজন! বললেন, আশফাক মালদ্বীপ সেরা খেলোয়াড়, এ মুহূর্তে তার মতো ভালো স্ট্রাইকার নেই। সবচেয়ে বেশি পারিশ্রমিক পান। লিগের খেলা বন্ধ রেখে সাফ খেলতে এসেছি। কিন্তু তাকে আনা হয়নি।’
একসময় সাফে বাংলাদেশি ফুটবলাররা তারকার আসনে বসেছিলেন, পরিচিত পেয়েছেন। স্ট্রাইকার আলফাজ তো মান্থ অব দ্য প্লেয়ার হয়েছিলেন। আরিফ খান জয়, রজনী কান্ত, গোলরক্ষক আমিনুল, হাসান আল মামুন, মতিউর মুন্না, আরমানরা ২০০৩ সালে চ্যাম্পিয়ন হয়ে দক্ষিণ এশিয়ায় সাড়া ফেলেছিলেন। এবার সাফে যেসব দল খেলছে তাদের সবই প্রায় তারুণ্যনির্ভর দল গড়ে এসেছেন। আগামীর কথা ভেবে দল গড়ার কারণে অনেক তারকা দল থেকে খসে পড়েছেন।