আজকের পত্রিকাআপনি দেখছেন ৭-০৯-২০১৮ তারিখে পত্রিকা

সংবাদ সম্মেলনে পরিকল্পনামন্ত্রী

প্রবৃদ্ধি ৮ শতাংশ ছাড়িয়ে যাবে

নিজস্ব প্রতিবেদক
| অর্থ-বাণিজ্য

চলতি অর্থবছর (২০১৮-১৯) শেষে মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) প্রবৃদ্ধি ৮ শতাংশ ছাড়িয়ে যাওয়ার আশা করছেন পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। একইসঙ্গে পাঁচ বছরে প্রবৃদ্ধির এ হার ৯ শতাংশে পৌঁছাবে বলেও মনে করেন তিনি।

বৃহস্পতিবার রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের এনইসি সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ আশাবাদ ব্যক্ত করেন। সংবাদ সম্মেলনে পরিকল্পনামন্ত্রী আগস্ট মাসের মূল্যস্ফীতির তথ্যও তুলে ধরেন। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) হিসাব মতে এ মাসে আগের মাস জুলাইয়ের চেয়ে মূল্যস্ফীতির হার সামান্য কমেছে।
প্রবৃদ্ধি সম্পর্কে পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, ২০২৩ সালের মধ্যে বাংলাদেশ ক্রয়ক্ষমতা সমতার দিক থেকে (পারচেজিং পাওয়ার প্যারিটি- পিপিপি) দক্ষিণ আফ্রিকা, সংযুক্ত আরব আমিরাত, সিঙ্গাপুর, ইরাক, কলম্বিয়ার মতো দেশগুলোকে পেছনে ফেলে অর্থনৈতিকভাবে সামনের দিকে এগিয়ে যাবে। এরই পথে চলতি বছর শেষে প্রবৃদ্ধি হবে ৮ দশমিক ২৫ শতাংশ। আর গেল অর্থবছরে চূড়ান্ত জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৮ শতাংশের কাছাকাছি হবে। সাময়িক হিসাবে গেল অর্থবছরে (২০১৭-১৮) ৭ দশমিক ৬৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হতে পারে বলে প্রাক্কলনে করেছিল বিবিএস।
নির্বাচনের বছরে প্রবৃদ্ধি কমতে পারে কি না এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, সব দেশেই নির্বাচন হয়, এটাই স্বাভাবিক। তাই নির্বাচনের বছরে জিডিপি প্রবৃদ্ধি যেন কমে না যায় সেদিকে সবাইকে খেয়াল রাখতে হবে। এরই মধ্যে আগামী ছয় মাসে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) প্রকল্পের টাকা সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের হিসাবে চলে গেছে। টাকার জন্য অর্থ মন্ত্রণালয় বা পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ে আসতে হবে না। তাই প্রকল্প বাস্তবায়ন নিয়ে কোনো সমস্যা হবে না। ফলে জিডিপি প্রবৃদ্ধিতে প্রভাব পড়বে না।
মূল্যস্ফীতি সম্পর্কে পরিকল্পনামন্ত্রী জানান, চলতি বছরের জুলাই মাসের তুলনায় আগস্টে সার্বিক মূল্যস্ফীতির হার কিছুটা কমেছে। তবে আগস্টে খাদ্য বহির্ভূত পণ্যের মূল্যস্ফীতি বেড়েছে। আর খাদ্যপণ্যের মূল্যস্ফীতি কিছুটা কমেছে। জুলাইয়ে সার্বিক মূল্যস্ফীতি ছিল ৫ দশমিক ৫১ শতাংশ, আগস্টে তা কমে দাঁড়িয়েছে ৫ দশমিক ৪৮ শতাংশে। অপরদিকে আগস্টে খাদ্যপণ্যে মূল্যস্ফীতি কমে দাঁড়িয়েছে ৫ দশমিক ৯৭ শতাংশ, যা জুলাইয়ে ছিল ৬ দশমিক ১৮ শতাংশ। খাদ্যবহির্ভূত পণ্যে জুলাইয়ে মূল্যস্ফীতি ছিল ৪ দশমিক ৪৯ শতাংশ, যা আগস্টে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪ দশমিক ৭৩ শতাংশে।
মূল্যস্ফীতি কমার কারণ সম্পর্কে মুস্তফা কামাল বলেন, ঈদ কেন্দ্র করে নিত্যপণ্যের দাম খুব একটা বাড়েনি। এ সময় বাজার নিয়ন্ত্রণেই ছিল। চাহিদা ও জোগানে বড় ধরনের কোনো অসামঞ্জস্যও ছিল না। আবার প্রয়োজনীয় পণ্য অনেক আগেই আমদানি করে রাখা হয়েছিল। এসব কারণে সার্বিক মূল্যস্ফীতি খুব একটা বাড়েনি।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আগস্ট মাসে পল্লি এলাকায় মূল্যস্ফীতি হয়েছে ৫ দশমিক ০৫ শতাংশ, যা শহর এলাকায় ৬ দশমিক ২৮ শতাংশ। আগের মাস জুলাইয়ে পল্লিতে ৫ দশমিক ০৪ শতাংশ এবং শহরে ৬ দশমিক ৩৭ শতাংশ মূল্যস্ফীতি হয়েছিল। আগস্ট মাসে চাল, মাছ, মাংস, ডিম, মশলা ও অন্যান্য খাদ্যসামগ্রীর দাম বেড়েছে। অন্যদিকে পরিধেয় বস্ত্র, শিক্ষা উপকরণ, বাড়ি ভাড়া, বিদ্যুৎ, পরিবহন ভাড়া, চিকিৎসা সেবাসহ বিভিন্ন পণ্য ও সেবার দাম কিছুটা বেড়েছে। ফলে খাদ্য ও খাদ্যবহির্ভূত উপখাতে কিছুটা মূল্যস্ফীতি হয়েছে। 
সংবাদ সম্মেলনে পরিকল্পনামন্ত্রী তার সাম্প্রতিক ভিয়েতনামের ভারতীয় মহাসগার সম্মেলন ২০১৮ কথা উল্লেখ করে বলেন, ২০৩০ সালের মধ্যে ভারত বিশ্বের তৃতীয় অর্থনৈতিক শক্তি দেশ হতে যাচ্ছে। এ সম্মেলনে ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলো নিয়ে একটি অর্থনৈতিক জোট গঠনের বিষয়ে দেশগুলো একমত পোষণ করেছে। পাশাপাশি এ সফরে বিশ্বব্যাপী তথাকথিত বাণিজ্যযুদ্ধ বন্ধ করতে ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলোর মধ্যে একতা ও পারস্পরিক সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়ে আহ্বান জানানো হয়েছে। তাই সফরটি ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
এ সময় পরিকল্পনামন্ত্রী ভারতীয় মহাসগার সম্মেলনে শ্রীলঙ্কার প্রধানমন্ত্রী ও ভারতে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে আলাদা বৈঠক প্রসঙ্গে বলেন, ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুষমা স্বরাজের সঙ্গে বৈঠকে দুই দেশের মধ্যকার বাণিজ্যিক বাধা দূর করাসহ বাংলাদেশের জ্বালানি নিরাপত্তা অর্জনে দেশটির সহযোগিতা অব্যাহত রাখা, চার দেশীয় পরিবহন নেটওয়ার্ক, রোহিঙ্গা সমস্যা ও আসাম ইস্যু নিয়েও আলোচনা হয়েছে। বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যকার এ বিষয়গুলো নিয়ে ভারত সরকার আন্তরিক বলে সুষমা স্বরাজ আশ্বস্ত করেছেন। অপরদিকে শ্রীলঙ্কার প্রধানমন্ত্রী রনিল বিক্রমাসিংহের সঙ্গে বৈঠকে বাংলাদেশ ও শ্রীলঙ্কার মধ্যকার দ্বিপক্ষীয় মুক্তবাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ বা ফ্রি ট্রেড এগ্রিমেন্ট) বাস্তবায়নের দ্রুতগতি আনয়নসহ উপকূলীয় জাহাজ চলাচল চুক্তির বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। এ সময় এফটিএ বাস্তবায়ন ও সমুদ্র পরিবহন সহযোগিতা চুক্তির বিষয়ে শ্রীলঙ্কার প্রধানমন্ত্রী আশ্বস্তও করেছেন।