আজকের পত্রিকাআপনি দেখছেন ৭-০৯-২০১৮ তারিখে পত্রিকা

যানবাহনে ওঠার আদব

আবু তালহা তারীফ
| ইসলাম ও সমাজ

আমরা কমবেশি সবাই যানবাহনে উঠে একস্থান থেকে অন্যস্থানে যাতায়াত করে থাকি। যাত্রাপথে বিভিন্ন রকম বিপদাপদ আমাদের হতে পারে; সেই বিপদাপদ থেকে রক্ষার জন্য ঘর থেকে বের হওয়ার সময় দোয়া পাঠ করা জরুরি। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি এই দোয়া পড়ে ঘর থেকে বের হবে সব বিপদ থেকে সে নিরাপদে থাকবে এবং ইবলিশ শয়তান তার কোনো ক্ষতি করতে পারবে না। দোয়াটি হলোÑ বিসমিল্লাহি তাওয়াককালতু আলাল্লাহি ওয়া লা হাওলা ওয়া লা কুওয়াতা ইল্লা বিল্লাহÑ অর্থাৎ আমি আল্লাহর নামে আল্লাহর ওপর ভরসা করছি, আল্লাহ শক্তি ও সমর্থ ছাড়া কারও কোনো ক্ষমতা নেই।’ (তিরমিজি : খ--২ পৃষ্ঠা-১৮০)।
আমরা যানবাহনে ওঠার সময় খুব তাড়াহুড়া করি, আগেভাগে ওঠার প্রতিযোগিতা চলে। তাড়াহুড়ার কারণে পাশে থাকা ব্যক্তি পড়ে গিয়ে যে-কোনো সময় দুর্ঘটনার শিকার হতে পারে। তাই যানবাহনে আরোহণের সময় কোনোরকমের তাড়াহুড়া না করে ধীরে ওঠা প্রয়োজন। বাহনে ওঠার সময় ও পরে করণীয় : প্রথমে বিসমিল্লাহ পড়ে পা রাখা, আসনে বসার পর আলহামদুলিল্লাহ বলা, এরপর আরোহণের দোয়া পাঠ করা, তিনবার আলহামদুল্লিালাহ ও তিনবার আল্লাহু আকবর বলা, শেষে এই দোয়া পড়াÑ ‘সুবহানাকা ইন্নি জালামতু নাফসি জুলমান কাসিরান ফাগফিরলি ইন্নাহু লা ইয়াগফিরুজ্জুনুবা ইল্লা আনতা।’ (তিরমিজি)।
রাসুলুল্লাহ (সা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বাহনে বসার পর যে দোয়া বলতেন, তা হলো ‘সুবহানাল্লাজি সাখখারা লানা হাজা ওয়া মা কুন্না লাহু মুক্করিনিন ওয়া ইন্না ইলা রাব্বিনা লামুনক্কালিবুনÑ অর্থাৎ মহান পবিত্র তিনি, যিনি আমাদের জন্য এটাকে নিয়ন্ত্রিত বানিয়ে দিয়েছেন; নতুবা আমরা তো এটাকে বশ করতে সক্ষম ছিলাম না। একদিন আমাদেরকে আমাদের প্রভুর কাছে অবশ্যই ফিরে যেতে হবে।’ (সূরা জুখরুফ : ১৩-১৪)।
নদীপথে ভ্রমণের সময়ে দোয়া পাঠ করতে হয়। মহাপ্লাবনের সময় নুহ (আ.) কে নির্দেশ করা হলো, ঈমানদারদের নৌকায় তুলে নিন। নুহ (আ.) নৌকায় এই দোয়া পাঠ করেনÑ ‘বিসমিল্লাহি মাজরেহা ওয়া মুরসাহা ইন্না রাব্বি লাগাফুরুর রাহিমÑ অর্থাৎ আল্লাহর নামেই এর গতি ও স্থিতি, আমার পানলনকর্তা ক্ষমাপরায়ণ, মেহেরবান।’ (সূরা হুদ : ৪)।
যানবাহনে বিভিন্ন স্থানে সফর করে বাড়িতে ফেরার পর নিরাপদে ভ্রমণ করতে পারায় সর্বপ্রথম আল্লাহর দরবারে শুকরিয়া আদায় করা কর্তব্য। শুকরিয়া হিসেবে দুই রাকাত নামাজ আদায় করাটা খুব উত্তম একটি কাজ। কাব ইবনে মালেক (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) সফর থেকে বাড়ি ফিরে সর্বপ্রথম মসজিদে গিয়ে দুই রাকাত নামাজ পড়তেন।’ (বোখারি ও মুসলিম)।