আজকের পত্রিকাআপনি দেখছেন ৭-০৯-২০১৮ তারিখে পত্রিকা

ভোট কবে বলার দায়িত্ব মন্ত্রীর নয় : কাদের

নির্বাচনের তারিখ বলে অর্থমন্ত্রী ঠিক করেননি : সিইসি

নিজস্ব প্রতিবেদক
| প্রথম পাতা

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তারিখ উল্লেখ করে বক্তব্য দিয়ে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত সঠিক কাজ করেননি বলে মন্তব্য করেছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কেএম নূরুল হুদা। বৃহস্পতিবার ফেমবোসা সম্মেলন শেষে সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন। ২৭ ডিসেম্বর একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে পারেÑ অর্থমন্ত্রীর এমন বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে সিইসি বলেন, নির্বাচনের তারিখ নিয়ে আমরা কথা বলিনি। আমাদের সঙ্গে কোনো আলোচনাও হয়নি। মন্ত্রী ভুল বলেছেন। সিইসি বলেন, নির্বাচনের তারিখ নিয়ে আমরা কখনও কিছু বলিনি। তার এ বিষয় কথা বলা উচিত হয়নি। নির্বাচনের তারিখ নিয়ে কথা বলে মন্ত্রী ঠিক করেননি।

উল্লেখ্য, বুধবার সচিবালয়ে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ২৭ ডিসেম্বর হতে পারে বলে মন্তব্য করেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। তিনি বলেন, এর তিন মাস আগে বর্তমান মন্ত্রিপরিষদ ভেঙে দিয়ে ছোট পরিসরের একটি মন্ত্রিপরিষদ গঠন করা হবে। তবে বর্তমান সংসদ বহাল থাকবে।

ভোট কবে বলার দায়িত্ব মন্ত্রীর নয়Ñ কাদের : আওয়ামী লীগের সাধারণ 

সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, ‘নির্বাচন কমিশনই বলবেÑ কবে নির্বাচন হবে। এটি বলার দায়িত্ব সরকার কিংবা সরকারের কোনো মন্ত্রীর নয় কিংবা দলের কোনো নেতার নয়।’ তিনি বলেন, ‘২৭ ডিসেম্বর নির্বাচনের সম্ভাব্য তারিখ, এটি নিশ্চিত হলেও তা বলার দায়িত্ব আমাদের নয়, এটি নির্বাচন কমিশনের দায়িত্ব। নির্বাচন কমিশনকে বিব্রত করা আমাদের কাজ নয়।’ বৃহস্পতিবার গুলিস্তানের বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে রাজশাহী মহানগর ও জেলা আওয়ামী লীগের নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা শেষে অর্থমন্ত্রীর দেওয়া বক্তব্যের প্রতি ইঙ্গিত করে এ মন্তব্য করেন তিনি।
অর্থমন্ত্রীর বক্তব্য নিয়ে জানতে চাইলে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘নির্বাচনকালীন সরকার কখন হবে, আকার কী হবে, আকারে কতটা ছোট হবে, মন্ত্রিসভায় কতজন থাকবেন; তা একমাত্র প্রধানমন্ত্রীর এখতিয়ার। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ছাড়া এ বিষয়ে আর কেউ জানেন না। দলের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে আমিও জানি না। তাই আমাদের যার যার এরিয়ার মধ্যে সীমিত থেকে রেসপনসিবল ভূমিকায় থাকলে দেশ, গণতন্ত্র ও সরকারের জন্য ভালো।’
জাতীয় ঐক্যে আওয়ামী লীগকে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানালে যাবে কিনাÑ সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘আওয়ামী লীগ জনগণের ঐক্যে বিশ্বাসী। জাতীয় ঐক্যের প্রয়োজন হলে আওয়ামী লীগ ডাক দেবে। এখন আওয়ামী লীগ জনগণের ঐক্য চায়। ঐক্যও হতে পারে। নির্বাচন এলে জোট হবেই।’ তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় দল আওয়ামী লীগ। তাই বড় এ দলের সমর্থকদের বাদ দিয়ে জাতীয় ঐক্য হাস্যকর। আওয়ামী লীগ ছাড়া ১৪ দল আছে। এ দলগুলোকে বাদ দিয়ে যেটা হবে, তা হলো সাম্প্রদায়িক ঐক্য। জাতীয় ঐক্যের নামে সাম্প্রদায়িক মেরুকরণ হচ্ছে। আওয়ামী লীগকে বাদ দিয়ে জাতীয় ঐক্য হয় নাকি? জাতীয় ঐক্য এ শব্দগুলো ব্যবহার না করাই ভালো।’ তিনি আরও বলেন, নির্বাচনে অনিয়ম, কারচুপি একমাত্র বিএনপির পক্ষে শোভা পায়। আওয়ামী লীগের ইতিহাসে অনিয়ম, জালিয়াতি নেই। নির্বাচনে কারচুপি করে ক্ষমতায় গেছে বিএনপি।
সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার প্রতিযোগিতায় দলের অভ্যন্তরে শৃঙ্খলায় বিচ্যুতি ঘটেছে জানিয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, রাজশাহীর নেতাদের ডাকার নিশ্চয় কোনো কারণ আছে। প্রতিযোগিতা অসুস্থতা-অস্থিরতার দিকে যাচ্ছে। এমন অবস্থায় দলের নেতাদের ডাকতেই হবে। নির্বাচন করার ইচ্ছা থাকতেই পারে, শুধু একজনই মনোনয়ন চাইবেন, তা তো নয়। অন্যরাও চাইতে পারেন। দলের ফান্ডে ২৫ হাজার টাকা করে দিতে হয়, এবার এর পরিমাণ বাড়ানো হতে পারে। নতুন কমিটি গঠনের বিষয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, শূন্যতা না থাকলে নির্বাচন পর্যন্ত কোনো কমিটি ভাঙা যাবে না। নতুন কোনো কমিটিও করা যাবে না। আর নিজেদের মধ্যে দলাদলি করে এক গ্রুপ আরেক গ্রুপকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করা, এটি কঠোরভাবে বন্ধ করতে হবে। বরগুনায় একটি ঘটনা ঘটেছে এবং আরেকটি ঘটনা ঘটেছে দিনাজপুরে। তা দল মোটেও গ্রহণ করবে না।
আওয়ামী লীগের রাজশাহী বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত সাংগঠনিক সম্পাদক খালিদ মাহমুদ চৌধুরী, দপ্তর সম্পাদক আবদুস সোবহান গোলাপ, রাজশাহী সিটি করপোরেশনের মেয়র ও মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন, আওয়ামী লীগের সংস্কৃতিবিষয়ক সম্পাদক অসীম কুমার উকিল, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সম্পাদক আবদুস সবুর প্রমুখ এ সময় উপস্থিত ছিলেন।