আজকের পত্রিকাআপনি দেখছেন ৭-০৯-২০১৮ তারিখে পত্রিকা

ট্রাফিক পুলিশের সঙ্গে রাস্তায় শিক্ষার্থীরাও

রাজধানীর সড়কে ফিরছে শৃঙ্খলা

আলমগীর হোসেন
| প্রথম পাতা

বৃহস্পতিবার দুপুর ২টা। কারওয়ানবাজারের সার্ক ফোয়ারা মোড়। রাজধানীর অন্যতম ব্যস্ততম এ মোড়ের বিভিন্ন পয়েন্টে স্কাউট ও স্কুল-কলেজের পোশাকে রাস্তার শৃঙ্খলা ফেরাতে কাজ করছিলেন বেশকিছু শিক্ষার্থী। তাদের কারও কারও হাতে ছিল বাঁশি ও হ্যান্ড মাইক। বাঁশি ফুঁ দিয়ে সতর্ক করার পাশাপাশি হ্যান্ড মাইকে জনগণকে নানা সচেতনতামূলক পরামর্শ দিচ্ছিলেন তারা। এসব শিক্ষার্থীর আশপাশেই মূলত ট্রাফিক ব্যবস্থার নিয়ন্ত্রণে কাজ করছিলেন ট্রাফিক পুলিশের সদস্যরা। প্রায় একইভাবে রাজধানীর বিজয় সরণির মোড়, শাহবাগ, ফার্মগেটসহ বিভিন্ন সড়কের শৃঙ্খলা রক্ষায় ট্রাফিক পুলিশের সহযোগী হিসেবে কাজ করতে দেখা যায় শিক্ষার্থীদের। এভাবে রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ ব্যস্ত মোড়গুলোয় সড়কের শৃঙ্খলা ফেরানোর নানা উদ্যোগ লক্ষ্য করা গেছে। এসব উদ্যোগের ফলে সড়কে আগের চেয়ে কিছুটা শৃঙ্খলাও ফিরেছে বলে মনে করছেন সাধারণ মানুষ।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সড়কে শৃঙ্খলা ফেরানোর উদ্যোগের নানা পদক্ষেপের মধ্যে সমন্বিতভাবে ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা, নিয়মিত যানবাহনের ফিটনেস পরীক্ষা, রেজিস্ট্রেশন, লাইসেন্স পরীক্ষার কার্যক্রম চলছে। পাশাপাশি ট্রাফিক আইন সম্পর্কে জনসচেতনতা বৃদ্ধি, গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোয় ফুটওভার ব্রিজ বা আন্ডারপাস নির্মাণসংক্রান্ত কাজ চলছে। এর বাইরেও ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) কমিশনার মো. আছাদুজ্জামান মিয়া মঙ্গলবার রাজধানীর অভ্যন্তরে লেগুনা গাড়ি চলাচল বন্ধের নির্দেশ দেওয়ার পাশাপাশি হেলমেট ব্যতিত মোটরসাইকেলে তেল না দেওয়ার জন্য ফিলিং স্টেশনগুলোকে নির্দেশ দেন। সেটিও বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এসব পদক্ষেপের ফলে এরই মধ্যে রাজধানীর কিছু কিছু সড়কে আগের চেয়ে কিছুটা হলেও শৃঙ্খলা ফিরেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। এ প্রসঙ্গে ডিএমপির গণমাধ্যম শাখার উপকমিশনার (ডিসি) মো. মাসুদুর রহমান জানান, ডিএমপির ট্রাফিক বিভাগ রাজধানীর সড়কগুলোয় শৃঙ্খলা ফেরাতে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। সিগন্যাল ব্যবস্থা কার্যকর করা, নিয়মিত অভিযান, জনসচেতনতা বৃদ্ধিসহ নানা কর্মকা- পরিচালনা করা হচ্ছে। এসব কার্যক্রমের ফলে  রাজধানীর সড়কগুলোর শৃঙ্খলা আগের চেয়ে কিছুটা উন্নতি হয়েছে।
বুধ ও বৃহস্পতিবার রাজধানীর বিভিন্ন সড়ক ঘুরে দেখা যায়, মোড়ের ট্রাফিক সিগন্যাল মানার প্রবণতা আগের চেয়ে কিছুটা বেড়েছে। অবশ্য পুলিশও এ ক্ষেত্রে আগের চেয়ে বেশি সোচ্চার ছিল। তল্লাশি চৌকি কিংবা রাস্তার পাশেও যানবাহন আটকে কাগজপত্র পরীক্ষা ও মামলা-জরিমানা করতেও দেখা যায়। কাগজপত্র পরীক্ষা বা তল্লাশির ক্ষেত্রে মোটরসাইকেলের সংখ্যায় ছিল বেশি। যদিও দুর্ঘটনা বা সড়কে হতাহতের ক্ষেত্রে যাত্রীবাহী বাসের ভূমিকা বেশি লক্ষ্য করা যায়। এ কারণে শিক্ষার্থী আন্দোলনের ওই সময়ে যাত্রীবাহী বাসের বিরুদ্ধেই জোরাল অভিযান দেখা গিয়েছিল। একশ্রেণির বাস বা পরিবহনের বেপরোয়া চলাচল, কিশোর চালকের লাইসেন্স বা ড্রাইভিং দক্ষতা ও গাড়ির ফিটনেসসহ নানা অসঙ্গতির বিরুদ্ধেই সাধারণ মানুষের আঙুল উঠেছিল। তবে বর্তমানে বাস, ট্রাক, পিকআপের চেয়ে মোটরসাইকেলের দিকেই নজর বেশি দিচ্ছে ট্রাফিক পুলিশ।
২৯ জুলাই ঢাকা সেনানিবাসসংলগ্ন সড়কে জাবালে নূর পরিবহনের বাসের চাপায় শহীদ রমিজউদ্দিন কলেজের দুই শিক্ষার্থী দিয়া খানম মিম ও আবদুল করিম রাজীব নিহত হন। এ দুই শিক্ষার্থীর অকাল মৃত্যুর প্রতিবাদ ও নিরাপদ সড়কের দাবিতে ওই ঘটনার পরপরই রাজধানীর বিভিন্ন সড়কে নেমে আসেন স্কুল-কলেজের হাজার হাজার শিক্ষার্থী। পরে বেসরকারি বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাও এতে যোগ দেন। ক্রমে নিরাপদ সড়কের দাবির এ আন্দোলন ছড়িয়ে পড়ে সারা দেশে। রাজধানীর সড়কের প্রায় সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নেন শিক্ষার্থীরা। শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে এক সপ্তাহ ঢাকার সড়ক অচল থাকে। এসব ঘটনার পর নড়েচড়ে বসে সংশ্লিষ্ট সংস্থা তথা সরকার। আন্দোলনের মুখে সরকার সড়কে নিরাপত্তায় কয়েকটি সিদ্ধান্ত নেয়। বৃহস্পতিবার বাসচাপায় শহীদ রমিজউদ্দিন ক্যান্টনমেন্ট কলেজের দুই শিক্ষার্থীর মৃত্যুর মামলায় চালক, মালিকসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দিয়েছে পুলিশ। এ মামলার তদন্ত কর্মকর্তা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) পরিদর্শক কাজী শরীফুল ইসলাম ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতে এ অভিযোগপত্র দাখিল করেন।