আজকের পত্রিকাআপনি দেখছেন ৭-০৯-২০১৮ তারিখে পত্রিকা

ইউনূসের কারণে বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র বাণিজ্য ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে : অর্থমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
| প্রথম পাতা

নোবেল বিজয়ী অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে গ্রামীণ ব্যাংকের চেয়ারম্যান না করায় আমেরিকা থেকে চাপ এসেছিল বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। তিনি বলেন, ড. ইউনূসের কারণে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র আমাদের কোটামুক্ত জিএসপি সুবিধা বন্ধ রেখেছে। তবে তারপরও বাংলাদেশ এগিয়ে গেছে। গ্রামীণ ব্যাংকও ভালো আছে। বৃহস্পতিবার সচিবালয়ের অর্থ মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে আয়োজিত গ্রামীণ ব্যাংকের শেয়ারের ডিভিডেন্ড প্রদান অনুষ্ঠান শেষে তিনি সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন। এ সময় তিনি ২০ দিনের মধ্যে নির্বাচনকালীন সরকার ও ২৭ ডিসেম্বর ভোট হতে পারে বলে বুধবার একটি অনুষ্ঠানে যে মন্তব্য করেছেন সেটি অনুমান থেকে করা বলে জানান। পাশাপাশি যুক্তফ্রন্টের দাবিদাওয়া যুক্তিযুক্ত নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি। গ্রামীণ ব্যাংকের পক্ষ থেকে ব্যাংকটির ২০১৭ সালের লভ্যাংশ ৬ কোটি ২৪ লাখ টাকা সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়া উপলক্ষে ওই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। ডিভিডেন্ড হস্তান্তর করেন গ্রামীণ ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক বাবুল সাহা।

অনুষ্ঠানে ড. ইউনূসের প্রসঙ্গে অর্থমন্ত্রী বলেন, আইন অনুযায়ী ৬০ বছর বয়সে ড. ইউনূসের অবসরে যাওয়ার কথা। গ্রামীণ ব্যাংকের এমডির বয়স সম্পর্কে তিনি নিজেই প্রস্তাব দিয়েছিলেন। আমরা শুধু অনুমোদন করেছি। আমরা কোনো প্রস্তাব দিইনি। সে অনুযায়ী ১৯৯২ সালে যখন অডিট হলো বাংলাদেশ ব্যাংক পয়েন্ট আউট করল, সব ঠিক আছে, কিন্তু এমডি তো অবৈধভাবে এখানে অবস্থান করছেন। কিন্তু এভাবেই চলতে থাকল। কেউ কোনো অ্যাকশন নেয়নি। ২০০৯ সালে আমি মন্ত্রী হওয়ার পর এ ব্যাপারে অ্যাকশন নিলাম। অ্যাকশন নেওয়ার আগে ড. ইউনূসসহ কয়েকজনকে আমি পরামর্শ দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছিলাম। ড. ইউনূস তখন প্রস্তাব দিলেন, আপনি (অর্থমন্ত্রী) আমাকে রিজাইন করার প্রস্তাব দিতে পারেন। আমি রিজাইন করব অথবা আমি নিজেই করব। সেইসঙ্গে তিনি আরেকটি প্রস্তাব দিয়ে বললেন, গ্রামীণ ব্যাংকের জন্মলগ্ন থেকেই আমি জড়িত। তাই এটির চেয়ারম্যান করা হোক আমাকে। 
অর্থমন্ত্রী বলেন, বিষয়টি সরকারি মহলে আমি উপস্থাপন করলাম। কিন্তু এটিতে সরকারি মহলের আপত্তি ছিল। সরকারি মহল থেকে বলা হলো, না, নতুন চেয়ারম্যান হওয়া উচিত। বিষয়টি আমি তাকে জানালাম। কিন্তু তিনি এটিকে খুশি মনে গ্রহণ করলেন না। তবে আমি প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা না করেই তাকে অফার দিলাম, গ্রামীণ ব্যাংকে বিশাল অবদানের খাতিরে আপনাকে ‘মেম্বার ইমেরিটাস’ অথবা ‘ফেলো ইমেরিটাস’ সামথিং অব দি গ্রামীণ ব্যাংক করে দেব। তাহলে আপনার সম্মানটা থাকল, আমাদের সম্পর্কও থাকল। তিনি সময় নিয়ে ‘না’ করে দিলেন। বললেন, না, আমি কোর্টে যাব। কোর্টে যাওয়ার পর সেটি টিকল না। তারপর আমেরিকা থেকেও এ ব্যাপারে চাপ এসেছিল বলে জানান মন্ত্রী। তিনি বলেন, আমি যতবার আমেরিকা যাই ততবারই স্টেট ডিপার্টমেন্ট থেকে লোকজন এসে আমার সঙ্গে দেখা করেন, কথা বলেন। তারা বাংলাদেশের প্রশংসা করেন। সবশেষে বলেন, আপনার সঙ্গে আমাদের একটি ইস্যু নিয়ে কথা বলার আছে। সে ইস্যু হলো, ড. ইউনূস। ট্রাম্প আমেরিকার প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর আর এ ইস্যু ওঠেনি। আমিও রিলিফ পেয়েছি।
গ্রামীণ ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ নির্বাচন করাকে অর্থমন্ত্রী ‘মহা বিপদ’ উল্লেখ করে বলেন, ড. ইউনূস দায়িত্বে থাকাকালীন তিনিই বোর্ড অব ডিরেক্টর নমিনেট করে দিতেন। তারা ড. ইউনূসের এতই আস্থাভাজন ছিলেন যে, কেউ কোনো শব্দ করতেন না। কিন্তু আমরা দেখলাম এভাবে চলতে পারে না। তখন আমরা সিদ্ধান্ত নিলাম বোর্ড অব ডিরেক্টর গঠন করার। কিন্তু ওখানে বোর্ড অব ডিরেক্টর নির্বাচন করা মহা বিপদ। কারণ গ্রামীণ ব্যাংকের মেম্বার হলেন লাখো-কোটি। আমরা একটা প্রক্রিয়ার মধ্যে যেতে চেয়েছিলাম। তাও হতে দিলেন না ড. ইউনূস। তবে আমরা মোটামুটিভাবে নির্বাচন করে ফেলেছি।
ড. ইউনূসের প্রসঙ্গ টেনে অর্থমন্ত্রী বলেন, ড. ইউনূসকে ব্যাংকের চেয়ারম্যান করার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করার কারণে আমেরিকার চোখে বাংলাদেশ এখনও কালো তালিকাভুক্ত। তারা আমাদের কোটামুক্ত জিএসপি সুবিধা দেয়নি। গ্রামীণ ব্যাংকে ড. ইউনূসের সময় মানুষ টাকা নিয়ে মুরগির ব্যবসা, হাঁসের ব্যবসা ইত্যাদি করত। আর ড. ইউনূস দেশে-বিদেশে ৩০ থেকে ৪০টি প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠা করেছেন। 
তিনি বলেন, এখন সময় পরিবর্তন হয়েছে। ইকোনমি পরিবর্তন হয়েছে। এখন আর গ্রামীণ ব্যাংকের টাকা দিয়ে মানুষ হাঁস-মুরগির ব্যবসা করে না। তারা এখন বিগ এন্টারপ্রাইজেস করেন। তাদের প্রফিটও অনেক হাই। তাই প্রত্যেক বছরই আমরা গ্রামীণ ব্যাংক থেকে কিছু না কিছু ডিভিডেন্ড পেয়ে থাকি।
সাংবাদিকরা বুধবার অর্থমন্ত্রীর নির্বাচন নিয়ে মন্তব্যের ব্যাপারে প্রশ্ন করলে তিনি বলেন, এটি অনুমান থেকে করেছি। নির্বাচনকালীন সরকার গঠনের সিদ্ধান্ত নেবেন প্রধানমন্ত্রী ও ভোটের তারিখ ঘোষণা করবে নির্বাচন কমিশন।