আজকের পত্রিকাআপনি দেখছেন ৭-০৯-২০১৮ তারিখে পত্রিকা

বাংলাদেশ ১ : ০ পাকিস্তান

দারুণ জয়ে জেগে উঠল বাংলাদেশ

শফিক কলিম
| প্রথম পাতা

সাফ সুজুকি কাপে নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে বৃহস্পতিবার পাকিস্তানকে ১-০ গোলে হারানোর পর গোলদাতা তপু বর্মণকে ঘিরে সতীর্থদের উল্লাস ষ বাফুফে

ব্রিটিশ কোচ জেমি ডে’র পরিকল্পনা ছিল লম্বা থ্রোইনে বিশ্বনাথ বল বক্সে ফেলবে, ফ্লিক করবে বাদশা, পেছন থেকে রাশ করবেন তপু। কাল সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে পাকিস্তানের বিপক্ষে ৮৫ মিনিটে এভাবেই গোল করেছে বাংলাদেশ। গোলের পর বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামে মুক্তিযুদ্ধের এক টুকরো রণক্ষেত্র বানালেন তপু বর্মণ, ওয়ালী, জামাল, সাদরা।

দারুণ এক জয়, দেশের ফুটবলে দিনবদলের গান। আপ্লুত গোলদাতা তপু, পাকিস্তানের বিপক্ষে ঘরের মাঠে না হারার রেকর্ডও অক্ষত রাখলেন দেশের। শুধু গোল করা নয়, উদযাপনও পরিকল্পিত। গোল করলে গোলদাতা গুলি করবেন, চারজন মারা যাবেন; গোল করতে পারলে জার্সি খুলে ফেলবেন তপুÑ ফাঁস করলেন নিজেই!

পাকিস্তান ফুটবলাররা চাচ্ছিলেন ম্যাচ ড্র রাখতে, অপেক্ষায় ছিলেন শেষ বাঁশির, তখন শেষ ম্যাচে ভুটানকে হারিয়ে ‘এ’ গ্রুপ সেরা হয়ে সেমিফাইনাল খেলবে তারা, নেপাল পরীক্ষা বাংলাদেশের। ড্র চাই ম্যাচে; ভুটানকে হারালে পাকিস্তান অনুগামী হবে স্বাগতিকদের।
হারলেও অখুশি না পাকিস্তান কোচ হোসে অ্যান্তনিও নুগেইরা, বলেছেন, ‘দারুণ ম্যাচ, দুই দলেরই জয়ের সমান সম্ভাবনা ছিল, স্নায়ুর চাপও ছিল কিছুটা, কেউ ঝুঁকি নিতে চায়নি। ফলে খেলা বেশিরভাগ সময় মাঝমাঠে হয়েছে। গোলটা ছিল অপ্রত্যাশিত।’ 
ভুটানকে হারানোর পর লাল-সবুজ ফুটবলারদের ওপর প্রত্যাশা বেড়ে গিয়েছিল। কাল পাকিস্তানের বিপক্ষে ম্যাচের টিকিটের জন্য হুমড়ি খেয়ে পড়েন সমর্থকরা, ২০ টাকার টিকিট কালোবাজারে ১০০ টাকায় কিনে মাঠে ঢুকেছেন। ভুভুজেলার ভোঁ ভোঁ, আর ‘বাংলাদেশ, বাংলাদেশ’ চিৎকারে উজ্জীবিত ছিলেন স্বাগতিক ছেলেরা। প্রথমার্ধে কিছুটা চাপে থাকলেও দ্বিতীয়ার্ধে নতুন বাংলাদেশ দেখেন সমর্থকরা, দারুণ খেলেছেন সুফিল-বিপলু-সাদ-জামালরা।
তবে আধুনিক ফুটবলের সঙ্গে যে যোজন দূরত্ব বাংলাদেশের, দেখালেন ইউরোপে খেলা পাকিস্তানি চার ফুটবলার। সাদ-সুফিল-বিপলুরা বল পেয়ে মাথা নিচু করে ছুটেছেন; পাকিস্তানিরা দেখেছেন সতীর্থদের অবস্থান, যেখানে বল ফেলতে চেয়েছেন, পেরেছেন। শারীরিক শক্তি প্রয়োগ করে, কৌশলে প্রতিপক্ষের পা থেকে বল কেড়ে নিয়েছেন। তবুও পাকিস্তান কোচের চোখে বাংলাদেশ স্বাগতিক সুবিধা পেয়েছে, দারুণ খেলেছেন জামাল, সাদ, মামুনুল। জামালকে ব্লক করার চেষ্টা করলেও ধরে রাখতে পারেননি শিষ্যরা। প্রতি আক্রমণে ফল পেয়েছে বাংলাদেশ।
জেমি ভুটান ম্যাচের একাদশ খেলাতে চাইলেও চোটগ্রস্থ ফাহাদের স্থান নেন মামুনুল, খেলেছেন রক্ষণের উপরে মিডফিল্ডের পেছনে, আরেক ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডার জামাল। তপু ও বাদশার দুই পাশে তরুণ বিশ্বনাথ ও অভিজ্ঞ ওয়ালী ফয়সাল ওভারল্যাপ করে আক্রমণে ধার বাড়ানোর চেষ্টা করেছেন। সুফিলকে সামনে রেখে বিপলু, সাদ ও জনি মিডফিল্ডে। শারীরিক উচ্চতা ও স্কিলে পারবে না জেনে গতি দিয়ে প্রতিপক্ষ সীমানায় হানা দেওয়ার চেষ্টা করলেও দীর্ঘদেহী ডিফেন্ডার মহসিন-নাভেদ-জেস রহমান-শাহবাজ দেয়াল ভাঙতে পারেনি তারা।
বরং স্নায়ুর চাপে ভুগে বারবার ভুল পাস দিয়ে প্রতিপক্ষের পায়ে বল জমা দিয়েছেন; বিশেষ করে বাদশা ও তপুর মধ্যে বারবার ভুল বোঝাবুঝি দেখা গেছে, সুযোগে বল ধরেই স্বাগতিক সীমানায় দ্রুত আক্রমণে গেছেন ইউরোপে খেলা মোহাম্মদ আলী, আদিল, নাসির। মূলত এ চার ফুটবলারই দুই দলের মধ্যে পার্থক্য গড়ে দিয়েছেন। তাছাড়া পাকিস্তানি ফুটবলাররা শারীরিক শক্তি প্রয়োগ করে খেলার প্রবণতা ছিল, যা ইউরোপিয়ান লিগে দেখা যায়। ঢাকার ফুটবলে এমন কা-ে নিয়মিত হলুদ কার্ড দেখান রেফারিরা।
 সাত থেকে আট বছরে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বাংলাদেশ শেষ দিকে গোটা দশেক গোল হজম করেছে। চিত্র পাল্টে গেছে, এখন নিয়মিত করছে! সমস্যা কেটে গেছেÑ মনে করেন তপু। পাল্টে যাওয়ার নেপথ্য নায়ক ব্রিটিশ কোচ; কঠোর পরিশ্রমের ফল দেখছেন তিনি।
তবে প্রথমার্ধে বারবার কেঁপে উঠেছিল বাংলাদেশ শিবির, তিনবার ভালো সুযোগ পেয়েছিল পাকিস্তান। প্রতিবারই ত্রাতা ছিলেন গোলরক্ষক শহীদুল সোহেল, একটা তো অবিশ্বাস্য। সর্বশেষ নীলফামারীতে বাজে গোল হজমে তার দলে থাকা নিয়ে সমালোচনা চলছিল চারদিকে। প্রতিপক্ষ পোস্টে স্বাগতিকদের শট ছিল দুর্বল, দূরপাল্লার, সহজে লুফে নিয়েছেন গোলরক্ষক। যা-ই হোক, শারীরিক সক্ষমতা কাজে লাগিয়ে শিষ্যরা দারুণ খেলেছে, এটা নেপাল ম্যাচেও দেখতে চান তিনি। প্রত্যাশাÑ সারা দেশের মানুষের।
বাংলাদেশ : সোহেল, তপু, বাদশা, ওয়ালী, বিশ্বনাথ, জামাল, মামুনুল, বিপলু (ইমন), জনি, সুফিল (রনি), সাদ।