আজকের পত্রিকাআপনি দেখছেন ৭-০৯-২০১৮ তারিখে পত্রিকা

কারাগারে আদালত নতুন কিছু নয় -প্রধানমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
| প্রথম পাতা

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার বিচারের প্রসঙ্গে আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘অপরাধী অপরাধীই; তার বিচার হবেই। এখানে কোনো রাজনীতি নেই, প্রতিহিংসা নেই।’ কারাগারে আদালত বসানো প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘কারাগারে আদালত বসিয়ে বিচারÑ এটা নতুন কিছুু নয়; বাংলাদেশে এর আগেও কারাগারে আদালত বসিয়ে বিচার করা হয়েছে। বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের সময়েই এরকম বিচার হয়েছে।’ বৃহস্পতিবার প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন গণভবনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সভার সূচনা বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ কার্যনির্বাহী কমিটির নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

বিএনপি নেতাদের বক্তব্যের জবাবে আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা বলেন, খালেদা জিয়ার মামলার বিচারে কোনো রাজনীতি নেই, কোনো প্রতিহিংসা নেই। সে এতিমের টাকা খেয়েছে বলেই আদালত তাকে সাজা দিয়েছেন। সে যদি নির্দোষ হতো তাহলে তার আইনজীবীরাই প্রমাণ করতে পারত যে, সে নির্দোষ। কাজেই অপরাধীর সাজা তো হবেই।

মঙ্গলবার বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া আদালতে বলেন, ‘আমাকে সাজা দেওয়ার জন্যই এখানে আদালত বসানো হয়েছে। এখানে ন্যয়বিচার নেই। আপনাদের যা মন চায়, আমাকে ততদিন ইচ্ছা সাজা দিয়ে দেন। আমি অসুস্থ; বারবার আদালতে আসতে পারব না।’ এর জবাবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ‘এটা কোন ধরনের কথা? একজন মানুষ যিনি সংবিধান মানেন, আইন মানেন, তিনি কীভাবে বলেন যে, আমি আদালতে যাব না; আপনারা পারলে সাজা দিয়ে দেন।’ তিনি বলেন, ‘আমার নামেও তো মামলা ছিল। কই আমি তো পালিয়ে যাইনি। তিনি কোনো কোর্টে যান না? অপরাধী বলেই তিনি আদালতে যান না। খালেদা জিয়ার অপরাধী মন!’
আদালতে খালেদা জিয়ার সময় বিএনপি আইনজীবীদের না আসা প্রসঙ্গে আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, ‘বিএনপির অনেক আইনজীবী খালেদা জিয়ার হাজিরা সময়ে আসেন না। এটা বুঝতে হবে যে, হয় আইনে লড়াইয়ে তাকে নিরপরাধ প্রমাণ করতে পারবে না, অথবা তাকে বয়কট করেছে।’ বিএনপির প্রতিষ্ঠা নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, ‘অসাংবিধানিক প্রক্রিয়ায় যে দলের জন্ম, সে দলের নিকট থেকে সংবিধানের কথা শুনতে হয়। খালেদা জিয়ার সঙ্গে যে গৃহ পরিচারিকা থাকে, তাকে কোন আইনের বলে তার সঙ্গে রাখেন? খালেদা জিয়া ঘুমাতে পারবেন না বলে বিশেষ আর্থোপেডিক গদি সরবরাহ করেছি; এটা কোন আইনে আছে? এটা কী তিনি জানতেন না? অথচ খালেদা জিয়া যখন ক্ষমতায় ছিলেন, তখন বিমান বাহিনীর প্রধান, সাবেক রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ ও রওশন এরশাদকে কারাগারের ফ্লোরে রেখেছেন।’ প্রধানমন্ত্রী এ সময় বিএনপি নেতাদের এ মিথ্যা অপপ্রচার থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানান।
যুক্তফ্রন্ট ও ড. কামাল হোসেনের জোট প্রসঙ্গে বঙ্গবন্ধুকন্যা বলেন, ‘আমরা চাই আওয়ামী লীগের একটি শক্তিশালী প্রতিপক্ষ থাকুক। আমরা চাই তারা নির্বাচনে অংশ নিক। কিন্তু তারা যেন বিএনপি-জামায়াতের ওপর ভর না করে।’ ড. কামালের নাম উল্লেখ না করে তাকে ইঙ্গিত করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘তিনি নিজে সংবিধান প্রণেতা হিসেবে দাবি করেন, কিন্তু তিনি সংবিধানের বাইরে গিয়ে ক্ষমতা চান কীভাবে? ওই খাল কেটে কুমির আর আনতে দেব না।’ বৈঠক সূত্র জানায়, আওয়ামী লীগের এ জরুরি সভায় দলের সাংগঠনিক ও আগামী নির্বাচনে দলীয় কর্মকা- নিয়ে আলোচনা হয়। সভায় আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদকরা নিজ নিজ এলাকার সাংগঠনিক অবস্থা তুলে ধরেন। 
স্থানীয় সরকার নির্বাচনের জন্য দলীয় প্রার্থীর নাম ঘোষণা : স্থানীয় সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ের আসন্ন উপনির্বাচনে দলীয় প্রার্থী ঘোষণা করেছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। বৃহস্পতিবার বিকালে গণভবনে আওয়ামী লীগের স্থানীয় সরকার মনোনয়ন বোর্ডের সভায় প্রার্থীদের তালিকা চূড়ান্ত করা হয়। আওয়ামী লীগের স্থানীয় সরকার মনোনয়ন বোর্ডের সভাপতি ও দলীয় সভাপতি শেখ হাসিনা সভায় সভাপতিত্ব করেন। পরে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে চূড়ান্ত প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করা হয়। দলটির দপ্তর সম্পাদক আবদুস সোবহান গোলাপ স্বাক্ষরিত ওই সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, কিশোরগঞ্জের তাড়াইল উপজেলার উপনির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে মো. আজিজুল হক ও সিলেটের গোলাপগঞ্জ পৌরসভায় মেয়র পদে জাকারিয়া আহমদকে মনোনীত করেছে আওয়ামী লীগ। এছাড়া দিনাজপুরের বীরগঞ্জ উপজেলার পাল্টাপুর ইউনিয়ন পরিষদে চেয়ারম্যান পদে মো. তোফাজ্জল হোসেন ও রাজশাহীর পবা উপজেলার হুজুরীপাড়া ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে মো. গোলাম মোস্তফাসহ মোট ৯টি ইউনিয়ন পরিষদে চেয়ারম্যান পদে দলীয় মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে।