আজকের পত্রিকাআপনি দেখছেন ৭-০৯-২০১৮ তারিখে পত্রিকা

অবৈধ যানে আতঙ্কের মহাসড়ক

আলোকিত ডেস্ক
| প্রথম পাতা

মহাসড়কে ইজিবাইক ও নছিমন-করিমন চলাচল বন্ধ হয়নি। যশোর-ঝিনাইদহ মহাসড়কের এ চিত্র প্রতিদিনের। মঙ্গলবারের ছবি ষ আলোকিত বাংলাদেশ

উচ্চ আদালত কিংবা সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের নির্দেশÑ কোনো কিছুকেই পাত্তা না দিয়ে মহাসড়কে চলছে ইজিবাইক, নছিমন, করিমনের মতো অবৈধ যানবাহন। এতে করে ঘন ঘন সড়ক দুর্ঘটনা এবং প্রাণহানির সংখ্যা কোনোভাবেই নিয়ন্ত্রণে আনা যাচ্ছে না। মহাসড়কে অবৈধ যান চলাচল এখন আতঙ্কে পরিণত হয়েছে। এদিকে অভিযোগ রয়েছে, থানা পুলিশ, হাইওয়ে পুলিশ, ট্র্রাফিক পুলিশ ও রাজনৈতিক নেতাদের নিয়মিত মাসোহারা দিয়ে মহাসড়কে অবৈধ যানবাহন চলাচল করছে। বিস্তারিত ব্যুরো ও প্রতিনিধিদের পাঠানো খবরেÑ 

রূপগঞ্জ : ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলার টাটকি থেকে বান্টি পর্যন্ত ১৭ কিলোমিটার এলাকা এখন অরক্ষিত। মহাসড়কের এ অংশে চলাচলে নিষিদ্ধ ব্যাটারিচালিত ইজিবাইক, রিকশা, অটোরিকশা, নসিমন, বটবটি আর লেগুনা দাপিয়ে বেড়াচ্ছে। রয়েছে ফিটনেসবিহীন লক্কড়ঝক্কড় গণপরিবহনের অবৈধ স্ট্যান্ড। মানা হয় না কোনো ট্রাফিক আইনকানুন। এ কারণে প্রতিনিয়ত সৃষ্টি হচ্ছে যানজট, ঘটছে দুর্ঘটনা আর প্রাণহানি। 

সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়, উপজেলার ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের ভুলতা থেকে সাওঘাট পর্যন্ত মাত্র এক কিলোমিটার জায়গায় মহাসড়কের দু’পাশে ১৪টি অবৈধ ও ফিটনেসবিহীন যানবাহনের পরিবহন স্ট্যান্ড তৈরি করা হয়েছে। এছাড়া এ মহাসড়কে রূপগঞ্জ অংশজুড়ে পরিবহন স্ট্যান্ড রয়েছে অন্তত ৩০টি। এসব স্ট্যান্ড থেকে টাকা উঠানোর জন্য রয়েছে অন্তত ৩০ থেকে ৪০ জন লাইনম্যান। তারা দিনে ১৫ থেকে ১৬ লাখ টাকা আর মাসে কমপক্ষে ৫ কোটি টাকা চাঁদা আদায় করছেন। এ কারণে এ  মহাসড়কে সরকারি নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে বড় বড় যানবাহনের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে চলছে অবৈধ এসব যানবাহন। অভিযোগ রয়েছে, রূপগঞ্জ থানা পুলিশ, ভুলতা ফাঁড়ি পুলিশ, হাইওয়ে পুলিশসহ পুলিশের বিভিন্ন সংস্থা, কার্ডধারী কিছু সাংবাদিক, স্থানীয় পাতি নেতা থেকে শুরু করে ক্ষমতাসীন দলের শীর্ষ অনেক নেতার পকেটে যায় এ অবৈধ যানবাহন থেকে উত্তোলনকৃত চাঁদার টাকা। অনিয়ম করে অবৈধ পরিবহন স্ট্যান্ড বসানোর কারণে মহাসড়কের এ অংশে যানজট এখন নিত্যদিনের ঘটনা। এছাড়া ট্রাফিক নিয়ম ভঙ্গ করে মহাসড়কে এসব পরিবহন চলাচলের কারণে প্রতিদিনই ঘটছে দুর্ঘটনা। গেল ৩ মাসে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের এই অংশে দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন ১৬ জন। এ ব্যাপারে ভুলতা ট্রাফিক পুলিশ বক্সের ইনচার্জ ইন্সপেক্টর মাহবুব শাহ বলেন, অবৈধ যানবাহন কোনোভাবেই বন্ধ রাখতে পারছি না। স্থানীয় কয়েকজন প্রভাবশালী নেতা এসব যানবাহন থেকে চাঁদা নিয়ে মহাসড়কে চলাচল করার সুযোগ করে দিয়েছে। তবে পুলিশ নিষিদ্ধ যানবাহন মহাসড়কে উঠলেই জরিমানা করছেন। এ ব্যাপারে কাঁচপুর হাইওয়ে থানার ওসি কাইয়ুম আলী জানান, মহাসড়কে নিষেধাজ্ঞা থাকার পরও পুলিশের চোখ ফাঁকি দিয়ে কিছু নিষিদ্ধ যানবাহন চলাচল করে। আমরা এসব যানবাহনের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত রেখেছি। 
যশোর : সরেজমিন দেখা গেছে, যশোর-ঝিনাইদহ মহাসড়কে আগের মতোই চলছে নসিমন, করিমন ও আলমসাধু। শহরের পালবাড়ি থেকে ছেড়ে যাওয়া এসব যানবাহন ঝিনাইদহ মহাসড়ক ধরে সাতমাইল, বারোবাবাজার যাতায়াত করছে। প্রশাসনের বাধা না থাকায় মহাসড়ক দাবড়ে বেড়াচ্ছে এসব বৈধ-অবৈধ যানবাহান। একইভাবে যশোর-বেনাপোল, যশোর-সাতক্ষীরা, যশোর-খুলনা, যশোর-নড়াইল, যশোর-মাগুরা মহাসড়কেও প্রশাসনের সামনে চলাচল করছে নসিমন, করিমন, আলমসাধু। পথচারীরা জানান, এভাবে মহাসড়কে বৈধ-অবৈধ যানবাহন চলাচলের কারণে প্রায়ই ঘটছে দুর্ঘটনা। এ বিষয়ে যশোরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সালাউদ্দিন বলেন, বিভিন্ন সময় অভিযান চালানো হচ্ছে। আটক করা হচ্ছে অবৈধ যানবাহন।
কালিয়াকৈর : আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে অবাধে চলাচল করছে সিএনজি অটোরিকশাসহ তিন চাকার বিভিন্ন যানবাহন। সরেজমিন কয়েকজন লেগুনা, সিএনজি, অটোরিকশা চালক ও স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গাজীপুর জেলার ওপর দিয়ে বয়ে গেছে ঢাকা-টাঙ্গাইল ও ঢাকা-ময়মনসিংহ গুরুত্বপূর্ণ দুটি মহাসড়ক। এর মধ্যে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের গাজীপুরের চান্দনা চৌরাস্তা, কোনাবাড়ি ও কালিয়াকৈর উপজেলার মৌচাক, সফিপুর, পল্লীবিদ্যুৎ, চন্দ্রা, কালিয়াকৈর বাইপাস, সূত্রাপুর এবং কালিয়াকৈর-নবীনগর সড়কের বাড়ইপাড়া, জিরানী এলাকায় অবৈধ লেগুনা, তিন চাকার সিএনজি ও অটোরিকশা স্টেশন রয়েছে। নিষেধাজ্ঞা থাকার পরও প্রতিদিন এ মহাসড়কে অবাধে চলাচল করছে শত শত এসব অবৈধ যানবাহন। এসব যানবাহন চালকদের বেশিভাগেরই ড্রাইভিং লাইসেন্স নেই। হাইওয়ে থানা, থানা পুলিশ, রাজনৈতিক নেতাদের মাসোহারা দিয়ে এসব অবৈধ লেগুনা, তিন চাকার সিএনজি ও অটোরিকশা নির্বিঘেœ এ মহাসড়কে চলছে। এতে প্রায়ই সড়ক দুর্ঘটনা ঘটছে। সৃষ্টি হচ্ছে যানজটও। সিএনজি চালকরা বলেন, পুলিশকে মাসোহারা দিয়েই মহাসড়কে চালাচ্ছেন সিএনজি, অটোরিকশাগুলো। চালকদের নাকি প্রতি মাসে বিভিন্ন রংয়ের টোকেনও দেওয়া হয়। এছাড়া এসব গাড়ি আটক করলে ৫০ থেকে ১০০ টাকা দিলেই ছেড়ে দেয় পুলিশ। তবে চালকদের এ দাবি প্রত্যাখ্যান করে পুলিশ বলছে, আইন ভাঙ্গ?ার প্রবণতা থেকেই সিএনজি চালকরা এ অপতৎপরতা চালাচ্ছে। বড় যানবাহনের চালকদের দাবি, সরকার বারবার নিষেধ করায় অবৈধ তিন চাকার যান থামানো যাচ্ছে না। এক্ষেত্রে আইন-প্রয়োগে অবহেলাকে দায়ী করেন তারা। গাজীপুর হাইওয়ে জোনের এএসপি এসএম বদরুল আলম বলেন, ব্যাটারিচালিত রিকশা, সিএনজি, লেগুনাসহ সব অবৈধ যানবাহন পর্যায়ক্রমে বন্ধ করে দেওয়া হবে। ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে এসব যানবাহন ধরে প্রকাশ্যে নিলামে উঠানো হবে। 
সাভার : ঢাকা-আরিচা ও নবীনগর-চন্দ্রা মহাসড়কে দূরপাল্লার ও দ্রুতগতির আধুনিক সব যানবাহনের পাশাপাশি ধীরগতির ছোট ছোট যান চলাচল থামছেই না। পুলিশের অভিযানেও বন্ধ হচ্ছে না ছোট ছোট এসব যান চলাচল। এ কারণে প্রায়ই ঘটছে ছোট গাড়িকে ধাক্কা বা চাপা দেওয়ার মতো দুর্ঘটনা, হচ্ছে প্রাণহানি। সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়, সাভারে আমিনবাজার, হেমায়েতপুর, গেন্ডা, বাজার রোড, রেডিও কলোনিসহ সব পয়েন্টে মহাসড়কের পাশেই রয়েছে ধীর গতির যানবাহনের স্ট্যান্ড। হাইওয়ে পুলিশের নাকের ডগাতেই চলছে ছোট ও ধীরগতির সব যান। হাইওয়ে পুলিশের অনেক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অভিযোগ আছে, ধীরগতির যানবাহনের চালকদের কাছ থেকে সুবিধা নিয়ে তাদের মহাসড়কে চলাচলের সুবিধা দেওয়ার। আর পুলিশের সঙ্গে রফাদফার মধ্যস্থতা করেন স্থানীয় প্রভাবশালীরা। ধীরগতির যান নিয়ে হাইওয়ে পুলিশের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার মনোয়ার হোসেন বলেন, ঢাকা-আরিচা ও নবীনগর-চন্দ্রা মহাসড়ক অত্যন্ত ব্যস্ততম সড়ক। এ সড়ক দুইটিতে ধীরগতির যানবাহন ঠেকাতে পুলিশ কাজ করছে। আগের চেয়ে মহাসড়ক এখন অনেক ভালো। 
মানিকগঞ্জ : মহাসড়কে তিন চাকার যানবাহন (থ্রি-হুইলার) চলাচল নিষেধ থাকলেও ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে অবাধে চলছে এসব অবৈধ যানবাহন। এসব যানবাহনের জন্য দূরপল্লার দ্রুতগতির যানবাহনের ধীর গতি ও দুর্ঘটনার শিকার হতে হয়। তবে পুলিশ বলছে, মহাসড়কে তিন চাকার ও অবৈধ যানবাহন চলার সুযোগ নেই। সরেজমিন দেখা যায়, ঢাকা-আরিচা মহসড়কের বারোবাড়িয়া থেকে পাটুরিয়া ফেরিঘাট পর্যন্ত অটোসিএনজি, হ্যালোবাইক, টেম্পো ও ব্যাটারিচালিত রিকশাসহ বিভিন্ন ধরনের তিন চাকাবিশিষ্ট যানবাহন চলাচল করছে। ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে দ্রুতগতি ও অতিরিক্ত যাত্রী নিয়ে চলাচল করাসহ বিভিন্ন অনিয়ম দেখা যায়। বাসচালকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের সাটুরিয়া উপজেলার নয়াডিঙ্গি থেকে শিবালয় উপজেলার পাটুরিয়া ঘাট পর্যন্ত বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ বাসস্ট্যান্ড রয়েছে। তিন চাকা ও অবৈধ যানবাহনের জন্য এসব বাসস্ট্যান্ডে প্রতিদিনই ছোট-বড় দুর্ঘটনা ঘটে। আর কোনো দুর্ঘটনা ঘটলে বড় যানবাহনের চালকদের উপর দায় পড়ে। জেলজুলুম ও ক্ষতিপূরণ দিতে হয় চালকদের। মানিকগঞ্জ হাইওয়ে থানার ওসি হাবিবুর রহমান বলেন, মহাসড়কে তিন চাকার ও অবৈধ যানবাহন চলাচলের কোনো সুযোগ নেই। নিয়মিত চেকপোস্ট বসিয়ে চেক করা হচ্ছে। তিন চাকার অথবা অবৈধ যানবাহন দেখা গেলেই আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। 
রাঙ্গুনিয়া : বিভিন্ন অভ্যন্তরীণ সড়কে দ্রুতগামী বিভিন্ন অবৈধ যানবাহনের বিরুদ্ধে অভিযানে নেমেছে পুলিশ। রবিবার (২ সেপ্টেম্বর) দিনব্যাপী অভিযানে ১০টি অবৈধ চাঁদের গাড়ি (জিপ) জব্দ করা হয়েছে। এসব গাড়ির বিরুদ্ধে মামলা দেওয়া হয়েছে বলে পুলিশ জানায়। সড়কে দ্রুতগামী অবৈধ নছিমন, চাঁদের গাড়ি, ভটভটি, ব্যাটারিচালিত গাড়িসহ অবৈধ যানবাহনের কারণে বিভিন্ন সময় দুর্ঘটনার মুখে পড়ছে সাধারণ মানুষ। এসব গাড়ির কারণে নষ্ট হচ্ছে সড়ক, দিন দিন বাড়ছে যানজট। তাই এসব গাড়ি চলাচল বন্ধে বিশেষ এ অভিযান চালানো হচ্ছে বলে জানায় পুলিশ। 
খুলনা : মহানগরের রয়েল মোড় থেকে ফুল মার্কেট, ডাকবাংলো ফেরিঘাট মোড় থেকে পিকচার প্যালেস, সেখান থেকে থানার মোড়, বাংলাদেশ ব্যাংক, সিটি করপোরেশন, স্টেডিয়াম এবং আদালতপাড়া ও জেলখানা ঘাটÑ সবখানেই এখন যানজট নিত্যনৈমিত্যিক বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। এ যানজটের মূল উপাদান হিসেবে ইজিবাইক ও ব্যাটারিচালিত রিকশাই মুখ্য ভূমিকা পালন করছে। নগরীতে চলাচলরত ত্রি-চক্র যান থ্রি হুইলার ফোর স্ট্রোক গাড়ির মধ্যে রয়েছে মাহিন্দ্রা, অতুল, নন্দি, পিয়াজিও, টিভিএস ও সিএনজি। মাত্রাধিক দ্রুতগতিতে চালানোর কারণে রাস্তায় অন্যান্য যানবাহনের চালক ও পথচারীরা আতঙ্কগ্রস্ত হয়ে পড়ে। ট্রাফিক আইন ও সিগনালের কোনো ধরনের তোয়াক্কা করে না এসব থ্রি-হুইলার ফোর স্ট্রোক গাড়ির চালকরা। এ কারণে নগরীর বিভিন্ন মোড় ও রাস্তায় ছোটখাটো দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছেন সাধারণ মানুষ। বর্তমানে নগরীতে ১১ শতাধিক ফোর স্ট্রোক থ্রি-হুইলার গাড়ির লাইসেন্স দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন বিআরটিএ খুলনার সহকারী পরিচালক মো. আবুল বাশার। পর্যায়ক্রমে ২ হাজার ৫০০ পর্যন্ত চলাচলের অনুমতি দেওয়ার সিদ্ধান্ত রয়েছে। তবে এসব গাড়ির বেপরোয়া গতির বিষয়ে তিনি কোনো মন্তব্য করেননি।
রংপুর : রংপুরে সড়ক মহাসড়কগুলোতে ব্যাপক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে অবৈধ নছিমন, করিমন, মুড়িরটিন, মোটরসাইকেল, অটোরিকশা, ট্রলি-ট্রাক্টর চলাচল। সড়কে এসব যানের উপস্থিতি গণমানুষের স্বাভাবিক চলাফেরায় বিঘœ ঘটাচ্ছে। এসব পরিবহনের রুট পারমিট না থাকলেও সড়ক-মহাসড়ক দাপিয়ে বেড়াচ্ছে। সংশ্লিষ্ট প্রশাসন চোখের সামনে অবৈধ এসব যানের অবাধ চলাচল করলেও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করছে না। অভিযোগ রয়েছে, অবৈধ এসব যানবহন মালিকের কাছে মাসোহারা আদায়ের কারণেই এদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয় না। ফলে প্রতিনিয়ত ঘটছে দুর্ঘটনা। পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান বলেন, সড়কে অবৈধ যানের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করে মালিক ও চালকদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার চেষ্টা করছি। মাসোহারা আদায়ের ব্যাপারে তিনি বলেন, এ বিষয়ে আমি কিছু জানি না। কেউ কখনও অভিযোগ করেনি। তবে কারও বিরুদ্ধে অভিযোগ পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। 
প্রতিবেদনটি তৈরিতে সহযোগিতা করেছেন, রূপগঞ্জ প্রতিনিধি রিয়াজ হোসেন, যশোরের প্রতিনিধি তবিবর রহমান, কালিয়কৈর প্রতিনিধি সাগর আহম্মেদ, সাভার প্রতিনিধি মাহফুজুর রহমান নিপু, মানিকগঞ্জ প্রতিনিধি মো. আজিজুল হাকিম, রাঙ্গুনিয়া প্রতিনিধি জগলুল হুদা, খুলনা ব্যুরোর মুহাম্মদ নুরুজ্জামান ও রংপুর ব্যুরোর আবদুর রহমান।