আজকের পত্রিকাআপনি দেখছেন ৭-০৯-২০১৮ তারিখে পত্রিকা

পাখি ও মাছ ঝাঁক বেঁধে চলে কেন

আলোকিত ডেস্ক
| শেষ পাতা

আকাশে পাখি বা পানিতে মাছের ঝাঁক দেখলে অসাধারণ বিন্যাস চোখে পড়ে। তাদের এ আচরণের কারণ এতকাল অজানা ছিল। এবার আধুনিক প্রযুক্তি প্রয়োগ করে গবেষণার মাধ্যমে সেই রহস্য মোচনের চেষ্টা শুরু হয়েছে।

এক ঝাঁক স্টার পাখি, দেখলে মনে হবে কেউ যেন জাদুর কাঠি দিয়ে তাদের সুন্দর এক নকশা অনুযায়ী সাজিয়ে তুলছে। হাজার হাজার পাখি আকাশে যেন নাচছে। পানিতেও এমন নকশা দেখা যায়। প্রাণীরা দলবদ্ধভাবে নিখুঁত কারুকার্য সৃষ্টি করে, যা মানুষের ক্ষমতার বাইরে।

কিন্তু প্রাণীরা কীভাবে এবং কেন এমনটা করে? জার্মানির কনস্টানৎস শহরে মাক্স প্লাংক ইনস্টিটিউটের জীববিজ্ঞানী অ্যালেক্স জর্ডান সেই প্রশ্নের উত্তর খুঁজছেন। তিনি মাছের ঝাঁক নিয়ে গবেষণা করছেন। তাদের মাঝে সাঁতার কাটার জাদুময় অভিজ্ঞতা সত্যি ভোলার নয়। অ্যালেক্স স্মৃতিচারণ করে বলেন, ‘তারা ছন্দময় এক প্যাটার্নে আমার চারপাশে ঘুরে বেড়াচ্ছিল। সাঁতার কাটতে কাটতে আমি তার শব্দ শুনতে পেলাম। চোখের সামনে শুধু মাছের প্রাচীর দেখতে পেলাম। নাটকীয় ও অসাধারণ সেই অভিজ্ঞতা।’

এ যেন নিত্য পরিচালক ছাড়াই কোরিওগ্রাফি! কিন্তু কীভাবে সেটা সম্ভব হয়? অতীতে মানুষ সহজ নিয়মের আশ্রয় নিয়ে প্রাণীর ঝাঁকের আচরণ ব্যাখ্যা করার চেষ্টা করত। যেমন, সবাই নাকি সর্দারকে অনুসরণ করে! অথবা শত্রুকে এড়িয়ে যেতে প্রাণীরা নাকি ঝাঁকে ঘোরাফেরা করে। আজ সেই মনোভাব বদলে গেছে। অ্যালেক্স জর্ডান বলেন, ‘আমরা জানি, এমন প্রণালিতে প্রত্যেক প্রাণীর স্বকীয় বৈশিষ্ট্য রয়েছে। তারা যেভাবে তথ্য বিশ্লেষণ করে বা প্রতিক্রিয়া দেখায়, তা মোটেও এক নয়। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই তাদের আচরণে স্বয়ংক্রিয় কোনো প্রক্রিয়া নেই। আজ আমরা তাদের পর্যবেক্ষণ করার সময়ে প্রত্যেকটি প্রাণীর ওপর লক্ষ্য রেখে আলাদা করে তাদের গতিবিধি বিশ্লেষণ করতে পারি। তার ভিত্তিতে প্রশ্ন করতে পারি।’
এ গবেষণার অন্যতম ফল হিসেবে জানা গেছে, প্রাণীরা টিকে থাকতেই ঝাঁকের মধ্যে ঘোরে। অ্যালেক্স জর্ডান ভিডিও ক্যামেরায় মাছের গতিবিধির ছবি তোলেন। এক সফটওয়্যার সেই ছবিতে প্রত্যেকটি মাছকে আলাদা করে শনাক্ত করতে পারে। অ্যালেক্স বলেন, ‘এমনই একটি দৃশ্য দেখে কম্পিউটার অ্যালগরিদম একটি মাছের আচরণ তুলে ধরতে পারে। তার পরিচয়, তার অবস্থান, ঝাঁকে একটি মাছের আচরণের ফলে পরিবর্তন সম্পর্কে বাকিদের প্রতিক্রিয়া কী হয়, সেসব জানিয়ে দিতে পারে।’
মাছ কখন ঝাঁকের মধ্যে বাকিদের অনুসরণ করবে, কখন বা আলাদা হয়ে যাবেÑ কীভাবে তারা সেই সিদ্ধান্ত নেয়? এ প্রশ্নের জবাব এখনও পাওয়া যায়নি। তবে সিচিল্ডস মাছ যে দলবদ্ধ হয়ে বেশ মজা পায়, তা বেশ স্পষ্ট। ঝাঁকের মধ্যে তারা যে শক্তিশালী, সেই বোধ হয়তো তাদের আছে। সূত্র : ডয়েচে ভেলে