আজকের পত্রিকাআপনি দেখছেন ৭-০৯-২০১৮ তারিখে পত্রিকা

বরিশালে ডেঙ্গু আতঙ্ক

কোটি টাকার বাজেট হলেও মশা নিধন হচ্ছে না

| শেষ পাতা

ষ বরিশাল ব্যুরো

 

মশা নিধনে প্রতি বছর বরিশাল সিটি করপোরেশনে (বিসিসি) কোটি টাকার বাজেট হয়। কিন্তু নিধন হচ্ছে না মশা। ওষুধ কতটুকু ক্রয় করা হয়, কোথায় ছিটানো হয় তার কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্যও পাওয়া যায় না বিসিসির দায়িত্বশীলদের কাছ থেকে। ওষুধের সংকট দেখিয়ে ৬ মাস ধরে মশা নিধন কার্যক্রম পুরোপুরি বন্ধ রাখা হয়েছে। এর আগে সীমিত পরিমাণ মশার ওষুধ ছিটানোর সুবিধা পেতেন নগরীর প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তা ও ভিআইপি বাসিন্দারা। করপোরেশনের নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে, মশক নিধনের একটি বড় অংশ মজুত করে রাখা হয়েছে দীর্ঘদিন।

অভিযোগ রয়েছে, বিসিসির স্বাস্থ্য বিভাগের শীর্ষ পর্যায়ের কয়েকজন কর্মকর্তার সীমাহীন দুর্নীতিতে মশা নিধন কার্যক্রম ২ বছর আগে স্থবির হয়ে পড়েছে। এমনকি বরিশালসহ সারা দেশে মশাবাহিত ডেঙ্গু ভাইরাসজনিত রোগ আতঙ্ক দেখা দিলেও এর প্রতিরোধ কিংবা নিয়ন্ত্রণে বিসিসিতে কোনো উদ্যোগও নেওয়া হয়নি। যদিও শেবাচিম হাসপাতালের তথ্যমতে, জ¦রে আক্রান্ত হয়ে রোগী ভর্তির সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নিয়েছে কর্তৃপক্ষ। গেল সপ্তাহে সদর আসনের এমপি জেবুন্নেছা আফরোজের ব্যক্তিগত কর্মকর্তা অভি ডেঙ্গু আক্রান্ত হওয়ায় তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় প্রেরণ করা হয়েছে।

বিসিসির প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. মতিউর রহমানও স্বীকার করেছেন মশা নিধন কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। তবে কবে থেকে বন্ধ তা তিনি জানেন না। এমনকি সর্বশেষ ২০১৭-১৮ অর্থবছরে মশা নিধনের ওষুধ ক্রয়ে বাজেটের পরিমাণও তার জানা নেই। ডেঙ্গু প্রতিরোধ প্রতিরোধে এ পর্যন্ত কোনো পদক্ষেপ নিয়েছেন কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, বিষয়টি নিয়ে আমরা চিন্তাভাবনা করছি। 
বিসিসির সহকারী পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা মো. ইউসুফ জানান, ওষুধ না থাকায় ৬ মাস আগে মশা নিধন কার্যক্রম বন্ধ করে দেওয়া হয়। এ কার্যক্রমের জন্য দপ্তরের ২০ কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং মাঠ পর্যায়ে ৬০ জন (৩০ ওয়ার্ডের প্রতি ওয়ার্ডে দুইজন করে) কর্মী আছেন। মশা নিধনে ওষুধ ছিটানো বন্ধু থাকায় এ জনবল বিসিসির অন্য কয়েকটি শাখায় কাজ করছেন।
সহকারী পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা আরও জানান, মশার বংশবিস্তার রোধ করতে ড্রেন ও নর্দমা ও বাসাবাড়ির ঝোপ-জঙ্গলে ওষুধ ছিটানো হতো। এজন্য ব্যবহার করা হতো ফকার ও হ্যান্ড স্প্রে মেশিন। পর্যাপ্ত পরিমাণ ফকার ও হ্যান্ড স্প্রে মেশিন থাকলেও ওষুধ না থাকায় সেগুলো ব্যবহার করা যাচ্ছে না। তবে বিসিসির একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র জানায়, ৮০ থেকে ৯০ লিটার ওষুধ অ্যানেক্স ভবনের একটি কক্ষে মজুত রয়েছে। নিয়মানুযায়ী প্রতি লিটার ওষুধে ২০ লিটার পানি মিশিয়ে ব্যবহার করা হয়। সে হিসাবে ১ হাজার ৬০০ লিটার ওষুধ প্রয়োগের সুযোগ থাকলেও রহস্যজনক কারণে সেগুলো ব্যবহার করছেন না প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা।
নগর ভবনের হিসাব শাখা সূত্রে জানা গেছে, ২০১৭-১৮ অর্থবছরে বিসিসির বাজেটে মশা নিধনের ওষুধ ক্রয়ে সম্ভাব্য ব্যয় ধরা হয়েছিল ১ কোটি ২০ লাখ টাকা। এ অর্থবছরে ওষুধ ক্রয়ে কোনো দরপত্র হয়নি। তবে বিভিন্ন প্রক্রিয়ায় মাত্র ৩ লাখ ২০ হাজার টাকার ওষুধ ক্রয় করা হয়েছে। এর আগে ২০১৬-১৭ অর্থবছরে মশা নিধনের ওষুধ ক্রয়ে ১ কোটি টাকা প্রস্তাবিত বাজেট থাকলেও ক্রয় হয়েছে ৭ লাখ ৮০ হাজার টাকার ওষুধ। তবে ২০১৬-১৭ অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটে ওষুধ ক্রয় ব্যয় দেখানো হয়েছে ১০ লাখ ৪০ হাজার টাকা। আরও জানা গেছে, কাগজপত্রে ওষুধ ক্রয় দেখানো হলেও অনেক ক্ষেত্রেই ক্রয় হয়নি। যেটুকু ক্রয় হয় তা প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর শীর্ষ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের সন্তুষ্ট রাখতে তাদের দপ্তর ও বাসভবনে ব্যবহƒত হয়। বরিশাল সম্মিলিত সামাজিক আন্দোলনের সাধারণ সম্পাদক কাজী এনায়েত হোসেন শিবলু বলেন, নগরীতে সীমিতভাবে মশার ওষুধ নিধনের সুবিধা পান প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তারা। স্থানীয় কাউন্সিলদের পছন্দের ভিআইপিরাও কিছু সুবিধা পান। অথচ বছরের পর বছর মশার ওষুধ ছিটানো থেকে বঞ্চিত হচ্ছে সাধারণ মানুষ। এ খাতে যে বাজেট বরাদ্দ হচ্ছে তা কেউ জানে না। এ প্রসঙ্গে জানতে মেয়র আহসান হাবিব কামালের মোবাইল ফোনে কল দেওয়া হলে তিনি রিসিভ করেননি।