আজকের পত্রিকাআপনি দেখছেন ৭-০৯-২০১৮ তারিখে পত্রিকা

মাঠে ২১ মনোনয়ন প্রত্যাশী

আবু তাহের, কিশোরগঞ্জ
| শেষ পাতা

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে কিশোরগঞ্জ-৫ (নিকলী-বাজিতপুর) আসনের মনোনয়ন প্রত্যাশীরা মাঠে নেমেছেন। তারা নিজেদের প্রার্থিতা জানান দিতে পোস্টার, ফেস্টুন ও নানা মাধ্যমে শুভেচ্ছা দিয়ে এলাকাবাসীকে জানাচ্ছেন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেইসবুকেও চলছে প্রচার-প্রচারণা। এ আসনে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির ১৬ মনোনয়ন প্রত্যাশী মাঠে রয়েছেন। তাছাড়া জাতীয় পার্টি, কমিউনিস্ট পার্টি, জামায়াতে ইসলামী, বাসদ ও মুসলিম লীগের পাঁচ মনোনয়ন প্রত্যাশী মাঠে তৎপর রয়েছেন। সব মিলিয়ে এ আসনে মাঠে সরব রয়েছেন ২১ মনোনয়ন প্রত্যাশী। 

বাজিতপুর ও নিকলী উপজেলা নিয়ে গঠিত কিশোরগঞ্জ-৫ আসন। ১৯৭৩ সালে এ আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী নির্বাচিত হয়েছিলেন। এরপর ২০০৮ সাল পর্যন্ত এ আসনটি ছিল আওয়ামী লীগের হাতছাড়া। ২০০১ সালের নির্বাচনে প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিল্লুর রহমান এ আসনে নির্বাচন করে পরাজিত হয়েছিলেন। ২০০৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এ আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে জয়লাভ করে বাজিমাত করেন বিশিষ্ট ব্যবসায়ী আফজাল হোসেন। এরপর ২০১৪ সালের নির্বাচনে আফজাল হোসেন আবারও বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন। পরপর দুইবার নির্বাচিত হওয়ায় এলাকায় তিনি ব্যাপক উন্নয়ন করেছেন। তাছাড়া ঘন ঘন এলাকায় এসে দলীয় কর্মকা-ে ও সরকারের উন্নয়ন কর্মকা-ে অংশ নিচ্ছেন। দলীয় নেতাকর্মী ও সাধারণ জনগণের সঙ্গে মিশে কাজ করছেন। তিনি বাজিতপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের আহ্বায়ক হিসেবে সবক’টি ইউনিয়নে সম্মেলনের মাধ্যমে কমিটি করেছেন। ছাত্রলীগ, যুবলীগসহ আওয়ামী লীগ ও অঙ্গসহযোগী সংগঠনগুলোকে শক্তিশালী করতে কাজ করে যাচ্ছেন। আগামীতেও তিনিই আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পাচ্ছেন এমন গুঞ্জন রয়েছে সর্বত্রই। 

এ আসনে বর্তমান সংসদ সদস্য আফজাল হোসেন ছাড়াও আওয়ামী লীগের আরও ছয় মনোনয়ন প্রত্যাশী মাঠে সরব রয়েছেন। এদের মধ্যে ১৯৯১ ও ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেয়েও পরাজিত হওয়া, বর্তমানে জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি আলাউল হক, জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ও বাজিতপুর উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট নুরুন্নবী বাদল, কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের বন ও পরিবেশবিষয়ক উপকমিটির সদস্য ও সাবেক ছাত্রনেতা শহীদুল্লাহ মুহাম্মদ শাহ নূর, বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক অজয় কর খোকন, জেলা কৃষকলীগের সহ-সভাপতি ফারুক আহমেদ ও কেন্দ্রীয় যুবলীগের সাবেক নেতা ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিল্টনের নাম আলোচনায় রয়েছে। তারা নিজেদের মতো করে এলাকায় কাজ করে যাচ্ছেন। 
আগামী নির্বাচনের প্রস্তুতি সম্পর্কে এ আসনের বর্তমান সংসদ সদস্য আফজাল হোসেন জানান, তিনি স্বচ্ছতার সঙ্গে রাজনীতি করছেন। শেখ হাসিনার উন্নয়নের বিশাল ছোঁয়া নিকলী ও বাজিতপুরে লেগেছে। নিঃস্বার্থভাবে দলীয় নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের পাশে তিনি সব সময়ই থাকছেন। আগামী নির্বাচনে মনোনয়ন পাওয়ার ব্যাপারে আশাবাদী জানিয়ে তিনি বলেন, দল মনোনয়ন দিলে বিপুল ভোটে জয়ী হব। আওয়ামী লীগের আরেক মনোনয়ন প্রত্যাশী নুরুন্নবী বাদল সরকারের উন্নয়ন চিত্র তুলে ধরছেন। তিনি জানান, তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করে যাচ্ছেন। দলের জন্য তিনি নিবেদিতভাবে কাজ করছেন। দল মূল্যায়ন করলে তিনি মনোনয়ন পাওয়ার ব্যাপারে আশাবাদী। আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী শহীদুল্লাহ মুহাম্মদ শাহ নূর এলাকায় বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক, ধর্মীয় এবং রাজনৈতিক অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে নিজের পক্ষে জনসমর্থন আদায়ে জোর চেষ্টা করে যাচ্ছেন। শাহ নূর জানান, তিনি পদ ও সুবিধাবঞ্চিত নেতাকর্মীদের নিয়ে দলীয় কোন্দল নিরসন করে বঙ্গবন্ধুর আদর্শ বাস্তবায়নে কাজ করছেন। জাতির জনকের স্বপ্নের সোনার বাংলা বির্নিমাণে নিজেকে বিলিয়ে দিতেই এবার তিনি মনোনয়ন চাইবেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মনোনয়ন দিলে তিনি বিজয়ী হবেন বলে জানান। 
অপরদিকে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বিএনপির ৯ জন মনোনয়ন প্রত্যাশী মাঠে সরব রয়েছেন। তারা বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তি ও নিরপেক্ষ সরকারের অধীনেই নির্বাচনে যাওয়ার কথা ভাবছেন। বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশীরা হলেন, জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি, কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও বাজিতপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি শেখ মজিবুর রহমান ইকবাল, জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি সালেহুজ্জামান খান রুনু, জেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক, নিকলী উপজেলা বিএনপির সভাপতি ও বিএনপি দলীয় সাবেক এমপি আমির উদ্দিন আহমেদের ছেলে অ্যাডভোকেট বদরুল মোমেন মিঠু, নিকলী উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি হাজী মো. মাসুক মিয়া, বাজিতপুর পৌরসভার সাবেক মেয়র এহেসান কুফিয়া, সাবেক এমপি মজিবুর রহমান মঞ্জুর ছেলে বাজিতপুর উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি মাহমুদুর রহমান উজ্জ্বল, কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সাবেক সহ-সভাপতি ইশতিয়াক আহমেদ নাসির, কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সাবেক তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক শফিকুল আলম রাজন, সাবেক ছাত্রনেতা ও জেলা বিএনপির সদস্য বদরুল আলম শিপু। তারা সবাই নিজেদের লোকজন নিয়ে মাঠে সরব রয়েছেন। 
বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশী শেখ মুজিবুর রহমান ইকবাল মাঝে মাঝে এলাকায় এসে দলীয় কর্মকা- ও এলাকার দলীয় নেতাকর্মীসহ সর্বস্তরের মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ করে যাচ্ছেন। ইকবাল জানান, ২০০৮ সালের নির্বাচনে তিনি দলীয় মনোনয়ন পেয়েছিলেন। পরে নেত্রীর কথায় প্রয়াত সংসদ সদস্য মুজিবুর রহমান মঞ্জুকে সমর্থন করে তিনি সরে দাঁড়িয়েছিলেন। এবার তিনি দলীয় মনোনয়ন পাওয়ার ব্যাপারে আশাবাদী। মনোনয়ন পেলে আসনটি উদ্ধার করতে সক্ষম হবেন। বিএনপির আরেক মনোনয়ন প্রত্যাশী অ্যাডভোকেট বদরুল মোমেন মিঠু আন্দোলনে ভূমিকা ও এলাকাবাসীর সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন। মিঠু জানান, তিনি মাঠে কাজ করছেন। আগামী নির্বাচনে দল ত্যাগী কর্মীদের মূল্যায়ন করলে তিনি মনোনয়ন পাবেন। মনোনয়ন প্রত্যাশী শিল্পপতি হাজী মাসুক মিয়া এলাকায় এসে বিএনপি ও সর্বস্তরের মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন। মাসুক মিয়া জানান, তিনি তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীদের নিয়ে কাজ করছেন। দলীয় নেতাকর্মীসহ সাধারণ মানুষের আপদে বিপদে পাশে থাকছেন। আগামী নির্বাচনে দল মনোনয়ন দিলে আসনটি উদ্ধার করতে পারবেন। বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশী এহেসান কুফিয়া সরকারবিরোধী আন্দোলন করতে গিয়ে ডজনখানেক মামলার আসামি হয়েছেন। এসব মামলায় বেশ ক’বার তিনি কারাবরণ করেছেন। এহেসান কুফিয়া জানান, খালেদা জিয়ার মুক্তির পরই বিএনপি নির্বাচনে যাবে। তিনি রাজপথে আছেন। দল তা মূল্যায়ন করলে তিনিই মনোনয়ন পাবেন। 
এ আসনে আওয়ামী লীগ বিএনপি ছাড়াও জাতীয় পার্টি, বাংলাদেশ কমিউনিস্ট পার্টি, জামায়াতে ইসলামী, বাসদ, বাংলাদেশ মুসলিম লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশীরা মাঠে সরব রয়েছেন। জাতীয় পার্টির মনোনয়ন প্রত্যাশী হিসেবে মাঠে রয়েছেন নিকলী উপজেলা জাতীয় পার্টির সভাপতি ও জেলা কমিটির সদস্য অ্যাডভোকেট মাহবুবুল হক। তিনি জানান, আগামী নির্বাচনকে সামনে রেখে তিনি এলাকায় কাজ করে যাচ্ছেন। দল মনোনয়ন দিলে তিনি নির্বাচন করবেন। অপরদিকে ২০ দলীয় জোটের শরিক দল জামায়াতের জেলা কমিটির আমির অধ্যক্ষ রমজান আলী এ আসনে মনোনয়ন চাইবেন। তিনি এলাকাবাসীকে গণমাধ্যমসহ বিভিন্নভাবে শুভেচ্ছা জানাচ্ছেন। কমিউনিস্ট পার্টি থেকে কিশোরগঞ্জ পৌর মহিলা কলেজের শিক্ষক ফরিদ আহমেদ মনোনয়ন চাইবেন। দল মনোনয়ন দিলে তিনি নির্বাচন করবেন বলে জানিয়েছেন। এ আসনে মনোনয়ন চাইবেন বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোটের শরিক বাংলাদেশ মুসলিম লীগের সভাপতি এএইচএম কামরুজ্জামান খান খসরু। তিনি পূর্ব পাকিস্তানের সাবেক গভর্নর মোনায়েম খানের ছেলে। নির্বাচন সামনে রেখে তিনি তার বাবার ছবি সংবলিত পোস্টার-ব্যানার টাঙিয়ে এলাকায় নিজের প্রার্থিতার কথা জানান দিচ্ছেন। কিশোরগঞ্জ-৫ আসনে ভোটার রয়েছেন দুই লাখ ৭৮ হাজার ৬৪৯ জন। এর মধ্যে নারী ভোটার রয়েছেন ১ লাখ ৩৭ হাজার ৩০৫ জন ও পুরুষ ভোটার রয়েছেন ১ লাখ ৪১ হাজার ৩৪৪ জন।