আজকের পত্রিকাআপনি দেখছেন ৭-০৯-২০১৮ তারিখে পত্রিকা

বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সপ্তাহের অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী

ভবিষ্যতে বিদ্যুতে ভর্তুকি হয়তো সম্ভব হবে না

আলোকিত ডেস্ক
| শেষ পাতা

জাতীয় বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সপ্তাহের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বৃহস্পতিবার দ্রুত বিদ্যুৎ বিতরণ ব্যবস্থা সম্প্রসারণে অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছ থেকে পুরস্কার গ্রহণ করেন বাপবি বোর্ডের চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) মঈন উদ্দিন

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, বর্তমানে প্রতি কিলোওয়াটে আমাদের বিদ্যুৎ উৎপাদন খরচ ৬ দশমিক ২৫ টাকা এবং বিক্রয়মূল্য রাখা হয়েছে ৪ দশমিক ৮২ টাকা। এখানে আমরা ভর্তুকি দিচ্ছি। অর্থাৎ বিদ্যুৎ উৎপাদনে যে খরচ তা আমরা গ্রাহকের কাছ থেকে নিচ্ছি না। তবে ভবিষ্যতে এ ব্যবস্থা হয়তো রাখা সম্ভব হবে না। তিনি বলেন, মানুষের আর্থসামাজিক উন্নয়ন যত হতে থাকবে, ভবিষ্যতে বিদ্যুতে যতটা খরচ হবে, ততটাই তাদের প্রদান করতে হবে। তিনি বলেন, ‘সেক্ষেত্রে আমার একটা অনুরোধ থাকবে, বিদ্যুৎ ব্যবহারে সবাইকে সাশ্রয়ী হতে হবে। বিদ্যুতের অপচয় বন্ধের জন্য আমি অনুরোধ জানাই।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘২১ বছর পর ১৯৯৬ সালে জনগণের ভোটে সরকার গঠন করে বিদ্যুৎ পেয়েছিলাম মাত্র ১৬০০ মেগাওয়াট, চারদিকে হাহাকার, এদেশের অধিকাংশ মানুষের ঘরে আলো ছিল না। সে অবস্থা থেকে দেশকে মুক্ত করার জন্য সর্বপ্রথম আইন করে আমরা বেসরকারি খাতে বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু করি এবং বেসরকারি খাতকে উন্মুক্ত করে দেই।’ খবর বাসসের।
তিনি বলেন, ‘আমরা মাত্র কয়েক বছরের মধ্যেই ১৬০০ থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন ৪ হাজার ৩০০ মেগাওয়াটে নিয়ে যেতে সক্ষম হই। সেই সঙ্গে জেনারেটরের ওপর থেকে সব ট্যাক্স তুলে দেই এবং শিল্প-কারখানার মালিকদের বলে দেই, আপনারাও আপনাদের মতো বিদুৎ উৎপাদন করুন এবং সেই বিদ্যুৎ আশপাশে বিক্রিও করতে পারবেন। আমরা গ্রিড লাইন আপনাদের ভাড়া দেব।’
‘কিন্তু ২০০৯ সালে যখন আমরা সরকারে আসি তখন দেখি বিদ্যুৎ উৎপাদনের পরিমাণ যা আমরা রেখে গিয়েছিলাম, তার থেকে কমে ৩ হাজার ২০০ মেগাওয়াট হয়ে গেছে।’
পৃথিবীর আর কোনো দেশের জনগণের এ ধরনের তিক্ত অভিজ্ঞতা রয়েছে বলে তার জানা নেই উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘৫ বছরে কোনো দেশ এভাবে পিছিয়ে যায়; সেটাও আমার জানা ছিল না।’
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বৃহস্পতিবার সকালে রাজধানীর বসুন্ধরা আন্তর্জাতিক কনভেনশন সেন্টারে ‘বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সপ্তাহ-২০১৮’ উদযাপনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির ভাষণে একথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী সম্প্রতি নেপালের কাঠমান্ডুতে অনুষ্ঠিত বিমসটেক সম্মেলনে বিদ্যুৎ খাত নিয়ে আলোচনা করেছেন উল্লেখ করে বলেন, ‘আমরা একটা বিমসটেক সোলার গ্রিড লাইন করে দিচ্ছি। এ আন্তঃদেশীয় গ্রিড লাইনের মাধ্যমে কে কত বেশি বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে পারে, তা থেকে বাংলাদেশ কিনবে, এটা আমরা স্পষ্ট করে ফেলেছি। আঞ্চলিক সহযোগিতার যুগান্তকারী পদক্ষেপটা আমরা এরই মধ্যে গ্রহণ করেছি।
পাশাপাশি নেপাল এবং ভুটান থেকে জলবিদ্যুৎ আমদানির প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, গত মাসেই তার সরকার নেপালের সঙ্গে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করেছে। বাংলাদেশ, ভুটান এবং ভারতের মধ্যে ত্রিপক্ষীয় সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের অপেক্ষায় রয়েছে।
‘অনির্বাণ আগামী’ প্রতিপাদ্যে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে সরকারের সাফল্যকে তুলে ধরার পাশাপাশি ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার বিষয়ে দিকনির্দেশনা প্রদানে এ জ্বালানি সপ্তাহ উদযাপিত হচ্ছে।
জ্বালানি সপ্তাহের অন্যান্য কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে স্কুল ও কলেজের শিক্ষার্থীদের বিতর্ক প্রতিযোগিতা, জ্বালানিবিষয়ক সেরা প্রতিবেদনের জন্য সাংবাদিক ও দক্ষ কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পুরস্কার প্রদান এবং গৃহস্থালি, শিল্প ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানে বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী গ্রাহকদের সম্মাননা দেওয়া হবে।
নেপালের জ্বালানি, পানিসম্পদ এবং সেচবিষয়ক মন্ত্রী বর্ষা মান পুন অনন্ত, প্রধানমন্ত্রীর বিদ্যুৎ ও জ্বালানি উপদেষ্টা ড. তৌফিক-ই-এলাহী চৌধুরী, বীর বিক্রম, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রণালয়বিষয়ক সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি মো. তাজুল ইসলাম বিশেষ অতিথি হিসেবে অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন এবং বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ সভাপতিত্ব করেন।
বিদ্যুৎ বিভাগের সচিব ড. আহমেদ কায়কাউস অনুষ্ঠানে বিদ্যুৎ বিভাগে সরকারের সাফল্য ও পরিকল্পনা নিয়ে অনুষ্ঠানে প্রেজেন্টেশন উপস্থাপন করেন এবং খনিজসম্পদ বিভাগের সচিব আবু হেনা মোহাম্মদ রহমাতুল মুনিম অনুষ্ঠানে বক্তৃতা করেন। অনুষ্ঠানে সরকারের বিদ্যুৎ খাতের সাফল্য নিয়ে একটি ভিডিওচিত্র প্রদর্শিত হয়।