আজকের পত্রিকাআপনি দেখছেন ৭-০৯-২০১৮ তারিখে পত্রিকা

পশু পালন করে স্বনির্ভর মাহমুদুল

| সুসংবাদ প্রতিদিন

ষ তবিবর রহমান, যশোর 

 

যশোরের মাহমুদুল ইসলাম নামে এক যুবক পশু পালন করে স্বনির্ভর হয়েছেন। গেল ১০ বছর ধরে দেশি-বিদেশি বিভিন্ন পশু পালন করে অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির পাশাপাশি ফার্মের প্রসার ঘটিয়েছেন। ফার্মকে আরও লাভজনক পর্যায়ে নিয়ে যেতে পালন করা হচ্ছে গাড়ল, দুম্বা, ভুটানি গরু, ভেড়া ও বিভিন্ন প্রজাতির ছাগলসহ গবাদিপশু। এসব পশু যশোর থেকে কিনে নিয়ে যাচ্ছেন ঢাকা, ময়মনসিংহসহ অন্য জেলার খামারি ও শৌখিন মানুষজন। বিশালাকার এ পশুর ফার্মে সৃষ্টি হয়েছে কর্মসংস্থানের সুযোগও।

যশোর শহর ঘেঁষা পুলেরহাটের এক আত্মপ্রত্যয়ী মাহমুদুল এফএন্ডএফ অ্যানিমেল ফার্ম নামে একটি গবাদি পশু খামার গড়েন ২০০৭ সালের জুন মাসে। ব্ল্যাক বেঙ্গল ছাগল দিয়ে তার এই পশুপালন ফার্ম শুরু। তখন কোনো প্রশিক্ষণ ছিল না। সেই ফার্মে এখন দেড় শতাধিক পশু রয়েছে। পালন হচ্ছে রাজস্থানী গাড়ল। গাড়ল পালনের পাশাপাশি চলছে গাড়লের প্রজননও। এই পশুটির নামের সঙ্গে পরিচয় থাকলেও সরাসরি দেখার সুযোগ বেশিরভাগ মানুষের হয়নি। তাই এ জেলার উৎসুক দর্শনার্থীরা প্রতিনিয়ত গাড়ল দেখতে আসছেন ফার্মে। গাড়ল পালনের পাশাপাশি ফার্মকে আরও লাভজনক পর্যায়ে নিয়ে যেতে পালন করা হচ্ছে দুম্বা, ভুটানি গরু, ভেড়া ও বিভিন্ন প্রজাতির ছাগল।

এফএন্ডএফ অ্যানিমেল ফার্মের উদ্যোক্তা মাহমুদুল ইসলাম জানান, ২০০৭ সালের জুন মাসে একটি, তার দেড়মাস পরে আরেকটি এবং নভেম্বরে সৈয়দপুর থেকে আনা ব্ল্যাক বেঙ্গল ছাগল দিয়ে তার এ পশুপালন ফার্ম শুরু। তার প্রশিক্ষণ ছিল না। ছিল শুধু সাহস। সেই সাহস থেকে শক্তি সঞ্চয় করে ফার্ম চালাতে থাকেন। ২০১৫ সাল পর্যন্ত ৮ বছরে তার ফার্মে ২৫টি ছাগল হয়ে যায়। এ সময় তিনি প্রশিক্ষণ গ্রহণের প্রয়োজনীয়তা উপলব্ধি করেন। যশোরের যুব উন্নয়ন প্রশিক্ষণ কেন্দ্র থেকে ‘পশু পালন ও প্রাথমিক চিকিৎসা’র উপরে প্রশিক্ষণ নেন। এরই মাঝে পশুপালন ও দেখভালের জন্য নিয়োগ দেন কর্মচারী। সংগ্রহ করতে থাকেন দেশি-বিদেশি জাতের ছাগল। দেশি ব্ল্যাক বেঙ্গল ছাগলের পাশাপাশি রাজস্থানের তাঁতবুড়ি ও শিরয়ী এবং উত্তর প্রদেশের হরিয়ানী, বারবারী, যমুনাবাড়িসহ বিভিন্ন প্রজাতির ছাগল ও ভেড়া আনা হয় ফার্মে। পেয়ে যান দুম্বা ও গাড়লের খোঁজ। খামারে আনেন সেগুলোও। প্রথমে তিনটি গাড়ল এনে প্রজননের মাধ্যমে দুই বছরে ১৮টিতে পরিণত হয়। এরই মধ্যে ৮টি বিক্রি করেছেন। প্রতি গাড়লে ২০ থেকে ২৫ হাজার টাকা লাভ করেছেন বলে মাহমুদুল জানান। আর দুটি দুম্বা থেকে প্রজননের মাধ্যমে আটটি হয়েছিল। এর মধ্যে এবার কোরবানি ঈদে দুটি বিক্রি করেছেন তিনি।
এদিকে ২০১৭ সালে যুব উন্নয়ন থেকে প্রশিক্ষণ শেষে উদ্যোক্তার স্বীকৃতি পান মাহমুদুল। একই বছর প্রাণী সেবা সপ্তাহের প্রদর্শনীতে অংশগ্রহণ করে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর থেকে পেয়েছেন শুভেচ্ছা স্মারক। ফার্মের পরিসর বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বেকারদের জন্য তৈরি হয়েছে কর্মসংস্থানের। দুটি পরিবারের পাঁচজন সদস্য এখানে কাজ করে। ফার্মের শ্রমিক ইলিয়াস হোসেন জানান, এ ফার্মে আসার পর থেকে তার ভাগ্যের পরিবর্তন এসেছে। পরিবার পরিজন নিয়ে ভালোভাবে বসবাস করতে পারছেন। আগে ইটের ভাটায় এক সিজন কাজ করে আরেক সিজন বসে থাকতে হতো। মাহমুদুল ইসলাম বলেন, আজকে যারা শিক্ষিত হয়ে বেকারত্ব নিয়ে ঘুরছেন তারা পশুপালনের ফার্ম দিলে স্বনির্ভর হয়ে উঠতে পারবেন। তার ফার্ম থেকে এখন সব খরচ বাদে প্রায় অর্ধ লাখ টাকা লাভ থাকে।