আজকের পত্রিকাআপনি দেখছেন ৮-০৯-২০১৮ তারিখে পত্রিকা

ব্রির নতুন উদ্ভাবন

ফসল রক্ষায় সোলার লাইট ট্র্যাপ

মো. মোশারফ হোসেন, নকলা
| দেশ

ফসলের পোকা দমনে খেতে স্থাপিত সোলার লাইট ট্র্যাপ ষ আলোকিত বাংলাদেশ

ফসলের পোকা দমনে লাইট ট্র্যাপ বা আলোক ফাঁদ একটি প্রচলিত কার্যকর পদ্ধতি। প্রচলিত পদ্ধতিতে হারিকেন, হ্যাজাক লাইট অথবা বৈদ্যুতিক বাতি স্থাপন করে আলোক ফাঁদ তৈরি করা হয়। এ আলোক ফাঁদ প্রতি সন্ধ্যায় জ্বালিয়ে সকালে বন্ধ করতে হয়। এতে খরচ ও শ্রম ব্যয় হয় বেশি। এ কারণে বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের (ব্রি) এফএমপিএইচটি ও কীটতত্ত্ব বিভাগের গবেষকরা যৌথভাবে ফসলের মাঠে ব্যবহার উপযোগী সৌরশক্তি চালিত পরিবেশবান্ধব নতুন আলোক ফাঁদ উদ্ভাবন করেছেন। এটি সন্ধ্যায় নিজে থেকেই জ্বলে ওঠে এবং রাত ১১টায় আপনাআপনি নিভে যায়। ফলে খরচ ও শ্রম উভয়ই কম লাগে। কৃষকের ফসল সুরক্ষায় ব্রি’র উদ্ভাবিত এটি একটি নতুন প্রযুক্তির সংযোজন।নতুন উদ্ভাবিত এ যন্ত্রটি মাঠে একবার স্থাপন করলে দীর্ঘদিন টিকে থাকে। এতে সৌরশক্তি সংগ্রহ ও ব্যবহার করা হয়। দিনে যন্ত্রটি সূর্র্যের আলো থেকে শক্তি সংগ্রহ করে মজুত করে। পরে সূর্যের অনুপস্থিতিতে তথা সন্ধ্যায় স্বয়ংক্রিয়ভাবে জ্বলে ওঠে এবং নির্দিষ্ট সময় শেষে রাত ১১টার দিকে নিভে যায়। যন্ত্রটি একটি সৌর প্যানেল, একটি ব্যাটারি, একটি কন্ট্রোলার, একটি বৈদ্যুতিক বাতি, কেরোসিন মিশ্রিত পানি ও পাত্র এবং একটি স্ট্যান্ডের সমন্বয়ে তৈরি। ছোট আকারে এটি তৈরি করতে ১২০০ থেকে ১৫০০ টাকা ব্যয় হয়। এতে ব্যবহৃত ব্যাটারি ও বৈদ্যুতিক বাল্বের জীবনকাল দুই বছর এবং সৌর প্যানেলের মেয়াদ ২০ বছর। নতুন এ সোলার লাইট ট্র্যাপ প্রযুক্তিটি ফসলের মাঠের পাশাপাশি ধান ও মাছের মিশ্রচাষ এবং পুকুরেও ব্যবহারের সুযোগ রয়েছে। পুকুরে ব্যবহার করলে এ ফাঁদে আকৃষ্ট পোকামাকড় পানিতে পড়লে মাছ সরাসরি সম্পূরক খাবার পাবে। এ ফাঁদ ব্যবহারে কৃষকদের কীটনাশকের ব্যবহার কমে। এতে ফসলের উৎপাদন খরচ কমে, বাড়ে নিরাপদ ফল, শস্য ও ফসল উৎপাদন। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর ময়মনসিংহ অঞ্চলের অতিরিক্ত পরিচালক আসাদুল্লাহ জানান, এ আলোক ফাঁদের চাহিদা এবং উৎপাদন বাড়লে দাম কমবে। তখন সব কৃষক এটি ব্যবহারের সুযোগ পাবেন।