আজকের পত্রিকাআপনি দেখছেন ৮-০৯-২০১৮ তারিখে পত্রিকা

প্রতিকারহীন গোড়াপচা রোগ

বালিয়াকান্দির আখ চাষিরা বিপাকে

সোহেল মিয়া, বালিয়াকান্দি
| দেশ

রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দিতে গোড়াপচা রোগে আক্রান্ত আখ কেটে নিচ্ছেন চাষি ষ আলোকিত বাংলাদেশ

আখ একটি অর্থকরী ফসল। রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দি উপজেলার বহরপুর, জামালপুর, ইসলামপুর, জঙ্গল, নারুয়া, নবাবপুর ও সদরসহ সাতটি ইউনিয়নে হলুদের সাথি ফসল হিসেবে গেন্ডারি-আখ চাষ করেন দেড় শতাধিক চাষি। বর্তমানে এসব আখে দেখা দিয়েছে গোড়াপচা রোগ। এ রোগের প্রতিকার না পাওয়ায় বিপাকে পড়েছেন এসব চাষি। সংশ্লিষ্টদের ধারণা, আখের গোড়াপচা রোগের স্থায়ী প্রতিকার না হলে এ বছর প্রায় ৩০ লাখ থেকে ৪০ লাখ টাকা ক্ষতির মুখে পড়বেন এ অঞ্চলের আখ চাষিরা। সরেজমিন দেখা যায়, বালিয়াকান্দির বহরপুর ইউনিয়নের আড়কান্দি, ইলিশকোল, যদুপুর, তেতুলিয়া, তেতুলিয়া চরফরিদপুর, বাবুলতলা, সমসপুর, নারুয়া ইউনিয়নের চষাবিলা, ইসলামপুর ইউনিয়নের খালকুলা গ্রামের চাষিরা প্রচুর জমিতে হলুদের সাথি ফসল হিসেবে গেন্ডারি-আখ চাষ করেছেন। এ বছর আখের বাম্পার ফলন হলেও গোড়াপচা রোগে আখের খেত নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। আখগুলো একটু বেড়ে উঠলেই গোড়ায় পচন ধরছে। কীটনাশকের দোকানে ধরনা দিয়েও কোনো প্রতিকার পাচ্ছেন না কৃষক। ইলিশকোল গ্রামের আখ চাষি আবদুস সালাম ও ইউসুফ আলী শেখ জানান, এ বছর তারা ৪০ শতাংশ জমিতে আখ চাষ করেছেন। এতে তাদের এ পর্যন্ত ব্যয় হয়েছে প্রায় ৩০ হাজার টাকা। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এবং আখের গোড়াপচা রোগ না হলে ৬০ হাজার থেকে ৭০ হাজার টাকার আখ বিক্রি হতো। অন্য যে কোনো ফসল থেকে আখ চাষে তুলনামূলকভাবে লাভ বেশি হওয়ায় ২০ বছর ধরে তারা হলুদের সাথি ফসল হিসেবে গেন্ডারি-আখ চাষ করছেন। কিন্তু গেল বছর থেকে আখে গোড়াপচা রোগ দেখা দিয়েছে। প্রতিকারের জন্য বিভিন্ন কীটনাশকের দোকানে গিয়ে এ রোগের নির্দিষ্ট কোনো ওষুধ পাচ্ছেন না তারা। ফলে খেতেই নষ্ট হচ্ছে আখ। যদি এ রোগের প্রতিকার না করা যায় তাহলে মারাত্মক আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হবেন তারা। অন্যদিকে বাজারজাতকরণের জন্য নির্দিষ্ট জায়গা না থাকায় বিড়ম্বনার শিকার হচ্ছেন আখ চাষিরা।  আখ চাষি ছাত্তার শেখ বলেন, এ বছর আমাদের এলাকায় আখের বাম্পার ফলন হয়েছে। কিন্তু গোড়াপচা রোগ আমাদের ক্ষতিগ্রস্ত করছে। অন্যদিকে আখ বিক্রির জন্য কোনো নির্দিষ্ট জায়গা না থাকায় আমরা চরম হতাশায় ভুগছি। দীর্ঘদিন ধরে আমরা চন্দনা নদীর ব্রিজের ওপর ফুটপাত এবং বাজারের ভেতর অস্থায়ীভাবে আখ বিক্রি করতাম। কিন্তু আগের ইউএনও ব্রিজের ওপর আখ বিক্রি বন্ধ করে দেন। এখন আমরা যেখানে একটু জায়গা পাই সেখানে বসেই বিক্রি করি। ফরিদপুর সুগার মিলস লিমিটেডের বালিয়াকান্দি সাবজোনের কর্মকর্তা জালাল উদ্দিন বলেন, মূলত রেডরট বা গোড়াপচা বীজবাহিত রোগ। গেন্ডারি-আখে এ রোগ দেখা দিলে কোনো প্রতিকারের ব্যবস্থা নেই। তাই খেতে আখ লাগানোর আগে বীজ শোধন করে নিতে হবে এবং পানি জমে থাকে এমন জমিতে আখ চাষ করা যাবে না। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সাখাওয়াত হোসেন বলেন, আখ খেতে গোড়াপচা রোগ দেখা দিলে সাইবার মেক্সিন নামের ওষুধ ব্যবহার করলে চাষিরা উপকৃত হবেন। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাসুম রেজা বলেন, আখ চাষিরা তাদের উৎপাদিত ফসল যে সুষ্ঠুভাবে বাজারজাত করতে পারছেন না তা আমার জানা ছিল না। তারা যাতে নির্দিষ্ট জায়গায় বসে আখ বিক্রি করতে পারেন সে ব্যাপারে আমি বাজারের ইজারাদারদের সঙ্গে কথা বলে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেব।