আজকের পত্রিকাআপনি দেখছেন ৮-০৯-২০১৮ তারিখে পত্রিকা

যুক্তরাষ্ট্রের সতর্কবার্তা

রাসায়নিক হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে সিরীয় বাহিনী

ইদলিবের ভাগ্য নিয়ে তেহরানে রুহানি, পুতিন ও এরদোগানের বৈঠক

আলোকিত ডেস্ক
| আন্তর্জাতিক

একটি আশ্রয় ক্যাম্পে ইদলিবের বাস্তুচ্যুত শিশুদের নিয়ে বসে আছেন এক সিরীয় নারী - দ্য গার্ডিয়ান

যুক্তরাষ্ট্র সতর্ক করে বলেছে, সিরিয়ার ইদলিব প্রদেশে রাসায়নিক হামলা চালানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে দেশটির সরকারি বাহিনী। সিরিয়াবিষয়ক নতুন মার্কিন উপদেষ্টা জিম জেফরি বৃহস্পতিবার এ সতর্কতার কথা বলেন। সিরীয় বাহিনীর রাসায়নিক হামলা চালানোর প্রস্তুতির ‘যথেষ্ট প্রমাণ আছে’ বলেও দাবি করেন জেফরি। তবে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে ঠিক কী প্রমাণ আছে, এ ব্যাপারে স্পষ্ট করে কোনো কথা বলেননি এ মার্কিন কূটনীতিক। এদিকে তেহরানে সিরিয়া সংকট নিয়ে শুক্রবার বৈঠকে বসার কথা ইরান, রাশিয়া ও তুরস্কের প্রেসিডেন্টদের। তেহরানের বৈঠকেই সিরীয় বিদ্রোহীদের সর্বশেষ শক্ত ঘাঁটি ইদলিবের ভাগ্য নির্ধারিত হবে বলে মনে করা হচ্ছে। ইদলিবে সরকারি বাহিনীর ব্যাপক পরিসরে অভিযান শুরু হলে বড় ধরনের মানবিক বিপর্যয় দেখা দেবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। সিরিয়ায় বড় ধরনের প্রভাব রয়েছে রাশিয়া ইরান ও তুরস্কের। তেহরানের বৈঠকে ইরানি প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানি ও রুশ প্রেসিডেন্ট ভøাদিমির পুতিনের কাছে তুর্কি প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোগান ইদলিব অভিযানের লক্ষ্য থেকে আসাদ সরকার যেন সরে আসে, তার প্রস্তাব দেবে বলে মনে করা হচ্ছে। সিরিয়ার বিদ্রোহীদের একটি অংশকে মদত দিচ্ছে তুরস্ক সরকার। অন্যদিকে রাশিয়া ও ইরান আসাদ সরকারের অন্যতম প্রধান মিত্র।
এদিকে সিরিয়াবিষয়ক নতুন মার্কিন উপদেষ্টা জেফরি আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, বিদ্রোহীদের নিয়ন্ত্রণে থাকা শেষ শক্ত ঘাঁটি ইদলিবে ঘটতে যাওয়া সংঘাত বেপরোয়া উত্তেজনা ছড়িয়ে দেবে। হোয়াইট হাউজ আগেই সতর্ক করে বলেছে, ইদলিবে সিরীয় বাহিনী যদি রাসায়নিক অস্ত্র ব্যবহার করে, তবে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্ররা দ্রুত জবাব দেবে। সিরিয়ায় প্রেসিডেন্ট বাশার আল আসাদ সরকারের বিরুদ্ধে অনেকবারই রাসায়নিক হামলা চালানোর অভিযোগ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। তবে সিরিয়ায় গৃহযুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে যে কোনো ধরনের রাসায়নিক অস্ত্র ব্যবহারের কথা বরাবরই অস্বীকার করে আসছে আসাদ সরকার।
রাশিয়ার পাল্টা হুঁশিয়ারি : ইদলিবে অভিযান চালানো নিয়ে গেল সপ্তাহেই যুক্তরাষ্ট্রকে দুইবার হুঁশিয়ারি দিয়েছে রাশিয়া। তারা জানিয়েছে, সিরিয়ার সরকারি বাহিনীর সঙ্গে সেখানে সামরিক অভিযান চালাতে প্রস্তুত রাশিয়া। মার্কিন প্রতিরক্ষা কর্মকর্তারা এ কথা জানিয়েছেন। রাশিয়ার অভিযোগ, ইদলিবে সিরীয় বিদ্রোহীদের সমর্থন করছেন মার্কিন সেনারা। মস্কোর এ অবস্থানে যুক্তরাষ্ট্র হুঁশিয়ারি দিয়েছে, যে রাশিয়া যেন তাদের চ্যালেঞ্জ না জানায়। সিরিয়ায় বিদ্রোহী-নিয়ন্ত্রিত প্রায় সব এলাকাই পুনরুদ্ধার করে ফেলেছে আসাদ সরকার। ইদলিবে এখনও বিদ্রোহীদের শক্ত ঘাঁটি রয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, দেশটির দীর্ঘদিনের গৃহযুদ্ধের শেষ বড় ধরনের লড়াই এখানেই হবে। সিএনএন, বিবিসি, দ্য গার্ডিয়ান