আজকের পত্রিকাআপনি দেখছেন ৮-০৯-২০১৮ তারিখে পত্রিকা

রাইড শেয়ারিং বাইকে নিরাপত্তা ঝুঁকি

আইন না মানার প্রবণতা অগ্রহণযোগ্য

| সম্পাদকীয়

শহরের অসহনীয় যানজট ঠেলে দ্রুত গন্তব্যে পৌঁছানো সম্ভব বলে মোবাইল অ্যাপসভিত্তিক মোটরবাইক সার্ভিস শুরুতে জনপ্রিয়তা পেলেও সম্প্রতি এর নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। শুরুতে যাত্রীরা ধারণা করেছিলেন পাঠাও, সহজ.কম, চলো, বাহন, আমার বাইক, শেয়ার মোটরসাইকেল, বিডি বাইক ও ইজিয়ারসহ অ্যাপসভিত্তিক বাইকে রাইড শেয়ারিং চালুর পর সিএনজি অটোরিকশা চালকদের অন্যায্য ভাড়া চাওয়া থেকে পরিত্রাণ পাওয়া যাবে। এছাড়া অ্যাপসভিত্তিক হওয়ায় এসব সার্ভিসে যেমন দরকষাকষির ঝক্কি থাকবে না, তেমনি বিভিন্ন অফারের আওতায় তুলনামূলক কম খরচে গন্তব্যে পৌঁছানো যাবে। কিন্তু অনেক সময়ই কার্যত তা হচ্ছে না, বরং এসব সার্ভিস নিয়ে নানা ধরনের অভিযোগ শোনা যাচ্ছে যাত্রীদের কাছ থেকে। পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে মোবাইল অ্যাপসভিত্তিক রাইড সার্ভিস যাত্রীদের আস্থা অর্জন করতে পারলেও বাংলাদেশে কেন পারছে না, তা খতিয়ে দেখতে হবে।
আলোকিত বাংলাদেশে প্রকাশ, দিন যত যাচ্ছে অ্যাপস বাইকারদের খারাপ ব্যবহার, নারীদের সঙ্গে খারাপ আচরণ ও শ্লীলতাহানি, অ্যাপে না গিয়ে ব্যক্তিগতভাবে যাওয়ার অফার, যাত্রা শুরুর আগেই অ্যাপ রাইড চালু করাসহ বিভিন্ন সমস্যা বাড়ছে। অধিক আয়ের লোভে কম সময়ে বেশি যাত্রী পাওয়ার আশায় আইনকানুন ও দুর্ঘটনার পরোয়া না করে গাড়ি চালান এসব চালক। বেপরোয়া গতিতে গাড়ি চালানোর ফলে প্রায় প্রতিদিনই দুর্ঘটনা ঘটছে। দুর্ঘটনায় চালক, আরোহী ও পথচারীর প্রাণহানি বাড়ছে। সর্বশেষ গেল রোববার রাতে রাজধানীর মতিঝিলে একটি লরি ট্রাকের ধাক্কায় একই সঙ্গে ‘পাঠাও’ চালক ও আরোহীসহ দুইজন নিহত হয়েছেন। এছাড়া চলতি বছর জুলাইয়ে চট্টগ্রামে এক নারী চিকিৎসককে শ্লীলতাহানি ও ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে এক পাঠাও চালককে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। 
রাইড শেয়ারিং সার্ভিস নীতিমালা ২০১৭ অনুসারে একজন রাইড শেয়ারিং চালককে ট্রাফিক আইন মেনে চলতে হবে, স্বল্প দূরত্ব নিশ্চিত করতে হবে, যাত্রীদের সঙ্গে সদাচরণ করতে হবে, মোটরযানের রেজিস্ট্রেশন সার্টিফিকেট, ফিটনেস সার্টিফিকেট, ট্যাক্সটোকেন, ইন্স্যুরেন্স সার্টিফিকেটসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সঙ্গে রাখতে হবে। অথচ দেখা যাচ্ছে, নগরীতে যারা রাইড শেয়ার করছেন, এমন অনেক চালকেরই ড্রাইভিং লাইসেন্স নেই, দক্ষতাতেও রয়েছে ঘাটতি। এসব চালকের ভিন্ন কোনো আয়ের উৎস না থাকায় মোটরসাইকেলে যাত্রী পরিবহন তারা ফুলটাইম পেশা হিসেবে বেছে নিয়েছেন। এছাড়া যারা পার্টটাইম হিসেবে চালাচ্ছেন তাদের মধ্যে পেশাদারিত্বের অভাব রয়েছে। এসব চালক কোনো ধরনের আইনকানুন ও অ্যাপসের তোয়াক্কা না করে চুক্তিতে যাত্রী বহন করেন। বোঝা যাচ্ছে, অ্যাপসভিত্তিক মোটরবাইক চালকদের মধ্যে সুযোগ বুঝে কিছু দুর্বৃত্তও ঢুকে পড়েছে। আইন না মানার এ প্রবণতা একেবারেই অগ্রহণযোগ্য। এসব চালককে চিহ্নিত করে কঠোর ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি প্রদান জরুরি। অ্যাপসভিত্তিক কোম্পানিগুলোকেও আরও সতর্ক হতে হবে।