আজকের পত্রিকাআপনি দেখছেন ৮-০৯-২০১৮ তারিখে পত্রিকা

বাচ্চু হত্যার দুই সন্দেহভাজন বন্দুকযুদ্ধে নিহত

মুন্সীগঞ্জ প্রতিনিধি
| প্রথম পাতা

শাহজাহান বাচ্চু

মুন্সীগঞ্জে প্রকাশক শাহজাহান বাচ্চু হত্যাকা-ের ঘটনার দুই সন্দেহভাজন পুলিশের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে নিহত হয়েছেন। এ দুই সন্দেহভাজন হলেনÑ মো. শামীম ওরফে বোমা শামীম (৩৫) এবং এখলাছুর রহমান ওরফে এখলাছ (৩২)। পুলিশ বলছে, নিহত এ দুইজন জঙ্গি সংগঠন জেএমবির (পুরানো) সদস্য। বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে জেলার শ্রীনগর উপজেলার বীরতাঁরা ইউনিয়নের কেসি রোডে এ বন্দুকযুদ্ধ হয়। পুলিশ বলছে, নিহত দুইজনের মধ্যে বোমা শামীম সরাসরি শাহজাহান বাচ্চু হত্যা সঙ্গে জড়িত; তার গুলিতে নিহত হন প্রকাশক বাচ্চু। বোমা শামীমের সঙ্গী এখলাছ অস্ত্র সরবরাহকারীর ভূমিকায় ছিলেন। শুক্রবার বেলা সাড়ে ১১টায় মুন্সীগঞ্জের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জায়েদুল আলম পিপিএম তার অফিসের সভাকক্ষে সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান। বন্দুকযুদ্ধে দুই কর্মকর্তাসহ পুলিশের তিন সদস্য আহত হয়েছেন।
পুলিশ সুপার জায়েদুল আলম বলেন, তথ্যপ্রযুক্তির মাধ্যমে আগে থেকে তথ্য পেয়ে পুলিশ সাতগাঁও এলাকার কেসি রোডে চেকপোস্ট বসায়। রাত ১টার দিকে দুটি মোটরসাইকেলে চারজন লোক ওই রোড দিয়ে যাওয়ার সময় পুলিশ তাদের থামতে বলে। তারা মোটরসাইকেল না থামিয়ে পুলিশকে লক্ষ্য করে ককটেল ও গুলি ছোড়েন। তখন পুলিশ পাল্টা গুলি করলে তাদের মধ্যে দুইজনকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখা যায়; বাকি দুইজন পালিয়ে যান। গুলিবিদ্ধ দুইজনকে উদ্ধার করে শ্রীনগর হাসপাতালে নিলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। নিহতদের লাশ মুন্সীগঞ্জ জেনারেল হাসপাতাল মর্গে রাখা হয়েছে। ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ একটি পিস্তল, একটি ম্যাগাজিন, তিন রাউন্ড গুলি, ১১টি তাজা ককটেল, দুটি ছোরা এবং একটি রেজিস্ট্রেশনবিহীন কালো মোটরসাইকেল উদ্ধার করে।
পুলিশ সুপার জানান, প্রায় আধাঘণ্টাব্যাপী গোলাগুলি হয়। এ সময় পুলিশ ৫৮ রাউন্ড গুলি ছোড়ে। পলাতক বাকি দুই জঙ্গিকে ধরতে পুলিশ বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালাচ্ছে। তিনি জানান, জুনে সিরাজদিখানে নিহত জঙ্গি আবদুর রহমানের দেওয়া বর্ণনা ও ক্রাইম রেকর্ড অনুযায়ী নিহতদের শনাক্ত করা হয়েছে। জঙ্গি আবদুর রহমানের দেওয়া তথ্যানুযায়ী, বোমা শামীম মুক্তমনা লেখক ও প্রকাশক শাহজাহান বাচ্চুকে হত্যা করেন। অপর জঙ্গি এখলাছুর রহমানও ওই লেখক হত্যার সঙ্গে জড়িত। পুলিশ সুপার বলেন, বাচ্চু হত্যার অপর এক আসামির নাম তদন্তের স্বার্থে বলা যাচ্ছে না। তিনি যে কোনো সময় পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হতে পারেন।
সংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, নিহত দুই জঙ্গি সিরাজদিখান বালুচরে যে বাড়ি ভাড়া নিয়ে অপকর্ম চালিয়ে যাচ্ছিলেন, ওই বাড়ির মালিকের ব্যাপারে খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে। প্রয়োজনে তাকেও গ্রেপ্তার করা হতে পারে। তিনি জানান, জঙ্গিরা যেখানে বাসা ভাড়া নিয়েছিলেন, সেখানে তেমন থাকতেন না; মাসে দু-তিন দিন থাকতেন। বাকি সময় বিভিন্ন স্থানে বসবাস করতেন। তবে তারা বাড়ির ভাড়া মাসের প্রথম দিকেই দিয়ে দিতেন। তারা যেখানে থাকতেন, সেখানেই আগ্নেয়াস্ত্র সঙ্গে রাখতেন। বাচ্চু হত্যার পর জঙ্গি এখলাছ অস্ত্রগুলো গাজীপুরে আবদুর রহমানের কাছে নিরাপদে পৌঁছে দিয়েছিলেন। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন সিরাজদিখান সার্কেল এসপি কাজী মাকসুদা লিমা, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) খন্দকার আশফাকুজ্জামান, ডিআইওয়ান নজরুল ইসলাম, ডিবি ওসি এসএম আলমগীর হোসেন, শ্রীনগর থানার ওসি ইউনুচ আলী প্রমুখ।
পুলিশের দেওয়া তথ্য থেকে জানা যায়, নিহত জঙ্গিরা ছিলেন পুরানো জেএমবির সদস্য। তারা দলের জন্য ডাকাতি করে অর্থ সংগ্রহ করতেন। প্রকাশক বাচ্চু হত্যার সন্দেহভাজন এ দুইজনের মধ্যে মো. শামীম ওরফে বোমা শামীমের বাড়ি কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়া থানার লৌক্ষা এলাকায় এবং এখলাছুর রহমান ওরফে এখলাছের বাড়ি জামালপুরের খামারপাড়ায়। নিহত শামীমের নামে বাচ্চু হত্যাসহ পাঁচটি ডাকাতি মামলা রয়েছে। প্রসঙ্গত, ১১ জুন সন্ধ্যায় সিরাজদিখানের পূব কাকলদি এলাকায় জঙ্গিদের গুলিতে নিহত হন মুক্তমনা লেখক শাহজাহান বাচ্চু। দুটি মোটরসাইকেলে এসে তাকে গুলি করার পর দ্রুত পালিয়ে যান জঙ্গিরা। লেখক বাচ্চু একটি প্রকাশনা প্রতিষ্ঠানের স্বত্বাধিকারী ও জেলা কমিউনিস্ট পার্টির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। মুক্তমনা লেখক বাচ্চু লেখালেখি করতেন বিভিন্ন ব্লগ ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে।