আজকের পত্রিকাআপনি দেখছেন ৮-০৯-২০১৮ তারিখে পত্রিকা

সীমান্তে হত্যা বন্ধসহ আট বিষয়ে সিদ্ধান্ত

বিজিবি-বিএসএফ সম্মেলন শেষ

নিজস্ব প্রতিবেদক
| প্রথম পাতা

সীমান্তে হত্যা বন্ধসহ অন্তত আটটি বিষয়ে ঐকমত্যের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত গ্রহণের মধ্য দিয়ে শেষ হলো বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ও ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) মহাপরিচালক (ডিজি) পর্যায়ে ৪৭তম সীমান্ত সম্মেলন। নয়াদিল্লিতে ৩ সেপ্টেম্বর শুরু হওয়া এ সীমান্ত সম্মেলন শুক্রবার আনুষ্ঠানিকভাবে শেষ হয়। সম্মেলনে জয়েন্ট রেকর্ড অব ডিসকাশন (জেআরডি) স্বাক্ষর অনুষ্ঠিত হয়। সম্মেলন শেষে সীমান্ত হত্যা বন্ধ, বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠীদের অনুসন্ধান ও মানব পাচার রোধসহ আট থেকে ৯টি বিষয়ে ঐকমত্যে পৌঁছে একসঙ্গে কাজ করার যৌথ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে।

বিজিবির জনসংযোগ কর্মকর্তা মুহম্মদ মোহসিন রেজা নয়াদিল্লি থেকে আলোকিত বাংলাদেশকে জানান, নয়াদিল্লিতে সীমান্ত সম্মেলনে বিজিবি মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মো. সাফিনুল ইসলামের নেতৃত্বে ১৪ সদস্যের বাংলাদেশ প্রতিনিধি দল অংশ নেয়। অন্যদিকে বিএসএফ মহাপরিচালক শ্রী কেকে শর্মার নেতৃত্বে ২০ সদস্যের ভারতীয় প্রতিনিধি দল অংশ নেয়। 

মোহসিন রেজা জানান, সীমান্তে বাংলাদেশি নাগরিক হতাহতের ঘটনা রোধে বিএসএফ পদক্ষেপ গ্রহণ করায় বিজিবি মহাপরিচালক ধন্যবাদ জানান। তবে হতাহতের ঘটনা এখনও শূন্যের কোটায় নেমে না আসায় উদ্বেগ প্রকাশ করেন। বিএসএফ মহাপরিচালক বলেন, সীমান্তে হতাহতের ঘটনা এড়াতে বিএসএফ নন-লিথেল অস্ত্র ব্যবহার করছে, এমনকি সশস্ত্র সীমান্ত অপরাধীদের বিপজ্জনক আক্রমণের শিকার হয়েও বিএসএফ সর্বোচ্চ সহিষ্ণুতা প্রদর্শন ও ন্যূনতম শক্তি প্রয়োগের নীতি অনুসরণ করে যাচ্ছে। সীমান্ত অপরাধীদের দ্বারা অবৈধভাবে সীমান্ত অতিক্রম বন্ধ করাসহ তাদের বিরুদ্ধে দেশের প্রচলিত আইনে ব্যবস্থা গ্রহণ করার মাধ্যমে হতাহতের ঘটনা শূন্যের কোটায় নামিয়ে আনা সম্ভব। এ বিষয়ে উভয়পক্ষ প্রতিরোধমূলক যৌথ প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখতে সম্মত হয়েছে। বিএসএফ মহাপরিচালক ভারতীয় বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠীদের অনুসন্ধানে বিজিবিসহ বাংলাদেশি অন্যান্য সংস্থার সহযোগিতার প্রশংসা করে এ বিষয়ে আরও সহযোগিতা অব্যাহত রাখার অনুরোধ জানান। বাংলাদেশে এধরনের  কোনো গোষ্ঠীর অস্তিত্ব নেই উল্লেখ করে বিজিবি মহাপরিচালক সুস্পষ্টভাবে জানিয়ে দেন যে, বাংলাদেশ কখনই তার ভূমি অন্য কোনো দেশের বিরুদ্ধে কোনো অপরাধী বা সন্ত্রাসী গোষ্ঠীকে ব্যবহারের সুযোগ দেয় না।

যৌথ সম্মতির সিদ্ধান্তগুলোর মধ্যে আরও রয়েছেÑ ইচ্ছাকৃত সীমান্ত লঙ্ঘনকারীদের বিরুদ্ধে নিজ নিজ দেশের প্রচলিত আইনে ব্যবস্থা গ্রহণ এবং অসতর্কতাবশত সীমান্ত অতিক্রমকারী নাগরিকদের নিজ দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর কাছে হস্তান্তরে উভয়পক্ষ সম্মত হয়েছে। উভয়পক্ষ মানব পাচারের বিরুদ্ধে প্রতিরোধমূলক প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখার পাশাপাশি পাচারের শিকার হওয়া নাগরিকদের দ্রুত উদ্ধারসহ তাদের পুনর্বাসনে নিজ নিজ দেশের আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণে সম্মত হয়েছে।
বিএসএফ মহাপরিচালক ভারতীয় জাল মুদ্রা পাচার রোধে সহযোগিতা প্রদানের জন্য বিজিবিসহ বাংলাদেশের অন্যান্য আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর প্রশংসা করেন। উভয়পক্ষ মাদক, অস্ত্র, স্বর্ণ পাচারসহ সবধরনের  চোরাচালান বন্ধে একে অপরের গৃহীত পদক্ষেপের প্রশংসা করেন এবং চোরাচালান রোধের যৌথ প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখতে সম্মত হয়েছেন। সীমান্তে উন্নয়নমূলক অধিকাংশ কাজ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে আলোচনার মাধ্যমে  উভয়পক্ষ পরস্পরের সম্মতি লাভ করায় নিজেদের সন্তুষ্টি ব্যক্ত করেছেন। উভয় মহাপরিচালক যশোর সীমান্তে ‘ক্রাইম ফ্রি জোন’ এর কার্যকারিতার প্রশংসা করেন এবং অন্যান্য সীমান্তে পর্যায়ক্রমে ‘ক্রাইম ফ্রি জোন’ ঘোষণা করতে নীতিগতভাবে সম্মতি প্রকাশ করেছেন। উভয়পক্ষ পারস্পরিক সুসম্পর্ক বৃদ্ধির লক্ষ্যে গৃহীত বিভিন্ন পদক্ষেপ ও যৌথ প্রচেষ্টার প্রশংসা করেছেন। এর বাইরেও বন্ধুত্বপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত অংশগ্রহণমূলক আলোচনায় উভয়পক্ষের সুচিন্তিত মতামতের ফলে সম্মেলন অত্যন্ত অর্থবহ হওয়ায় উভয়পক্ষ সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছে, যা দুই দেশের বন্ধুত্ব¡পূর্ণ সম্পর্কের প্রতিফলন। মহাপরিচালক পর্যায়ের পরবর্তী সীমান্ত সম্মেলন ২০১৯ সালের মার্চ কিংবা এপ্রিল মাসে ঢাকায় অনুষ্ঠানের ব্যাপারে উভয়পক্ষ নীতিগতভাবে সম্মত হয়।