আজকের পত্রিকাআপনি দেখছেন ৮-০৯-২০১৮ তারিখে পত্রিকা

বাংলাদেশের সামনে আজ নেপাল

ড্র করলেই সেমিফাইনাল

শফিক কলিম
| প্রথম পাতা

বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়াম দাবড়ে বেড়াচ্ছেন একদল টগবগে তরুণ, মাঠের প্রতিটি ঘাস-বালুকণা যাদের চেনা। স্পৃহা বেড়ে যাচ্ছে গ্যালারিভরা সমর্থকদের ‘বাংলাদেশ, বাংলাদেশ’ চিৎকার, ভুঁভুঁজেলার বিকট পোঁ পোঁ শব্দে। এ স্বাগতিক দর্শকরাই নাকি ভুটানকে হারিয়েছেÑ কাল হোটেল লবিতে জানান চেনচো জেইলশেন। ঘরের মাঠে সাফের সেমিফাইনাল নিশ্চিত করতে আজও দর্শক দেখতে চান ব্রিটিশ কোচ জেমি ডে। তবে কোচ না চাইলেও যে আজ বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামে দর্শকের ভিড় সামলাতে হিমশিম খেতে হবে, নিরাপত্তা বাহিনীকে তা আগাম বলে দেওয়া যায়। কেননা ভুটান ও পাকিস্তানকে হারানোর পর ৯ বছর পর সাফে শেষ চারে খেলার হাতছানি; সন্ধ্যা ৭টায় শুরু হতে যাওয়া ম্যাচে নেপালের বিপক্ষে অন্তত হার এড়াতে পারলেই কেল্লাফতে। কিন্তু ১ নয়, জেমির চোখ ৩ পয়েন্টে।
২ ম্যাচ শেষে ‘এ’ গ্রুপের শীর্ষে বাংলাদেশ। চার দলের গ্রুপ শাসন করছে লাল-সবুজ জার্সিধারীরা। তারপরও অস্বস্তি বাংলাদেশ শিবিরে, ৬ পয়েন্ট পেলেও সেমির অপেক্ষা। শেষ চারে খেলতে নেপালের বিরুদ্ধে জিততেই হবেÑ কঠিন সমীকরণ মেলাতে হবে না বাংলাদেশকে, ড্রতেই চলবে। হারলেও সমস্যা হবে না যদি আগের ম্যাচে ভুটানের কাছে হেরে যায় বা ড্র করে পাকিস্তান। তাতে শেষ চারে পা রেখে নেপালের বিপক্ষে মাঠে নামবে জামাল, তপু, সুফিল, বিপলুরা। তবে প্রথম ম্যাচে পাকিস্তান জিতলে সন্ধ্যায় নেপালের বিরুদ্ধে বাংলাদেশকে ড্র করতে হবে। স্বাগতিকরা হারলে বসতে হবে সমীকরণের টেবিলে। কেননা নেপাল জিতলে ৩ দলের পয়েন্ট হবে ৬। তখন গোল গড়ের হিসাবে শেষ চারের টিকিট পাবে দুই দল। পাকিস্তান ও নেপাল হারলে অঙ্কের হিসাবের ভাগীদার হবে ভুটানও। তবে তাদের জয়টা এত বড় ব্যবধানে হতে হবে যে, এ ভুটানকে দিয়ে আশা করছে না কেউ। পাহাড়ি দেশটি যে দুই ম্যাচে ৬ গোল খেয়ে বসে আছে।
এত অঙ্কের হিাসব মাথায় আনতে চান না জেমি ডে। তার সব মনঃসংযোগ নেপাল ম্যাচে। জয়ের নৌকায় চড়েই নোঙর ফেলতে চান তীরে-জয়ের হ্যাটট্রিক করেই বাংলাদেশকে নিয়ে যেতে চান সেমিফাইনালে। কাল কমলাপুর স্টেডিয়ামে পরশু পাকিস্তান ম্যাচে একাদশে সুযোগ না পাওয়া ফুটবলারদের নিয়ে অনুশীলন শুরুর আগে জানানও, ‘সেমিফাইনালে উঠতে এ ম্যাচটা ভালো খেলে জিততে হবে আমাদের। জয় ছাড়া অন্য কিছু ভাবছি না। আমরা নিজেদের খেলাটা খেলতে হবে। নেপাল অনেক ভালো দল। ভুটানের বিরুদ্ধে ৪ গোলে জিতে সেটা প্রমাণ করেছে। তবে আমরা জিতে সেমিফাইনালে উঠতে চাই। প্রত্যাশা ছেলেরা ভালো খেলা ও জয়ের ধারা অব্যাহত রাখবে।’
পরশু রাতের ধকল কাটাতে কোচ জেমি ডে কাল দুপুরে সুইমিংয়ের পর বিশ্রাম দিয়েছেন একাদশে খেলা ফুটবলারদের। গোলরক্ষক আশরাফুল রানা, আনিসুর রহমান জিকো, নাসির উদ্দিন চৌধুরী, ফয়সাল মাহমুদ, সুশান্ত ত্রিপুরা, সোহেল রানা, শাখাওয়াত রনিদের ঘণ্টাখানেক ঝালিয়ে নিলেন কোচিং স্টাফের সদস্যরা। ফুরফুরে মেজাজে থাকা ফুটবলাররা কেউ কেউ ছুটি নিয়ে হোটেলে বাইরে গেছেন। তবে গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলার অনুমতি নাকি দেয়নি ম্যানেজমেন্ট।
নেপালিদের বিপক্ষে কিন্তু রেকর্ড ভালো বাংলাদেশের, ১৮ ম্যাচের ১২টিতে জয়, নেপালের ৫টি। ড্র হয়েছে একটি ম্যাচ। তবে শেষ দুই দেখায় একটায়ও জয় পায়নি বাংলাদেশ। ২০১৩ সালে কাঠমান্ডু সাফে বাংলাদেশকে ২-০ গোলে হারিয়েছিল নেপাল, তিন বছর পর ঢাকায় বঙ্গবন্ধু গোল্ডকাপে গোলশূন্য ড্র হয়েছিল দুই দলের ম্যাচ। আজ পুরানো ধারায় ফিরে যেতে চায় বাংলাদেশ। প্রত্যাশা গোটা দেশেরই।