আজকের পত্রিকাআপনি দেখছেন ৮-০৯-২০১৮ তারিখে পত্রিকা

নদী ভাঙন

বিলীন হচ্ছে গ্রামের পর গ্রাম

আলোকিত ডেস্ক
| প্রথম পাতা

দুই ঘণ্টার ব্যবধানে ধারণ করা একই স্থানের দুটি ছবি। প্রথম ছবিতে যে ভবনটি বিলীন হওয়ার অপেক্ষায়, দ্বিতীয় ছবিতে সেই ভবনটি নদীগর্ভে বিলীন। শরীয়তপুরের নড়িয়া উপজেলার মূলফৎগঞ্জের বুধবারের ছবি -আলোকিত বাংলাদেশ

অব্যাহত ভাঙনে দিশাহারা হয়ে পড়েছে ভাঙনকবলিত নদীপাড়ের মানুষ। বিলীন হয়ে যাচ্ছে গ্রামের পর গ্রাম। ভাঙছে জমি, বাড়িঘর, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, মসজিদ-মন্দির, স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, সেতুসহ বিভিন্ন স্থাপনা। একই সঙ্গে হারিয়ে যাচ্ছে হাজারো মানুষের স্বপ্ন। প্রতিনিধিদের খবর
ফরিদপুর : চরভদ্রাসন উপজেলায় এক যুগে ৫৯টি গ্রাম পদ্মাগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। ছোটো হয়ে গেছে উপজেলার মানচিত্র। উপজেলার ১৩৪টি গ্রামের মধ্যে এখন দাঁড়িয়ে আছে ৭৫টি গ্রাম। এক যুগে ভাঙনকবলিত ১১ হাজার ২৬০ পরিবারের প্রায় অর্ধ লাখ জনগোষ্ঠী উপজেলার এদিক-সেদিক আশ্রয় নিলেও স্মৃতির পাতায় পড়ে রয়েছে পুরনো দিনগুলো। এদিকে পদ্মা-আড়িয়াল খাঁ নদী ভাঙনে গৃহহীন হয়ে পড়েছে ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলার চরমানাইর ও চরনাছিরপুর ইউনিয়নের অর্ধশতাধিক পরিবার। ওই পরিবারগুলোর সদস্যরা এখন খোলা আকাশের নিচে বাস করছেন। ২ বছরে আড়িয়াল খাঁ নদের গর্ভে বিলীন হয়েছে প্রায় ১০টি গ্রাম। বর্ষা শুরু হতে না হতেই ভাঙনের মুখে পড়েছে হতদরিদ্র চরাঞ্চলের মানুষ। নদে পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় কয়েক দিন যাবত ব্যাপক আকারে ভাঙন দেখা দিয়েছে। ভাঙনে দিন দিন গৃহহীনের সংখ্যা বাড়ায় বর্তমানে দিশেহারা ওই অঞ্চলের পদ্মা ও আড়িয়াল খাঁ পাড়ের খেটে খাওয়া মানুষ। জানা গেছে, প্রতি বছর পদ্মা নদীর তীব্র ভাঙন চরভদ্রাসন উপজেলার আবাদি জমি কমিয়ে বাড়িয়ে দিচ্ছে জলাশয়ের সীমানা। উপজেলার মোট জমি ছিল ৪৫ হাজার ২৫৮ একর। এক যুগে পদ্মার ভাঙনের পর পড়ে রয়েছে ২৭ হাজার ৪৮ একর। একই সঙ্গে পদ্মার গর্ভে চলে গেছে ১১ হাজার ২৬০টি বসতভিটে। পুনর্বাসন হয়েছে মাত্র ২ হাজার ১৫০ পরিবারের। পদ্মার ভয়াবহ ভাঙনের শিকার হয়ে উপজেলার আবাদি জমিতে বসতি গড়েছে প্রায় ৯ হাজার ১১০ পরিবার। ভাঙনকবলিত উপজেলার গ্রামগুলোর শত শত স্থাপনা, স্কুল, মসজিদ, মাদ্রাসা, মন্দির, রাস্তাঘাট, ব্রিজ-কালভার্ট ও ফসলি জমিসহ প্রায় ১৮ হাজার ২১০ একর জমি পদ্মার গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। অন্যদিকে সদরপুর উপজেলার চরনাছিরপুর ইউনিয়নের বেশকিছু গ্রামের বেশিরভাগ অংশই বিলীন হয়ে গেছে। গ্রামগুলোর বাসিন্দারা ভাঙন আতঙ্কে দিন পার করছেন। ফরিদপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী সুলতান মাহমুদ বলেন, ২৯২ কোটি টাকার একটি প্রকল্প একনেকে অনুমোদন হয়েছে। শীত মৌসুমে কাজ শুরু করা হবে। এ প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন হলে নদী ভাঙন থেকে রক্ষা পাবে এলাকাবাসী।

শরীয়তপুর : নড়িয়া উপজেলায় অব্যাহত পদ্মার ভাঙনে ৫ দিনে ২০০ বছরের পুরনো মূলফৎগঞ্জ বাজারের শতাধিক ব্যবসা প্রতিষ্ঠান নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। ভাঙন ঝুঁকিতে পড়েছে পুরনো এ বাজারের আরও ৫ শতাধিক ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। যেকোনো মুহূর্তে বিলীন হয়ে যেতে পারে নড়িয়া উপজলার একমাত্র ৫০ শয্যা হাসপাতাল ও বাজারসংলগ্ন লস্কর বাড়ি জামে মসসিদ। ভাঙন আতঙ্কে দিন কাটছে এখন নড়িয়া উপজেলা সদরের মানুষেরও। দ্রুত ভাঙনরোধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি ভাঙনকবলিতদের। পদ্মার আগ্রাসী রূপ প্রায় ৫০ বছর থেকে দেখে আসছেন শরীয়তপুরের নড়িয়া, জাজিরা ও ভেদরগঞ্জ উপজেলার পদ্মা তীরের মানুষ। কিন্তু এ বছর বিশেষ করে নড়িয়া উপজেলার কেদারপুর ইউনিয়ন ও পৌরসভা এলাকার মানুষ দেখছেন পদ্মার স্মরণকালের সবচেয়ে ভয়াবহ আগ্রাসী রূপ। স্থানীয়দের মতে, এরই মধ্যে কেদারপুর ইউনিয়ন ও নড়িয়া পৌরসভার ৪ সহস্রাধিক পরিবার গৃহহীন হয়েছে। প্রতিদিনই বিলাসবহুল বাড়িঘরসহ শত শত ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বিলীন হয়ে যাওয়ায় পদ্মার পাড়ে চলছে কান্না আর আহাজারি। রাক্ষুসী পদ্মার হিংস্র থাবায় লন্ডভন্ড হয়ে গেছে হাজার হাজার পরিবারের জীবন সংসার। এক সময়ের প্রভাশালীরা এসে দাঁড়িয়েছেন ভূমিহীনদের কাতারে। এলাকাবাসীর দাবিÑ ভাঙন রোধে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হলে এখনও নড়িয়া বাজার, ঐতিহ্যবাহী মূলফৎগঞ্জ মাদ্রাসা কমপ্লেক্স রক্ষা করা সম্ভব হতে পারে।
বর্তমানে মারাত্মক ভাঙন ঝুঁকিতে রয়েছে মুলফৎগঞ্জ বাজারের আরও ৫ শতাধিক ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, নড়িয়া বাজার, নড়িয়া উপজেলার ৫০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতাল ও মূলফৎগঞ্জ মাদ্রাসা কমপ্লেক্স বাজারের পূর্ব পাশের লস্কর বাড়ী জামে মসজিদসহ আশপাশের আরও অনেক স্থাপনা। এলাকাবাসীর দাবিÑ ভাঙন রোধে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হলে এখনও নড়িয়া বাজার, মূলফৎগঞ্জ মাদ্রাসা কমপ্লেক্সসহ অনেক সরকারি বে-সরকারি প্রতিষ্ঠান রক্ষা করা সম্ভব হতে পারে। অন্যথায় অচিরেই হারিয়ে যাবে আরও বহু স্থাপনা। কেদারপুর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান ঈমাম হোসেন দেওয়ান বলেন, ২ মাসে পদ্মার ভাঙনে প্রায় ৪ হাজার পরিবার গৃহহীন হয়ে পড়েছে। কোনো জনপ্রতিনিধিসহ সরকারি কর্মকর্তারা কোনো রকম সাহায্য-সহযোগিতা করেনি। নড়িয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সানজিদা ইয়াসমিন বলেন, পদ্মা নদী নড়িয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের অতি কাছে আসায় হাসপতালের গুরুত্বপূর্ণ মালামাল জেলা প্রশাসক এবং সিভিল সার্জনের নির্দেশক্রমে সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে। নিয়মিত স্বাস্থ্যসেবা অব্যাহত রাখতে হাসপাতাল ভবনের দক্ষিণ পাশের আবাসিক দুটি ভবনে জরুরি চিকিৎসা কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। 
কুষ্টিয়া : গড়াই নদীর প্রবল স্রোতের তোড়ে নদীর ওপর শত কোটি টাকা ব্যয়ে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল বিভাগের সদ্যনির্মিত কুষ্টিয়া-হরিপুর শেখ রাসেল সেতুর সংরক্ষণ বাঁধ এবং হরিপুর অংশে নদীর তীর সংরক্ষণ বাঁধে তীব্র ভাঙন শুরু হয়েছে। নির্মাণের এক বছরের মধ্যে সেতু সংরক্ষণ বাঁধে ভাঙন দেখা দেওয়ায় হুমকির মুখে কুষ্টিয়া-হরিপুর শেখ রাসেল সেতু। তবে নদীর তীর রক্ষায় রশি টানাটানি চলছে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল বিভাগ ও পানি উন্নয়ন বোর্ড কর্তৃপক্ষের মধ্যে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শনিবার সন্ধ্যায় সৃষ্ট ভাঙনে মঙ্গলবার সকাল পর্যন্ত সেতুর হরিপুর অংশের পশ্চিম পাশের প্রায় ২০০ মিটার নদীর তীর সংরক্ষণ বাঁধ ভেঙে শেখ রাসেল সেতুর প্রোটেকশন বাঁধে ঢুকে পড়ে। এতে এক রাতেই সেতু সংরক্ষণে নির্মিত সিসি ওয়ার্ক বাঁধের প্রায় ৩০ মিটার নদীগর্ভে তলিয়ে যায়। 
সদর উপজেলার ১নং হাটশ হরিপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এম সম্পা মাহমুদের অভিযোগ, আগে থেকেই নদীর এ স্থানটি বেশ ঝুঁকিপূর্ণ ছিল। বিষয়টি বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড কুষ্টিয়ার কর্মকর্তাদের অবগত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ করা হয়েছিল। কিন্তু তারা কোনো প্রকার উদ্যোগ গ্রহণ না করায় এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। মঙ্গলবার সকালে গড়াই নদীর বাম তীরে দেখা গেছে কয়েক কিলোমিটার বালুর চর ভেঙে নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। 
এদিকে নির্মাণের মাত্র ২ মাসের মাথায় ধসে গেল কুষ্টিয়ার শিলাইদহে কুঠিবাড়ী রক্ষাবাঁধ। প্রমত্তা পদ্মার ভাঙন থেকে বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কুঠিবাড়ি রক্ষায় প্রায় ২০০ কোটি টাকা ব্যয়ে বাঁধটি নির্মাণ করে সরকার। সোমবার দুপুর থেকে কয়া ইউনিয়নের কালোয়া অংশে ভয়াবহ ভাঙনে নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যেতে থাকে রক্ষাবাঁধ। বুধবার দুপুরে কয়া ইউনিয়নের কালোয়া এলাকা সরেজমিন ঘুরে এমন চিত্রই দেখা গেল। ধীরগতিতে এখনও ভাঙন চলছেই। প্রকল্প বাস্তবায়নে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান বাঁধ নির্মাণের সে কাজটি প্রায় ১ হাজার ৫০০ মিটার সম্পূর্ণ না করার ফলেই এমন ধসের সৃষ্টি হয়েছে। ফলে সরকারের ২০০ কোটি টাকাই পানিতে গেল। স্থানীয় কয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জিয়াউল ইসলাম স্বপন বলেন, রোববার দুপুরে কুঠিবাড়ি রক্ষাবাঁধের কয়া ইউনিয়নের কালুয়া অংশে হঠাৎ ভাঙন দেখা দেয়। মুহূর্তেই প্রায় ৫০ মিটার বাঁধ ভেঙে নদীগর্ভে চলে যায়। যেভাবে ভাঙন শুরু হয়েছে, তাতে মনে হচ্ছে কয়েক দিনের মধ্যে পুরো বাঁধ ভেঙে নদীগর্ভে চলে যাবে। এ বিষয়ে কুঠিবাড়ী রক্ষাবাঁধ প্রকল্পের পরিচালক প্রকৌশলী মনিরুজ্জামান জানান, কালোয়া এলাকার কিছু অংশ ভেঙে যাওয়ার সংবাদ পেয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ড কুষ্টিয়ার সব কর্মকর্তা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন এবং ক্ষতিগ্রস্ত অংশে তাৎক্ষণিক ভাঙন রোধে সেখানে জিও ব্যাগ ফেলা হচ্ছে।
নীলফামারী : নদীর এ-কূল ভাঙে ও-কূল গড়ে এটিই প্রকৃতির নিয়ম। আর প্রকৃতির এ নিয়মে নীলফামারীর ডিমলায় তিস্তা নদীর গর্ভে বিলীন হয়ে যাচ্ছে হাজার হাজার বিঘা আবাদি জমি ও ঘরবাড়ি। প্রতিদিন নদীগর্ভে আবাদি জমি ও ঘরবাড়ি বিলীনের আশঙ্কায় ভাঙন আতঙ্কে দিনাতিপাত করছেন তিস্তা পাড়ের মানুষ। ডিমলা উপজেলার টেপাখড়িবাড়ি ইউনিয়নের পাঁচটি গ্রামে তিস্তার ডান তীরে এসব আবাদি জমি বিলীন হয়ে যাচ্ছে। পাশাপাশি ঘরবাড়ি বিলীনে সর্বস্বান্তের আশঙ্কায় পড়েছেন তিস্তাপাড়ের মানুষ। স্পার কিংবা গ্রোয়েন বাঁধ দেওয়া না হলে কিছুতেই ঠেকানো যাবে না এ নদী ভাঙন। এমনটাই জানালেন স্থানীয় জনপ্রতিনিধিসহ এলাকার মানুষ। তিস্তা পাড়ের মানুষজন জানান, ডালিয়া পাউবো নদী ভাঙন রোধে দ্রুত ব্যবস্থা  গ্রহণ না করলে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে পড়বে তিস্তা রক্ষা গাইড বাঁধের তীরে থাকা গ্রোয়েন স্পার বাঁধগুলো। তিস্তাপাড়ের মানুষজন বাঁশের পাইলিং দিয়ে ভাঙন ঠেকানোর চেষ্টা করছেন। আর দুই হাত ভাঙলেই একমাত্র আশ্রয়স্থল বাড়িটি চলে যাবে নদীগর্ভেÑ এমন আশঙ্কা করছেন ৪নং গ্রোয়েন বাঁধসংলগ্ন ভাঙন আতঙ্কে থাকা গৃহবধূ আমেনা বেগম। টেপাখড়িবাড়ী ইউনিয়নের দক্ষিণ খড়িবাড়ী গ্রামের ক্ষতিগ্রস্ত তিস্তাপাড়ের গৃহবধূ লাইলী বেগম জানান, আমাগো জমি জায়গা সব গেছে নদীতে। ১২ বিঘা জমিতে আমন করেছি সেটাও শেষ। তিস্তায় ক্ষতিগ্রস্ত একই গ্রামের কৃষক আয়নাল হক জানান, আমারসহ প্রায় দুইশ’ থেকে আড়াইশ’ জনের সবার একই অবস্থা। তিস্তায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্য বেলাল হোসেন জানান, ইউনিয়নের পাঁচটি গ্রামের আবাদি জমি ও বাড়িঘর বিলীন হয়ে যাচ্ছে। সরকারকে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক আনোয়ার হোসেন ও ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকের স্ত্রী হামিদা বেগমসহ আরও অনেকে। এ প্রসঙ্গে টেপাখড়িবাড়ী ইউপি চেয়ারম্যান রবিউল ইসলাম সাহিন বলেন, আমি পানি উন্নয়ন বোর্ডের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের জানিয়েছি নদী ভাঙন রোধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য। 
উলিপুর : কুড়িগ্রামের উলিপুরে প্রায় ৮ কোটি টাকা ব্যয়ে ১ বছর আগে নির্মিত টি-বাঁধটি (গ্রোয়েন) তিস্তার ভাঙনের হুমকির মুখে পড়েছে। যেকোনো মুহূর্তে বিলীন হয়ে যেতে পারে ভ্রমণপিপাসুদের একমাত্র বিনোদন কেন্দ্রে গড়ে ওঠা টি-বাঁধটি। কুড়িগ্রাম পাউবো কর্তৃপক্ষ জিও ব্যাগে বালু ভর্তি করে ভাঙন রোধের চেষ্টা করছে। অভিযোগ উঠেছে, সম্প্রতি একটি চক্র ড্রেজার মেশিন দিয়ে বালু উত্তোলন করায় বাঁধের নিচের মাটি সরে যাওয়ায় টি-বাঁধটি ভাঙনের মুখে পড়েছে। জানা গেছে, ২০১৬-১৭ অর্থবছরে প্রায় ৭ কোটি ৮০ লাখ টাকা ব্যয়ে উপজেলার গুনাইগাছ ইউনিয়নের তিস্তার বাম তীর বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ রক্ষায় টি-হেড গ্রোয়েনটি নির্মাণ করা হয়। ২০১৭ সালের জুনে নির্মাণ কাজ শেষ হলে তা ধীরে ধীরে ভ্রমণপিপাসু মানুষের বিনোদন কেন্দ্রে পরিণত হয়। এ অবস্থায় টি-বাঁধটিকে ঘিরে প্রতিনিয়ত শত শত বিনোদনপ্রেমি বিভিন্ন বয়সের নারী-পুরুষ ভিড় জমাতে থাকে। ঘুরতে আসা অনেকের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, দেখার মতো তেমন কিছু না থাকলেও বিকালে গোধূলিলগ্ন যেন মানুষের মন ছুঁয়ে যায়। প্রকৃতির অপরূপ দৃশ্য যেন ক্রমেই তাদের মোহিত করে। বাঁধটি ভেঙে গেলে এ অঞ্চলের মানুষের বিনোদনের এ স্থানটি হারিয়ে যাবে। কুড়িগ্রাম পাউবোর উপ-সহকারী প্রকৌশলী আবুল কালাম জানান, আমরা গ্রোয়েনটি রক্ষায় জিও ব্যাগে বালুভর্তি করে ভাঙন থেকে রক্ষার চেষ্টা করছি। তবে হঠাৎ করে ভাঙন শুরু হওয়ায় আপৎকালীন প্রকল্পের মাধ্যমে কাজ করা হচ্ছে। 
স্থানীদের অভিযোগÑ তিস্তা নদীর ডান তীরে সোলার প্যানেলের একটি বিশাল প্রকল্পের কাজ শুরু হওয়ায় পানি গতিপথ পরিবর্তন করায় গ্রোয়েনটি ভাঙনের মুখে পড়েছে। এছাড়া টি-বাঁধটির সামনে আরও কয়েকটি গ্রোয়েন নির্মাণ করা হলে টি-বাঁধটি রক্ষা করা সম্ভব হবে। পক্ষান্তরে, সৌন্দর্য্যবর্ধন ও সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধি করতে কুড়িগ্রাম পাউবো কর্তৃপক্ষ প্রায় ৪০ লাখ টাকা ব্যয়ে গ্রোয়েনটির উপরিভাগ পাকাকরণের কাজ শুরু করেছে। গ্রোয়েনটি যেখানে ভাঙনের মুখে পড়েছে সেখানে এ মুহূর্তে পাকাকরণের অর্থ পানিতে যাবে বলে অনেকেই অভিযোগ করেছেন। টি-বাঁধের দায়িত্বপ্রাপ্ত পাউবোর উপ-সহকারী প্রকৌশলী নজরুল ইসলাম বলেন, ভাঙন রক্ষায় এখন পর্যন্ত ১৭৫ কেজি ওজনের বালুভর্তি ৬০০ জিও ব্যাগ ডাম্পিং করা হয়েছে। টি-বাঁধটি রক্ষায় প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। কুড়িগ্রাম পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী শফিকুল ইসলাম বলেন, আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। আমরা গ্রোয়েনটি রক্ষা করে আগামী শুষ্ক মৌসুমে সংস্কার কাজ করব।