আজকের পত্রিকাআপনি দেখছেন ৮-০৯-২০১৮ তারিখে পত্রিকা

সাপ-গিরগিটির সঙ্গে ক্যাফে আড্ডা

আলোকিত ডেস্ক
| শেষ পাতা

সরীসৃপে ভয় পান! গিরগিটি দেখলেই গা ঘিনঘিন করে! তার প্রতিকার কিন্তু রয়েছে। তবে বাংলাদেশে নয়। দেশের বাইরের এক ক্যাফেতে।
আনাচেকানাচে বিড়ালের আনাগোনা, এমন ক্যাফের অভাব নেই কম্বোডিয়ায়। সেগুলোকে ‘ক্যাট ক্যাফে’ বলা হয়। পোষ্যপ্রেমীদের কাছে বেশ জনপ্রিয় সেগুলো। সেখান থেকেই সরীসৃপ ও ইগুয়ানাদের নিয়ে ক্যাফে খুলতে অনুপ্রাণিত হন চি রেতি। যাতে গলায় সাপ জড়িয়ে, কোলে ইগুয়ানা নিয়ে সময়টা উপভোগ করতে পারেন মানুষ।
তার কথায়, ‘খামাখাই সাপখোপ, গিরগিটিতে ভয় পায় মানুষ। ওদের ভুল বোঝে। চা ও  কফি সহযোগে একবার আড্ডা দিয়ে দেখুন। ভয় কেটে যাবে। তখন আমার মতো ওদের ভালোবাসতে শিখবেন।’
৩২ বছরের চি, ক্যাফে সাজিয়েছেন মনের মতো করে। দেওয়ালে থরে থরে কাচের বয়াম সাজানো রয়েছে, তাতে আলো জ্বলছে। আর ভেতরে কু-লি পাকিয়ে শুয়ে আছে নানা রং ও আকারের সাপ। এক কোণে একটি বড় আমেরিকান কাকাতুয়াও রয়েছে। খাঁচার ভেতর থেকে নানা কথা বলে যাচ্ছে সে।
তাদের দেখতে টিকিট লাগে না। শুধু এক কাপ চা অর্ডার দিলেই হলো। কয়েক মিনিটের মধ্যেই অর্ডার টেবিলে হাজির হবে। সঙ্গে সদ্য বয়াম থেকে বের করা একটি সাপ। চায়ে চুমুক দিতে দিতে তার গায়ে হাত বুলিয়ে দিতে পারেন যে কেউ। কাঁধ বেয়ে উঠে গলায় ঝুলে পড়তে পারে সাদা পাইথনও।
সচরাচর এমন ক্যাফে চোখে পড়ে না। দেখা মিললেও অনেক সময় ঢুকতে ইতস্তত করে মানুষ। তাই ব্যবসা দাঁড় করাতে বেগ পেতে হচ্ছে ক্যাফের মালিক চি-কে। তবে ইদানীং নাকি লোকজনের আনাগোনা একটু বেড়েছে! বিশেষ করে মহিলাদের। গলায় সাপ পেঁচিয়ে নিজস্বী তুলতে ব্যস্ত থাকেন তারা। আরও বেশি লোক টানতে থাইল্যান্ড থেকে বিরল প্রজাতির সরীসৃপ খুঁজে নিয়ে আসছেন চি।
পশু অধিকার নিয়ে যারা সচেতন, তারা যদিও বনের পশুকে বনে রেখে আসার পক্ষে। তবে চি-র যুক্তি, মানুষের লালন পালনে বেড়ে উঠেছে তার ক্যাফের সরীসৃপগুলো। বন্য জীবনযাপন তাদের সইবে না। সূত্র : আনন্দবাজার পত্রিকা