আজকের পত্রিকাআপনি দেখছেন ৮-০৯-২০১৮ তারিখে পত্রিকা

ভারতীয় জাল রুপি তৈরির কারখানা রাজশাহীতে

রাজশাহী ব্যুরো
| শেষ পাতা

রাজশাহীতে ভারতীয় জাল রুপি তৈরির একটি কারখানার সন্ধান পায় র‌্যাব। নগরীর বোয়ালিয়া থানার বেলদারপাড়া এলাকার একটি বাড়িতে এ কারখানা গড়ে তোলা হয়েছিল। বৃহস্পতিবার রাতে ঢাকা থেকে র‌্যাব-২ এর একটি দল বাড়িটিতে অভিযান চালায়।
এ সময় ওই বাড়ি থেকে ১১ লাখ ভারতীয় জাল রুপি জব্দ করা হয়। এছাড়া জাল রুপি তৈরির মেশিনসহ নানা সরঞ্জামাদিও জব্দ করা হয়। এ সময় বাড়ির মালিক দরদুজ্জামান বিশ্বাস ওরফে জামানকেও (৫৭) গ্রেপ্তার করা হয়। র‌্যাব-৫ এর মিডিয়া উইং এ তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছে।
র‌্যাব জানায়, দেশে ভারতীয় জাল রুপি তৈরির মূলহোতা দরদুজ্জামান। এর আগেও একাধিকবার আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে ধরা পড়েছিলেন। সর্বশেষ জানুয়ারিতে রাজশাহী থেকেই তাকে গ্রেপ্তার করেছিল ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা শাখা (ডিবি)। তার কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ জাল রুপি ছাড়াও ল্যাপটপ, প্রিন্টার মেশিন, লেমিনেটিং মেশিন, হ্যালোজেন লাইট, স্ক্যানিং করার প্রিন্টার ফ্রেম, কাগজ, বিভিন্ন ধরনের কার্টিজ জব্দ করা হয়েছিল।
এরপর বেশ কিছুদিন কারাগারে ছিলেন দরদুজ্জামান। মাসখানেক আগে জামিন পান। ঢাকায় তার চক্রের সদস্যরা ধরা পড়ায় দরদুজ্জামান জাল রুপি তৈরির কার্যক্রম রাজশাহী মহানগরীর নিজ বাড়িতেই শুরু করেছিলেন। দরদুজ্জামানের গ্রামের বাড়ি চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলার শেখতোলায়। বাবার নাম রহিদুল ইসলাম।র‌্যাব সূত্রে জানা যায়, বারবার গ্রেপ্তার হলেও জাল রুপি তৈরি করে তা বাজারে ছড়িয়ে দিয়ে প্রতারণা করেন দরদুজ্জামান। তিনি দেশে জাল রুপি তৈরি চক্রের মূলহোতা। তিনি বাংলাদেশে ভারতীয় জাল রুপি তৈরির ‘গুরু’ হিসেবেও পরিচিত। তিনি ১৫ হাজার টাকার বিনিময়ে এক লাখ ভারতীয় জাল রুপির বান্ডিল বিক্রি করতেন। এভাবে তিনি বিপুল সম্পদের মালিক হয়েছেন।
সূত্র মতে, দরুদুজ্জামান ১৯৮৮ সাল থেকে বাংলাদেশি জাল টাকা এবং ভারতীয় জাল রুপি তৈরি করে আসছেন। তার চক্রটি ভারতের সীমান্তবর্তী এলাকায় জাল রুপি সরবরাহ করে। আর দরদুজ্জামান বরাবরই থাকেন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ‘মোস্ট ওয়ানটেড’ তালিকায়। তার নামে তিনটি মামলা আগে থেকেই ছিল। সর্বশেষ র‌্যাবের হাতে গ্রেপ্তার হওয়ার ঘটনায় আরও একটি মামলা হয়েছে।
বিষয়টি স্বীকার করে রাজশাহী নগরীর বোয়ালিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আমান উল্লাহ বলেন, বৃহস্পতিবার গভীর রাতে র‌্যাব দরদুজ্জামানকে জাল রুপি ও রুপি তৈরির নানা সরঞ্জামসহ থানায় হস্তান্তর করে। এ সময় প্রচলিত ধারায় তার বিরুদ্ধে র‌্যাবের পক্ষ থেকে একটি মামলাও করা হয়। শুক্রবার সকালে আসামিকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।