আজকের পত্রিকাআপনি দেখছেন ৮-০৯-২০১৮ তারিখে পত্রিকা

গত বছরের চেয়ে ২০ লাখ কেজি বেশি উৎপাদনের আশা

ফটিকছড়িতে চা উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ১২ মিলিয়ন কেজি

শানে আলম সজল, চট্টগ্রাম
| শেষ পাতা

ফটিকছড়ির একটি চা বাগানে চায়ের পাতা তোলার কাজে ব্যস্ত শ্রমিকরা -আলোকিত বাংলাদেশ

চট্টগ্রামের ২২টি চা বাগানের মধ্যে ফটিকছড়ি উপজেলায় রয়েছে ১৭টি। বহুমুখী পরিকল্পনার মাধ্যমে এসব চা বাগানের উৎপাদন দিন দিন বাড়ছে। সংশ্লিষ্টরা জানান, চট্টগ্রামের বাগানগুলোয় ২০১৭ সালে ১ কোটি কেজি চা উৎপাদন হয়েছে। তার মধ্যে ফটিকছড়ির চা বাগানগুলোয় উৎপাদন হয়েছে প্রায় ৮০ লাখ কেজি চা। ২০১৮ সালে ১২ মিলিয়ন বা ১ কোটি ২০ লাখ কেজি চা উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। সরেজমিন ফটিকছড়ির বেশ কয়েকটি চা বাগান ঘুরে দেখা যায়, বাণিজ্যিকভাবে বড় পরিসরে চা পাতার চাষ করা হচ্ছে; সেখানে হাজার হাজার শ্রমিক কাজ করছেন। অনেকে বেকার জীবনের ইতি টেনে চা বাগানে কাজ করছেন। 

চা বাগানগুলোয় নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ এবং গ্যাস সংযোগ পেলে উৎপাদন খরচ কমে চায়ের গুণগত মান আরও বাড়ত বলে মনে করেন বাগান মালিক ও ব্যবস্থাপকরা। গত মৌসুমে হেক্টরপ্রতি হালাদাভ্যালি চা বাগান বাংলাদেশের বাগানগুলোর মধ্যে চা উৎপাদনে প্রথম স্থান অর্জন করে। চা উৎপাদন নিয়ে বিভিন্ন বাগানের ব্যবস্থাপকদের সঙ্গে কথা হয়। ফটিকছড়ির নেপচুন চা বাগানের ব্যবস্থাপক কাজী এরফান উল্লাহ বলেন, এবারের উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ১১ লাখ ৫০ হাজার কেজি। ২০১৭ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত এ বাগানের উৎপাদন ছিল ১০ লাখ ৩৬ হাজার কেজি। চলতি বছরে ১৫ মে পর্যন্ত উৎপাদন দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৪৬ হাজার কেজি। এ বছর আমরা প্রায় সাড়ে ৩ হাজার একর জমিতে লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে প্রায় ১০ লাখ ৫০ হাজার কেজির চা উৎপাদনের জন্য কাজ করে যাচ্ছি।

টিকে গ্রুপের মালিকানাধীন বারমাসিয়া, এলাহী নূর ও রাঙ্গাপানি চা বাগানের পরিচালক বাবুল বিশ্বাস বলেন, ২০১৭ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত আমাদের তিনটি বাগানে উৎপাদিত চায়ের পরিমাণ ছিল প্রায় ১৯ লাখ কেজি। ২০১৮ সাল শেষে প্রায় ২৩ লাখ কেজি চা-উৎপাদনে উন্নীত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সে লক্ষ্যে আমরা কাজ করছি। আশা রাখি, আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে আমাদের টার্গেট পূরণ হবে। এশিয়ার বৃহত্তম ব্র্যাক কর্ণফুলী চা বাগানের ব্যবস্থাপক মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, ২০১৭ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত এ বাগানের চা উৎপাদন ছিল প্রায় ১৮ লাখ ৫০ হাজার ৯১৭ কেজি। চলতি বছরের  ডিসেম্বর পর্যন্ত ২০ লাখ কেজি চা উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধার্য করা হয়েছে। তিনি তাদের প্রায় ৩ হাজার একর জমির চা বাগান থেকে এ চা উৎপাদন করা হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন। 

হালদা ভ্যালি ও রামগড় চা বাগানের ঊর্ধ্বতন ব্যবস্থাপক মো. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, গত বছরের ডিসেম্বর পর্যন্ত হালদা ভ্যালি বাগানে ৮ লাখ ৮১ হাজার ও রামগড় চা বাগানে ৮ লাখ ১৩ হাজার কেজি চা উৎপাদন হয়েছে। চলতি বছরে উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ধার্য করা হয়েছে হালদা ভ্যালিতে ৯ লাখ ৫০ হাজার কেজি ও রামগড় চা বাগানে ৮ লাখ ৫০ হাজার কেজি। অতি ও অনাবৃষ্টি চা উৎপাদনে কিছু ক্ষতি করলেও আমরা নিজস্ব সেচ ব্যবস্থার মাধ্যমে মৌসুমের শুরু এবং শেষ সময়ে সেচ দেওয়ার কারণে দুই বাগানে বছর শেষে প্রায় ১৮ লাখ ৫০ হাজার কেজি উৎপাদন করার সম্ভাবনা রয়েছে। রামগড় ও হালদা ভ্যালীর মালিক লায়ন্স নাদের খান বলেন, চট্টগ্রামের বাগানগুলোতে উচ্চ ফলনশীল বিটি-২ জাতের চারা থেকে ভালো ফলন পাওয়া যাচ্ছে। তাই গত বছরের তুলনায় এ বছর ৩০ শতাংশ চা বেশি উৎপাদন হওয়ার সম্ভবনা রয়েছে। গত মৌসুমে আমরা বাংলাদেশের মধ্যে হেক্টরপ্রতি চা উৎপাদনে প্রথম স্থান অর্জন করেছি।  
এ ব্যাপারে চট্টগ্রাম চা সংসদের সভাপতি ও আছিয়া চা বাগানের জ্যেষ্ঠ ব্যবস্থাপক মো. মমতাজ উদ্দিন মন্টু বলেন, বৃহত্তর চট্টগ্রামের ২২টি বাগানে ২০১৭ সালে আমরা এক কোটি কেজি চা উৎপাদন করতে সক্ষম হয়েছি। চলতি বছরে ১ কোটি ২০ লাখ কেজি চা উৎপাদনের লক্ষ্য নিয়ে কাজ করে যাচ্ছি। পর্যাপ্ত বৃষ্টি চা উৎপাদনের জন্য উপযোগী হলেও এ বছর সময়মতো বৃষ্টি না হওয়ায় একটু ক্ষতি হয়েছে। পল্লী বিদ্যুতের সর্বোচ্চ বিল এবং নিয়মিত বিল পরিশোধকারী হচ্ছে চা বাগানগুলো। কিন্তু সে তুলনায় ফটিকছড়ির বিদ্যুৎ ব্যবস্থা খুবই খারাপ। সিলেট অঞ্চলে চা বাগানে গ্যাস সংযোগ পেয়েছে। তাদের উৎপাদন খরচ পড়ে কম। আর আমাদের ডিজেল মেশিনে উৎপাদন খরচ পড়ে বেশি। তাই গ্যাস সংযোগ পেলে আমরা এ শিল্পের চমক দেখাতে পারব।