আজকের পত্রিকাআপনি দেখছেন ৮-০৯-২০১৮ তারিখে পত্রিকা

কমেছে কাঁচামরিচের দাম

আমদানি পেঁয়াজের দামও নিম্নমুখী

নিজস্ব প্রতিবেদক
| শেষ পাতা

দুই মাসের বেশি সময় ধরে ঊর্ধ্বমুখী থাকার পর কাঁচামরিচের দাম নিম্নমুখী হতে শুরু করেছে। সপ্তাহের ব্যবধানে মরিচের দাম কমেছে ২০ টাকার মতো। একইসঙ্গে নিম্নমুখী হয়েছে আমদানি করা পেঁয়াজের দামও। অন্য নিত্যপণ্যের দাম প্রায় স্থির রয়েছে। শুক্রবার রাজধানীর বিভিন্ন বাজারে খুচরায় প্রতি কেজি কাঁচামরিচ বিক্রি হয়েছে ৪০ থেকে ৫০ টাকা, যা গত সপ্তাহেও ৭০ থেকে ৮০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। ঈদের আগে প্রতি কেজি কাঁচামরিচের দাম ছিল ১০০ থেকে ১২০ টাকা। সেই হিসাবে মাসের ব্যবধানে দাম কমেছে প্রায় অর্ধেক। পাইকারি বাজারে প্রতি কেজি মরিচ বিক্রি হয়েছে ৩০ থেকে ৩৫ টাকায়। এর আগে জুলাইয়ের শুরু থেকেই বাড়তে থাকে কাঁচামরিচের দাম। এক পর্যায়ে খুচরা বাজারে প্রতি কেজি মরিচের দাম ১৫০ থেকে ১৬০ টাকা পর্যন্ত ওঠে।

ফার্মগেটের সবজি বিক্রেতা আবদুল জলিল জানান, মূলত বৃষ্টি ও সরবরাহ সংকটের কারণেই কাঁচামরিচের দাম বেড়েছিল। কয়েক দিনে অবস্থার পরিবর্তন হয়েছে। তাছাড়া দেশের বিভিন্ন এলাকায় আবাদ হওয়া মরিচও বাজারে আসতে শুরু করেছে। তাই বাজারে সরবরাহ ভালো, দামও কমেছে। তিনি জানান, সামনে শীত মৌসুম শুরু হচ্ছে; কৃষকরা আগাম আবাদও শুরু করেছেন। তাই ধীরে ধীরে মরিচ, পেঁয়াজসহ সব ধরনের সবজির দাম আরও কমে আসবে।
এদিকে ঈদের আমেজ কাটিয়ে রাজধানীর বাজারগুলোয় পুরোপুরি ক্রেতাসমাগম শুরু হয়েছে; ক্রেতা-বিক্রেতার ব্যস্ততা বেড়েছে। ব্যস্ত এ বাজারে আমদানি করা পেঁয়াজের দামও নিম্নমুখী রয়েছে। গেল সপ্তাহে কেজিতে ৫ টাকার মতো কমে প্রতি কেজি দেশি পেঁয়াজ বিক্রি হয়েছিল ৫৪ থেকে ৫৫ টাকায়, যা এ সপ্তাহেও একই রয়েছে। অপরদিকে শুক্রবার আমদানি করা ভারতীয় বড় আকারের পেঁয়াজ কেজিতে ৫ টাকার মতো কমে বিক্রি হয়েছে ২৫ থেকে ৩২ টাকায়।
সবজির মধ্যে খুচরা বাজারে প্রতি কেজি করলা ৪০ থেকে ৪৫ টাকা, ঢ্যাঁড়স ২৫ থেকে ৩০, বেগুন ৩৫ থেকে ৪০, চিচিঙ্গা, পটোল ও ধুন্দল ৩৫ থেকে ৪০, বরবটি ৪৫ থেকে ৫০, শসা ৩৫ থেকে ৪০ এবং আলু ২২ থেকে ২৫ টাকায় বিক্রি হয়েছে। তবে বেশি দামের সবজির মধ্যে রয়েছে প্রতি কেজি টমেটো ৮০ থেকে ৯০, গাজর ৮০ থেকে ১০০, শীতের আগাম সবজি শিম ১০০ থেকে ১২০ টাকা, প্রতিটি ছোট আকারের ফলুকপি ও পাতাকপি ৩০ থেকে ৩৫ টাকা।
মাংসের বাজার গেল সপ্তাহের দরেই স্থির রয়েছে। এর মধ্যে প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগি ১২৫ থেকে ১৩০ টাকা, ডিমপাড়া লেয়ার মুরগি ২২০ থেকে ২৩০ টাকা, গরুর মাংস ৪৮০ থেকে ৫০০ টাকা, খাসি ৭৫০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। খুচরায় প্রতি হালি লাল ডিম বিক্রি হয়েছে ৩৩ থেকে ৩৪ টাকায়।
মুদিপণ্যে মধ্যে গেল সপ্তাহে বেড়ে যাওয়া আদা এ সপ্তাহেও বিক্রি হচ্ছে প্রতি কেজি ১০০ থেকে ১৫০ টাকায়। এর মধ্যে দেশি আদা ১০০ থেকে ১২০ এবং আদমানি করা বড় ও মোটা আদা ১৪০ থেকে ১৫০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। এছাড়া দেশি রসুন ৬০ থেকে ৬৫ টাকা, বড়দানার মসুর ডাল ৬০ থেকে ৬৫, দেশি ও ছোট দানার ডাল ৯০ থেকে ১০০, মানভেদে মুগ ডাল ৯০ থেকে ১৫০, প্যাকেট আটা ৩৬ টাকা (১ কেজি), খোলা আটা ৩২, প্রতি লিটার খোলা সয়াবিন তেল ৮৫ থেকে ৮৮, খোলা পামওয়েল ৭০ থেকে ৭৫ টাকা এবং বিভিন্ন কোম্পানির বোতলজাত তেল প্রতি লিটার ১০৫ থেকে ১০৮ টাকায় বিক্রি হয়েছে।