আজকের পত্রিকাআপনি দেখছেন ৮-০৯-২০১৮ তারিখে পত্রিকা

আজ আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবস

নিজস্ব প্রতিবেদক
| শেষ পাতা

আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবস আজ। এ উপলক্ষে সারা দেশে বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোতে নানা কর্মসূচি পালনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। দিবসের এবারের প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে, ‘লিটারেসি অ্যান্ড স্কিল্স ডেভেলপমেন্ট’ এবং স্লোগান হচ্ছে ‘সাক্ষরতা অর্জন করি, দক্ষ হয়ে জীবন গড়ি’। রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এ উপলক্ষে পৃথক বাণী দিয়েছেন। 
রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ বাণীতে বলেছেন, জ্ঞাননির্ভর অর্থনীতি ও প্রযুক্তিনির্ভর বিশ্বে কোনো জাতির উন্নয়নে সাক্ষরতার বিকল্প নেই। শিক্ষা জ্ঞান অর্জনের মূল ভিত্তি, আর সাক্ষরজ্ঞান এর প্রাথমিক সোপান। সাক্ষরতার মাধ্যমে জ্ঞান অর্জনের দ্বার উন্মুক্ত হয়, যা জীবনব্যাপী শিক্ষার সুযোগ তৈরি করে। তাই সাক্ষরতা অর্জন দেশের মানবসম্পদ তৈরির প্রথম ধাপ। এবারের আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবসের মূল প্রতিপাদ্য এবং  যে সেøাগান নির্ধারণ করা হয়েছে যা অত্যন্ত যুগোপযোগী এবং এ আয়োজনের সঙ্গে সংগতিপূর্ণ।
রাষ্ট্রপতি আরও বলেন, বর্তমান সরকার দেশের শিক্ষা, সাক্ষরতা ও দক্ষতা উন্নয়নের লক্ষ্যে নিরলস কাজ করে যাচ্ছে। বিশেষ করে রূপকল্প ২০২১, গ্লোবাল এসডিজি ও সপ্তম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা বাস্তবায়নের মাধ্যমে দেশ থেকে নিরক্ষরতা দূরীকরণে সরকার অঙ্গীকারবদ্ধ। সে লক্ষ্যে সরকার বাধ্যতামূলক প্রাথমিক শিক্ষা, বিনামূল্যে পাঠ্যপুস্তক বিতরণ, শিক্ষক উন্নয়ন, বিদ্যালয়ের অবকাঠামো উন্নয়ন, শতভাগ উপবৃত্তি কার্যক্রম, স্কুল ফিডিংসহ নানা কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। 
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার বাণীতে বলেছেন, ১৯৭২ সালে স্বাধীন বাংলাদেশে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে প্রথম আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবস উদযাপিত হয়। এবারের প্রতিপাদ্যের আলোকে বাংলাদেশে এ বছরের মূল সেøাগান ‘সাক্ষরতা অর্জন করি, দক্ষ হয়ে জীবন গড়ি’ যা অত্যন্ত সময়োপযোগী। দেশের সার্বিক উন্নয়ন ও অগ্রগতির জন্য শিক্ষিত ও দক্ষ মানবসম্পদ অপরিহার্য। আওয়ামী লীগ সরকার দেশের নিরক্ষর জনগোষ্ঠীকে স্বাক্ষরজ্ঞান দেওয়ার লক্ষ্যে ‘মৌলিক সাক্ষরতা প্রকল্প (৬৪ জেলা)’ বাস্তবায়ন করছে। এর মাধ্যমে দেশের ১৫ থেকে ৪৫ বছর বয়সি ৪৫ লাখ নিরক্ষর নারী-পুরুষ সাক্ষরতা অর্জন করবে। এর পাশাপাশি, বিদ্যালয় থেকে ঝরে পড়া ও নব্য সাক্ষরজ্ঞান সম্পন্ন মানুষদের বিভিন্ন বৃত্তিমূলক দক্ষতা প্রশিক্ষণ কর্মসূচিতে সংযোগ করার মাধ্যমে দক্ষ মানবসম্পদে পরিণত করার লক্ষ্যে পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। বর্তমান সরকারের নিরন্তর প্রচেষ্টায় বিগত এক দশকে সাক্ষরতার হার ২৮.১২ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে বর্তমানে ৭২.৯ শতাংশে উন্নীত হয়েছে।
১৯৬৫ সালের নভেম্বরের ১৭ তারিখে ইউনেস্কো ৮ সেপ্টেম্বরকে আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবস ঘোষণা করে। ব্যক্তি, গোষ্ঠী ও সমাজের মধ্যে শিক্ষার প্রয়োজনীয়তা ও তাৎপর্য তুলে ধরার লক্ষ্যে এ দিবসটি নির্ধারণ করা হয়। ১৯৬৬ সালে বিশ্বে প্রথম আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবস পালন করা হয়। 
সাক্ষরতা দিবস উপলক্ষে আজ সকাল সাড়ে ৯টায় রাজধানীর শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় নাট্যশালায় উদ্বোধনী অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী মোস্তাফিজুর রহমান ফিজার প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন। এ দিবস উপলক্ষে সকাল ৮টায় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার থেকে শিল্পকলা একাডেমি পর্যন্ত এক বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রারও আয়োজন করা হয়েছে। শোভাযাত্রায় শিক্ষক ও কর্মকর্তারা উপস্থিত থাকবেন।