আজকের পত্রিকাআপনি দেখছেন ৮-০৯-২০১৮ তারিখে পত্রিকা

নারায়ণগঞ্জ বিএমএ ইকবাল-দেবাশীষ পরিষদ জয়ী পূর্ণ প্যানেলে

নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি
| শেষ পাতা

বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশন (বিএমএ) নারায়ণগঞ্জ জেলার নির্বাচনে ২৩ সদস্যের পূর্ণ প্যানেলে জয়ী হয়েছেন স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদ (স্বাচিপ) মনোনীত ইকবাল বাহার ও দেবাশীষ সাহার নেতৃত্বের প্যানেল। শুক্রবার ৭ সেপ্টেম্বর ভোরে প্রকাশিত ফলে এ তথ্য পাওয়া যায়।
জানা যায়, বৃহস্পতিবার ৬ সেপ্টেম্বর উৎসবমুখর পরিবেশে সকাল ১০টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত বিরতিহীনভাবে ভোট গ্রহণ চলে। রাত সাড়ে ১১টা থেকে প্রায় এক ঘণ্টা ভোটকেন্দ্রস্থল চাষাঢ়া রাইফেল ক্লাবে দুই প্যানেলের লোকজনের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় ভোট গণনা বন্ধ থাকার পরে আবারও গণনা শুরু হয়। এ সময় সোহেল-নিজাম পরিষদের প্রার্থীরা ভোটকেন্দ্র ও গণনাস্থল রাইফেল ক্লাব ত্যাগ করেন। পরে শুক্রবার ভোর ৬টায়  ফল ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশন। 
নির্বাচনে ৩৮৭ ভোটের মধ্যে ৩১৫টি ভোট কাস্ট হয়। এর মধ্যে সভাপতি পদে ইকবাল বাহার পেয়েছেন ১৮৫ ভোট। প্রতিদ্বন্দ্বী স্বতন্ত্র প্রার্থী ডা. শাহনেওয়াজ পেয়েছেন ১২৬ ভোট। সেক্রেটারি পদে দেবাশীষ সাহা পেয়েছেন ২১১ ভোট। প্রতিদ্বন্দ্বী নিজাম আলী পেয়েছেন ১০৪ ভোট। 
সহ-সভাপতি পদের হাড্ডাহাড্ডি লড়াইতে ইকবাল ও দেবাশীষ প্যানেলের গোলাম মোস্তফা পেয়েছেন ১৩৯ ভোট ও বিধান চন্দ্র পোদ্দার পেয়েছেন ২০০ ভোট। প্রতিদ্বন্দ্বী আতিকুজ্জামান সোহেল পেয়েছেন ১৩০ ভোট ও হাফিজুর রহমান পেয়েছেন ১৩৭ ভোট।
যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সামসুদ্দোহা সঞ্চয় পেয়েছেন ১৭৫ ভোট। তার প্রতিদ্বন্দ্বী অলক কুমার সাহা পেয়েছেন ১৩৭ ভোট। কোষাধ্যক্ষ শেখ ফরহাদ পেয়েছেন ২১১ ভোট। তার প্রতিদ্বন্দ্বী আশীষ কুমার দে ৯৯ ভোট। সাংগঠনিক সম্পাদক সাখাওয়াত হোসেন পেয়েছেন ২০৯ ভোট। তার প্রতিদ্বন্দ্বী সাংগঠনিক সম্পাদক ইফতেখার আলম পেয়েছেন ১০৩ ভোট। বিজ্ঞানবিষয়ক সম্পাদক কুমার তানসেন পেয়েছেন ২০২ ভোট। তার প্রতিদ্বন্দ্বী আরিফুর রহমান ১০৮ ভোট। দপ্তর সম্পাদক ইউসুফ সরকার ২১১ ভোট। তার প্রতিদ্বন্দ্বী সাইফুল ইসলাম ১০১ ভোট। প্রচার ও জনসংযোগ সম্পাদক কামরুল আশরাফ ১৮৩ ভোট। তার প্রতিদ্বন্দ্বী হাসান আলী আরাফাত ১২৮ ভোট। সমাজকল্যাণ সম্পাদক অমিত সরকার ২০৫ ভোট। তার প্রতিদ্বন্দ্বী দেবব্রত ঘোষ ১০৫ ভোট। সংস্কৃতি ও আপ্যায়নবিষয়ক সম্পাদক আমিনুর রহমান ২৪৪ ভোট। তার প্রতিদ্বন্দ্বী শ্রেয়সী রানী সাহা ৬৫ ভোট। গ্রন্থাগার ও প্রকাশনা সম্পাদক জহিরুল হক ১৯৮ ভোট। তার প্রতিদ্বন্দ্বী আবদুল মালেক ১০৯ ভোট পেয়েছেন। 
ইকবাল-দেবাশীষ প্যানেলে সদস্য পদে জাহাঙ্গীর আলম ২২৬ ভোট, জিএম ফরিদ ২৪৩ ভোট, অনিরুদ্ধ ভট্টাচার্য ১৭৬ ভোট, এবিএম জহিরুল কাদের ভূইয়া ১৮৫ ভোট, তানভীর আহমেদ চৌধুরী ২০৯ ভোট, আমির হোসেন ১৮৭ ভোট, তনয় কুমার সাহা ২০২ ভোট, মতিয়ার রহমান ১৮৩ ভোট, আবু শাহেদ শুভ ১৮৯ ভোট ও মোহাম্মদ মফিজ উদ্দিন ১৭৯ ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছেন। সোহেল নিজাম আলীর প্যানেলের সদস্য পদে টিআইএম নুরুন্নবী ১২৫ ভোট, ক্যাপ্টেন (অব.) আবুল ফাতান ১১৭ ভোট, অনিল কুমার বসাক ১২৪ ভোট, মুহাম্মদ মাহবুব হোসেন ১০৮ ভোট, আল ওয়াজেদুর রহমান ৬১ ভোট, পলক কুমার মহন্ত ৯৭ ভোট, আবদুর রব ৭৯ ভোট, মো. মাসুদুজ্জামান ৮৮ ভোট, মোহাম্মদ মোস্তাফিজুর রহমান ১০০ ভোট ও সিনথিয়া তাসনিম ১০০ ভোট।
জানা যায়, এবারের নির্বাচনে দুটি প্যানেল অংশ নেয়। ইকবাল বাহার ও দেবাশীষ সাহার ২৩ জনের প্যানেলের বিপরীতে সভাপতি ছাড়া প্যানেল করে সহ-সভাপতি আতিকুজ্জামান সোহেল ও সেক্রেটারি নিজাম আলীর নেতৃত্বে। সভাপতি হিসেবে ডা. শাহনেওয়াজের ওই প্যানেল থেকে নির্বাচন করার কথা থাকলেও তিনি পরে স্বতন্ত্র নির্বাচনে অংশ নেন। তবে স্বতন্ত্র থাকা ডা. শাহনেওয়াজ অন্তরালে এ প্যানেলের অধিভুক্ত ছিলেন। বিএমএ নারায়ণগঞ্জ শাখার নির্বাচনে দীর্ঘ ২৫ বছর পর ডাক্তাররা ভোট দেওয়ার সুযোগ পান। সর্বশেষ ভোট হয়েছিল ১৯৯৩ সালে। দুই যুগে বহুবার নির্বাচন হলেও ভোট প্রদানের কোনো সুযোগ ছিল না। প্রার্থীরা সবাই বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছিলেন।